‘মাশরাফির বিদায় যেন অন্যদের মতো না হয়’

ইশতিয়াক পারভেজ,লর্ডস থেকে

ইংল্যান্ড থেকে ৬ জুলাই ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০৮

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (১৯৯৭) আকরাম খানের হাত ধরেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। কিন্তু ১৯৯৯-এ বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।  দেশকে স্বপ্নের পথ দেখানো অধিনায়ককে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল বেশ বাজেভাবে। এরপর বুলবুলের বিদায়টাও ভালো হয়নি। এমনকি ফারুক আহমেদ, দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় থেকে  শুরু করে সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনসহ প্রায় সব ক্রিকেটারের বিদায় নিয়ে আছে নানা আক্ষেপ। দলের জন্য অনেক অবদান রেখেও ক্রিকেট বোর্ড থেকে বিদায় বেলাতে পায়নি অনেকেই প্রাপ্য সম্মানটুকু। তাই প্রশ্ন আসছে টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের বিদায় কেমন হবে! হ্যাঁ, বলছি মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা। গতকালই ইংল্যান্ডে নিজের শেষ বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তার আগেই গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে পাকিস্তানের বিপক্ষেই কি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
প্রশ্ন রয়েছে তিনি কি এখানে বিদায় বলে দিবেন ক্রিকেটকে? সেই সঙ্গে আড়ালে আবডালে প্রশ্ন আছে কতটা সম্মান নিয়ে বিদায় নিবেন এই অধিনায়ক! বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার, সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল হক প্রার্থনা করেন মাশরাফির বিদায় যেন অন্যদের মতো না হয়। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের ম্যাচ দেখতে এসে তিনি বলেন, ‘ও (মাশরাফি) যা দিয়েছে তা যেন আমরা ভুলে না যাই। হ্যা, এই  বিশ্বকাপে  সে হয়তো ভালো খেলেনি। কিন্তু তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই ভুল। আর অবসর নিবে কি নিবে না সেটি ওর উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। আমি মনে প্রাণে প্রার্থনা করি তার বিদায় যেন আগের সবার মতো না হয়। অশ্যই যেন সেরা সম্মানটি সে পায়’
মাশরাফির বিদায়ের কথা উঠতেই  সৈয়দ আশরাফুল হককে কিছুটা বিষন্নই মনে হলো। ফিরে গেলেন যেন পুরানো দিনে। বলেন, ‘দেখেন আমি যখন ক্রিকেট ছাড়ি আমার মনে হয়েছিল আর পারবো না। তাহলে কেন দলের জায়গা ধরে রাখবো। আমার সঙ্গে  যারা খেলতো তারা অবাক হয়েছিলেন। বলেছে, তুমিতো আরো দুই তিন বছর খেলতে পারবে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে অন্যদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেই। ঠিক এভাবেই ক্রিকেটারদেরও নিজের দায়িত্ব থাকতে হবে সময় মতো বিদায় বলে দেয়ার। সেই সঙ্গে বোর্ডেরও উচিত তাদের সম্মান দিয়েই মাঠ থেকে বিদায় বলা। এটি প্রতিটি দেশের ক্রিকেটেই রীতি। মাশরাফির যে অবদান সেই সম্মানতো তাকে না দিলে পরে সবার জন্য বাজে উদহারণ হয়ে থাকবে।’
গতকাল লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিলাম বাংলাদেশ দল। এর আগে অবশ্য ভারতের কাছে হেরে শেষ হয় তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন। টাইগারদের এই বিশ্বকাপ মূলায়ন করতে গিয়ে আশরাফুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি ভালো হয়েছে। কিছু কিছু ভুল ছিল আর কিছুটা ভাগ্যের অসহযোগিতা। যেমন নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে আরো একটু মনোযোগী হলে ভালো খেললে আমরা জিততে পারতাম। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের বড় ভুল হয়ে গেছে। আরো একটু চেষ্টা থাকা দরকার ছিল। তবে যা খেলেছে তাতে হতাশ হওয়ার মতো কিছু নেই। আমি খুশি ওদের খেলায়।’
এছাড়াও তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানসহ দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার হতাশ নন। তিনি বলেন, ‘একটা বিশ্বকাপে বা টুর্নামেন্টে সবাই ভালো খেলবে না। তামিম পারেনি, সেটি এমন নয় যে ইচ্ছা করেই করেছে সে। আবার সাকিবের কাছেতো আমরা এত কিছুর আশা করিনি। কিন্তু সে করেছে, রেকর্ড গড়েছে। মাশরফিও চেষ্টা করেছে পারেনি। মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহও বড় অবদান রাখতে পারেনি। তবে আমি মনে করি তারা চেষ্টা করেছে। এই বিশ্বকাপেই দেখেন এখন পর্যন্ত সবাই কি সফল হতে পেরেছে?’
অন্যদিকে দলের তরুণদের নিয়ে বেশ আশাবাদি এই ক্রিকেট সংগঠক। তিনি বলেন, ‘দেখেন সাইফুদ্দিন, মোস্তাফিজ, মিরাজ, দারুণ করেছে।  সৌম্য , লিটন ও সাব্বিররা ধারাবাহিক না হলেও ওদের সামনে আরো অনেক সুযোগ আছে নিজেদেরকে আরো ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। ওদের ক্ষমতা আছে সিনিয়র যারা চলে যাবে তাদের ওভাব পূরণ করার। তবে হ্যা, মাশরাফি, সাকিব, তামিমরা চলে গেলে তাদের বিকল্প হয়ে উঠতে নতুনদের সময় লাগবে। তবে বিশ্বাস করি এখন যারা আছে, তারা পারবে। আর নতুন নতুন ক্রিকেটারও আসবে।’ মাশরাফির প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ‘ও দারুন একজন ক্রিকেটার। এই দেশকে অনেক দিয়েছে। তাই ওর বিদায় নিয়ে এত কথা না বলে আমি বলবো সিদ্ধান্ত ওর উপরই ছাড়া হোক। আমার বিশ্বাস মাশরাফি যে সিদ্ধান্ত নিবে তা ভালোই হবে।’

আপনার মতামত দিন



ইংল্যান্ড থেকে অন্যান্য খবর

ব্যাটে-বলে সেরা যারা

১৬ জুলাই ২০১৯



ইংল্যান্ড থেকে সর্বাধিক পঠিত