গুজরাট মডেলেই বারবার জয় ছিনিয়ে নিচ্ছেন মোদি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদের জয়কে মোকাবেলা করতে এবার নতুন কোনো অস্ত্র হাতে নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলোর জন্য। ভারতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। এককালে গুজরাটে তিনি যে সফলতা দেখিয়েছিলেন তা এখন জাতীয় পর্যায়েও দেখাচ্ছেন। আর এ সফলতার কৃতিত্বের দাবিদার তিনি একাই। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছিলেন, এবার নরেন্দ্র মোদির পক্ষে আগের মত শক্তিশালীভাবে ফিরে আসা সম্ভব হবে না। কিন্তু এখন সেসব ভবিষ্যতবাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সবসময়ই ব্যপক সমালোচিত ছিলেন মোদি। আর এ জন্য তারা মোদির রাজনৈতিক আদর্শ ও ধরণকে দায়ী করতেন।
কিন্তু এ নির্বাচনের ফলাফলের পর প্রায় সকল রাজনৈতিক পণ্ডিতই একমত হবেন যে, মোদি আর দশজনের মত রাজনীতিবিদ নন। তিনি রাজনীতির ধারণাই পাল্টে দিয়েছেন। আজকে বিজেপির যে জয় তার পূর্ন কৃতিত্ব নরেন্দ্র মোদির। তবে হ্যা, গণমাধ্যমের কিছুটা ভ’মিকা রয়েছেই। গণমাধ্যমই নরেন্দ্র মোদিকে এমন শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে আবির্ভুত হতে সাহায্য করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিজেপি উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে হেরে গেলো তখন অনেকেরই মনে হয়েছিল বিজেপি বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে। মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্রিশগড়ে হারার পরই মোদী তার শাসনের গিয়ার চেঞ্জ করে দিলেন। তিনি বুদ্ধিমান বলেই শুধু সরকারের অর্জনগুলোর দিকে ফোকাস না করে জাতীয়তাবাদের একটি জোয়ার সৃষ্টি করলেন। তার প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠলো রাষ্ট্রবাদ। ২০০২ এ মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন তখন তিনি মাত্র ক্ষমতার রূপ দেখেছেন। অনেক সমালোচকই বলেন যে তার এ জয়ের পিছনে কাজ করেছে ২০০২ এর দাঙ্গা। কিন্তু ২০০৭ ও ২০১২ সালে পরপর তার নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে যে তিনি শুধু বিভেদ নয় জনগণের সঙ্গে তার ছিল গভীর সম্পর্কও। মোদি জানতেন গুজরাট দাঙ্গার দাগ নিয়ে তিনি বেশদূর যেতে পারবেন না। তাই তিনি তার রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন জাতীয়তাবাদকে। তিনি তার গুজরাট মডেলকে সফলভাবে জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগালেন। অর্থনৈতিকভাবে গত ৫ বছরে চরম ব্যর্থ বিজেপিকে তাই আবারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বেগ পেতে হয়নি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন