নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ

হয়রানিতে সতর্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রথম পাতা

মিজানুর রহমান | ১৬ জুন ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৮
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত অভিযোগ কমিটির কার্যপরিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পররাষ্ট্র সচিব, মহাপরিচালক লিগ্যাল ও গবেষণা অনুবিভাগ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের  দপ্তর এবং সংস্থাপন সংশ্লিষ্ট পরিচালকগণসহ মন্ত্রণালয়, ফরেন সর্ভিস একাডমী এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে কর্মরত সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বরাবর বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানী প্রতিরোধসহ নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ এবং নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় ২০০৮ সালের ৭ই  আগস্ট দায়েরকৃত জনস্বার্থমূলক মামলার (নং-৫৯১৬/২০০৮) প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন তার আলোকেই ওই অভিযোগ কমিটি গঠন এবং এর কার্যপরধি চূড়ান্তকরণের সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তির সূচনাতে উল্লেখ রয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ওই ‘গণবিজ্ঞপ্তি’ জারির মাধ্যমে গবেষণা অনুবিভাগের তরফে আগে জারি হওয়া যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযোগ কমিটি গঠন সংক্রান্ত আদেশগুলোর প্রতি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান প্রশাসনের অনাপত্তি প্রকাশের পাশাপাশি ওই কমিটি কোন কেস গ্রহণ করতে পারবে আর কোনটি পারবে না তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হলো।

ঘোষিত কমিটি দুনিয়ার যে কোন প্রান্তে নিপীড়নের শিকার যে কোন বাংলাদেশী নারীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিলের যে সূযোগ রেখেছিল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এবং বিজ্ঞপ্তি জারির মধ্য দিয়ে সেটি রহিত হলো। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান প্রশাসন এবং স্বতন্ত্র ওই কমিটির মধ্যে সমন্বয় সাধনও হলো, প্যারালাল অ্যাডমিনিট্রেশন হওয়ার আশঙ্কায় যেটি জরুরি ছিল। প্রশাসনিক নতুন সিদ্ধান্ত এবং জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এটা স্পষ্ট যে মন্ত্রণালয়ে চলমান নারী নির্যাতন বিরোধী মামলা বা তদন্তাধীন বিষয় ওই কমিটির এখতিয়ারভুক্ত হবে না।
এ কমিটি মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন সংস্থা ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশসসমূহে বা কর্মস্থলে সংঘঠিত যে কোন নারী নিপীড়ন ও যৌন নির্যতনের ঘটনার অভিযোগ গ্রহণ করবে।

কমিটি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতিক্রমে তদন্ত পরিচালনা করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেবে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ প্রয়োজনে অধিকতর তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কোন্‌টি নারী নিপীড়ন আর কোন্‌টি যৌন নির্যাতন সেই সংজ্ঞা এ নিয়ে উচ্চ আদালত প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট যে গাইডলাইন রয়েছে তার আলোকেই নির্ধারিত হবে। কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে সর্বনিম্ন ৫, তবে অধিকাংশ সদস্য হতে হবে নারী। মন্ত্রণালয় কিংবা বিদেশস্থ বাংলদেশ মিশনে কর্মরত যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কমিটির কাছে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটার ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে পরবেন। ভিকটিম নিজে অভিযোগ দায়েরে অসমর্থ হলে তার পক্ষে পরিবার, বন্ধু কিংবা আইনজীবি মরফত অভিযোগ দায়ের করা যাবে।  ই-মেইলেও অভিযোগ পাঠানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর কমিটি স্বতন্ত্রভাবে এটি তদন্ত করবে। গৃহীত কার্যপরিধিতে কমিটিকে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে যে, কোন মিথ্যা, তঞ্চকতা বা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে উত্থাপিত অভিযোগের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীও যেন হয়রানীর শিকার না হন, সে বিষয়ে কমিটিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তদন্ত কার্যক্রমের বিস্তারিততে বলা হয়েছে- অভিযোগ আসেনি, কিন্তু তদন্তে নিপীড়নমূলক আচরণের তথ্য পাওয়া গেছে বা নিপীড়নের সহায়তা কিংবা প্রণোদনাকারী হিসাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে অন্য এমন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধেও কমিটি শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। ভিকটিমের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানে কতৃপক্ষের কাছে কমিটি যে কোন সুপারিশ করতে পারবে। তদন্তকালে সংক্ষুব্দ বা ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত এবং দাপ্তরিক সম্মান রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের পরিচয়ও গোপন রাখতে হবে। কমিটির প্রধান বা কোন সদস্য বিদেশে পোস্টিং বা পাদায়ন হলে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান অন্য কোন নারী কর্মকর্তাকে কমিটি প্রধান বা সদস্য হিসাবে মানোনয়ন দিতে পারবেন।

কমিটি প্রধানের অনুপস্থিতেতে অন্য সদস্য (কমিটিভূক্ত) ফোকাল পয়েন্ট হিসাবে কমিটি প্রধান কর্তৃক মনোনীত হবেন। কমিটির সদস্যদের সংখ্যাধিক্যের মতৈক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সুপারিশ করা যাবে। কমিটির সদস্যের মতানৈক্যের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর সুপারিশসহ ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধানের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। উপযুক্ত কারণ থাকলে রিপোর্ট জমার সময়সীমা ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। যথাযথ কতৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে কমিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জাতীয় নারী নীতিতে সুপারিশ এবং মতামত প্রেরণ করতে পারবে। কমিটি যথাযথ কর্তৃপেক্ষর কাছে তাদের কার্যক্রমের খতিয়ান উল্লেখপূর্বক একটি বাৎসরিক প্রতিবেদনও জমা  দিবে। কমিটির কার্যক্রমের ব্যয় বহন করবে মন্ত্রণালয়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হচ্ছে

ব্যবস্থা চান বিশিষ্টজনরা

কেলেঙ্কারি-জালিয়াতিতে ডুবছে ২২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

ত্রাণ-আশ্রয়ের জন্য ছুটছে মানুষ

ডেঙ্গু রোগীদের ৮০ ভাগই শিশু

ঢাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

‘জনগণকে নিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে’

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিএসটিআই পরিচালকের অপসারণ দাবি

ছেলেধরা সন্দেহে তিন জনকে পিটিয়ে হত্যা

রংপুর-৩ সদর শূন্য আসন নিয়ে আলোচনার ঝড়

পশ্চিমবঙ্গেও চালু হলো এনআরসি!

পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইল নেশা সিলেটের এহিয়ার

গণপিটুনিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে

রাঘববোয়ালদের নিয়ে কাজ করতে সমস্যা হয়

মাদ্রাসাছাত্রীকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা

ভারতের কৌশল ধ্বংস করছে সার্ককে