বিশ্বকাপে দল পরিচিতি

‘পয়মন্ত’ ইংল্যান্ডে সাফল্যের খোঁজে পাকিস্তান

খেলা

আরিফ বিন আজিজ | ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৯
সরফরাজ আহমেদের অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সাফল্যের খোঁজে ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের মাটি বরাবরই পাকিস্তানের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। ক্রিকেটের দুটো বড় শিরোপা তারা এখানেই জিতেছে- ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। শেষবার ইংল্যান্ডে আয়োজিত ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ফাইনালে খেলেছিল পাকিস্তান। এজন্যই হয়ত সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন পাকিস্তানকে তার পছন্দের তালিকায় রেখেছেন।

টপ-অর্ডারে ভরসা
মূল শক্তি পাকিস্তানের টপ-অর্ডার। ওপেনার ফখর জামান-ইমাম-উল-হকের গড় ৫০-এর উপর। ইংল্যান্ডে দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অভিষেক হয় বাঁহাতি ফখরের।
ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। গত বছর জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন বাবর। বিশ্বকাপজয়ী ইনজামাম-উল-হকের ভাতিজা ইমাম মাত্র ২৬ ওয়ানডেতেই করে ফেলেছেন ৬ সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও রান পেয়েছেন এ বাঁহাতি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৫১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ান ডাউনে থাকা বাবর আজম দলের সেরা ব্যাটসম্যান। ৬৪ ওয়ানডেতে ৯ সেঞ্চুরি ও ১১ হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছেন এ ডানহাতি। পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থার বলেছেন, বিশ্বকাপে বাবরই হবেন পাকিস্তানের সাফল্যের রূপকার। মিডল অর্ডারে রয়েছেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, হারিস সোহেল ও ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া শোয়েব মালিক। তিন জনের মধ্যে হারিসের সাম্প্রতিক রেকর্ড ভালো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরব আমিরাতে পাঁচ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। ছয় ও সাত নম্বরে আসিফ আলী ও ইমাদ ওয়াসিমের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান রয়েছে পাকিস্তানের। ডানহাতি আসিফ আলী ১৫ ওয়ানডেতে ১৩২.১৫ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৩২০ রান। বাঁহাতি ইমাদের স্ট্রাইকরেট ১০৭.২৬। বোলার হাসান আলীও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেন।
দুশ্চিন্তার নাম বোলিং
এ যাবৎ পাকিস্তানের বড় বড় সব সাফল্যের রূপকার বোলাররা। প্রতিটি আসরেই শক্তিশালী বোলিং লাইপআপ নিয়ে যায় দলটি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানি বোলারদের ধার যেন কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুবাইয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের কোনোটিতেই প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট নিতে পারেনি পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজেও তাই। চার ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৪০ উইকেটের মধ্যে পাকিস্তানের বোলাররা নিয়েছেন ২৩ উইকেটে। প্রতিটি ম্যাচেই পাকিস্তানের পেসাররা দেদারসে রান বিলিয়েছেন। এ কারণে দুটি ম্যাচে ৩৫৮ ও ৩৪০ করে জিততে পারেনি পাকিস্তান। পেসারদের নখদন্তহীন বোলিং কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে দলটির ভক্ত-সমর্থকদের। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সঙ্গে বিশ্বকাপের অনেক তফাৎ। আর দলটি যখন পাকিস্তান, তাদের নিয়ে আগে থেকে কিছু বলা মুশকিল। দেখা যাবে, বিশ্বকাপে ঠিকই ভালো বোলিং করছেন হাসান আলীরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বাজে নৈপুণ্য নিয়ে বিশ্বকাপের দল থেকে ছিটকে পড়েছেন দুই পেসার ফাহিম আশরাফ ও জুনায়েদ খান। দল থেকে বাদ পড়েছেন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান আবিদ আলীও। চূড়ান্ত দলে জায়গা মিলেছে মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও আসিফ আলীর।

শেষ চারের সম্ভাবনা: শেষ চারের জন্য পাকিস্তানকে কঠিন লড়াই করতে হবে। অধিকাংশ ক্রিকেট বোদ্ধা ধরেই নিয়েছেন স্বাগতিক ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া শেষ চারে থাকবে। চার নম্বর দল হিসেবে যেতে পারে পাকিস্তান। তবে এই পজিশনের জন্য তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  ফলে এ দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচগুলো পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্কোয়াড: ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, আসিফ আলী, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ, শাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, হাসান আলী, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ হাসনাইন, হারিস সোহেল, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমির ।

ম্যাচসূচি
তারিখ    প্রতিপক্ষ        ভেন্যু
৩১শে মে    ওয়েস্ট ইন্ডিজ    নটিংহাম
৩রা জুন    ইংল্যান্ড        নটিংহাম
৭ই জুন    শ্রীলঙ্কা        ব্রিস্টল
১২ই জুন    অস্ট্রেলিয়া        টন্টন
১৬ই জুন    ভারত            ম্যানচেস্টার
২৩শে জুন    দক্ষিণ আফ্রিকা    লন্ডন
২৬শে জুন    নিউজিল্যান্ড        বার্মিংহাম
২৯শে জুন    আফগানিস্তান    লিডস
৫ই জুলাই    বাংলাদেশ        লন্ডন



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন