আরসিবিসি ব্যাংকের পাঁচ নির্বাহীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা দায়ের

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫১
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের পাঁচ নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা দায়ের করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিএজে)। বুধবার সাংবাদিকদের একথা জানান দেশটির জাস্টিস আন্ডার সেক্রেটারি মার্ক পেরেত। তিনি জানান, আরসিবিসির কোষাধ্যক্ষ রাওল ভিকটর ট্যান, জাতীয় বিক্রয় পরিচালক ইসমায়েল রেইস, আঞ্চলিক বিক্রয় পরিচালক ব্রিজিত ক্যাপিনা, জুপিটার বিজনেস সেন্টারের গ্রাহক সেবা প্রধান রোমুয়ালদো আগারাদো ও জুপিটার বিজনেস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গ্রাহক সমপর্ক বিষয়ক কর্মী অ্যাঞ্জেলা রুথ টরেসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরা সকলেই আরসিবিসির রিটেইল ব্যাংকিং গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এ খবর দিয়েছে দ্য ইনকুয়ার ও সিএনএন।
বুধবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করতে আপিল করেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু ফিলিপাইনের ঘটনার তদন্তকারী প্রসিকিউটররা তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘ইচ্ছাকৃত বিবেচনাহীনতা’ হচ্ছে কোনো অপরাধ সমপর্কে জেনেও সেটা এড়িয়ে যাওয়া। বিশেষ করে, অপরাধটি প্রমাণযোগ্য জানার পরও ওই অপরাধ সমপর্কে যথাযথ তদন্ত চালাতে ব্যর্থ হওয়া। ট্যান, ক্যাপিনা, রেইস, আগারাদো ও টরেসের কর্মকাণ্ড এর চেয়ে সুষ্ঠুভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, সন্দেহজনক ওই বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়টি সামলানোর সময় তাদের সন্তুষ্ট মনোভাব অগ্রহণযোগ্য। এটি আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার অখণ্ডতায় ফাটল ধরিয়েছে।
পেরেত জানিয়েছে, মাকাতি আঞ্চলিক ট্রায়াল কোর্টের (আরটিসি) ১৪১ শাখায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, আরসিবিসির এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাশা খুব শিগগিরই তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। তারা বলেছে, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। কেননা, তৃতীয় পক্ষ দিয়ে আমাদের পরিচালিত তদন্ত অনুসারে, তারা এই অর্থ চুরির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না।
উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মাকাতি আরটিসির ১৪৯ শাখা জানায়, আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ফিলিপাইনের আঞ্চলিক আদালত ৮টি অভিযোগে দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটি ধারায় ৪ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সেই সঙ্গে ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে তাকে।
পেরেত জানান, এখন তদন্তকারীরা আবিষ্কার করেছেন যে, ব্যাংকের আরো পাঁচ কর্মকর্তাও এই অর্থ পাচারে জড়িত ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৪ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ 
ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই অর্থ চুরি করা হয়। চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ২ েকোটি ডলার এবং বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার প্রথমে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) একটি শাখায় পাঠানো হয়। পরে এই অর্থ আরসিবিসি থেকে চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। চুরি হওয়া অর্থ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ।
চলতি বছরের ৩১শে জানুয়ারি রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে মার্চ মাসে উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধেই মানহানির হামলা করে আরসিবিসি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Sujan

২০১৯-০৫-২২ ১৬:০৩:৫১

Nothing is going to happen. Big thief never punish in bangladesh

আপনার মতামত দিন

৮৮ পাউন্ডের লুলুলেমন, নির্মাতারা নির্যাতিত

সম্রাটের মুখে কুশীলবদের নাম

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ফিফা প্রেসিডেন্ট

ফরিদপুরে মানবজমিন উধাও

সীমান্তে গোলাগুলি বিএসএফ সদস্যের নিহতের খবর ভারতীয় মিডিয়ায়

৩৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে সৌদি কোম্পানি

গ্রামীণফোন-রবিতে প্রশাসক নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন

বালিশকাণ্ডের তদন্তে দুদক

ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটেন ইইউ সমঝোতা

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েও নিরাপত্তাহীনতায়

ভুলে আসামি, ১৮ বছর পর খালাস পেলেন নাটোরের বাবলু শেখ

গ্রামীণফোনের কাছ থেকে ১২৫৮০ কোটি টাকা আদায়ের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

‘ফিরোজের কাছে ফিরে আসবো’

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই আবরার হত্যার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে

পদযাত্রায় বাধা, আমরণ অনশনে নন-এমপিও শিক্ষকরা