ভারতে মুসলিম তরুণের টুপি খুলে ‘জয় শ্রী রাম’ গাইতে বাধ্য করার অভিযোগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২৭ মে ২০১৯, সোমবার
ভারতে নয়া দিল্লির গুরুগ্রাম শহরে এক মুসলিম তরুণের মাথার টুপি খুলে নিয়ে তাকে জয় শ্রী রাম গাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ওই তরুণ তখন মসজিদ থেকে ফিরছিলেন। শনিবার রাতে গুরুগ্রামের সদর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ খবর দিয়েছে দ্য হিন্দুস্থান টাইমস।

হয়রানির শিকার হওয়া ওই মুসলিম তরুণের নাম মোহাম্মদ বরকত আলম (২৫)। তিনি জানান, তিনি শনিবার তারাবির নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একদল অচেনা ব্যক্তি তাকে আটকিয়ে তার মাথার টুপি খুলে নেয় ও তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় ভারত মাতা কি জয়’ গাইতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
তবে অভিযোগে স্লোগান গাওয়ার অংশটুকু উল্লেখ করা হয়নি।

আলম দিন কয়েক আগেই বিহারের বেগুসারাই থেকে গুরুগ্রামে থাকতে যান। তিনি জানান, রাত ১০:১৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

বরকত বলেন, মসজিদ থেকে ফেরার সময় চার জন মানুষ মোটরসাইকেলে করে ও দুই জন পথচারী আমার পথ আটকায়। একজন আমায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমায় বলা হয়, এই এলাকায় টুপি পড়ে ঘোরা যাবে না। টুপিটি খুলে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আমি তাকে জানাই, আমি মসজিদ থেকে ফিরছি। আমি টুপিটি খুলতে চাইনি। তখন তিনি আমায় ফের মারলেন ও টুপিটি খুলে নিলেন।

আলম অভিযোগ করেন, পথচারীদের একজন তাকে চড় মেরেছে। তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে সেখানে কেউ তাকে সাহায্য করতে আসেনি। তিনি বলেন, একজন আমায় লাঠি দিয়ে বারবার মেরেছে। আমায় ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ গাইতে বলেছে। আমি না করলে, আমার শুকরের মাংস খাইয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
আলম জানান, কেবল পায়ে হেঁটে আসা ব্যক্তিরাই তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। মোটরসাইকেলে করে আসা ব্যক্তিরা কিছু করেনি। কিন্তু একসময় তিনি কাঁদতে শুরু করলে, তারা পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, সেদিন রাতেই আলমের ভাই তাকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

গুরুগ্রামের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজিব যাদভ জানায়, শনিবার রাতে ওই মুসলিমের ওপর হামলার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত অনুসারে, দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের পর তাকে মারধর করা হয়।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ

২০১৯-০৫-২৭ ১৬:১৬:২০

ধর্মীয় চেতনা থেকে বিক্ষুদ্ব বা কষ্ট অনুভব হতে পারে। কিন্তু ইতি বাচক ভাবে বিচার করলে ঐ মুসলিম যুবকসহ সকল ঈমাদারের জন্য এটি একটি পরীক্ষা। শুধু ভারতে নয় সারা দুনিয়ায় মুসলমানগন নিরন্তর ঈমানী পরীক্ষার মধ্যে আছে। ধৈর্য্য ধরুন।উগ্র হিন্দুত্ববাদের ক্ষমতার দাপাদাপি সর্বত্র ঘৃনিত হবে। মহারাষ্ট্র ভারত মহাযাতনার রাষ্ট্র হলে ক্ষতি ভারতেরই।

আপনার মতামত দিন

৮৮ পাউন্ডের লুলুলেমন, নির্মাতারা নির্যাতিত

সম্রাটের মুখে কুশীলবদের নাম

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ফিফা প্রেসিডেন্ট

ফরিদপুরে মানবজমিন উধাও

সীমান্তে গোলাগুলি বিএসএফ সদস্যের নিহতের খবর ভারতীয় মিডিয়ায়

৩৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে সৌদি কোম্পানি

গ্রামীণফোন-রবিতে প্রশাসক নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন

বালিশকাণ্ডের তদন্তে দুদক

ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটেন ইইউ সমঝোতা

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েও নিরাপত্তাহীনতায়

ভুলে আসামি, ১৮ বছর পর খালাস পেলেন নাটোরের বাবলু শেখ

গ্রামীণফোনের কাছ থেকে ১২৫৮০ কোটি টাকা আদায়ের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

‘ফিরোজের কাছে ফিরে আসবো’

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই আবরার হত্যার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে

পদযাত্রায় বাধা, আমরণ অনশনে নন-এমপিও শিক্ষকরা