সুনামগঞ্জের দু’যুবকের

সাগরের লোনা জলে স্বপ্নের সমাধি

এক্সক্লুসিভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৬ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩০
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে সুনামগঞ্জের দুই যুবকের। সাগরের লোনা পানিতে চিরদিনের মতো স্বপ্নের সমাধি হয়েছে তাদের। হতভাগ্য দু’যুবকের পরিবারে এখন শোকের মাতম। বাবা-মা আর আত্মীয়স্বজনদের কান্নায় পরিবারে বিরাজ করছে শোকের মাতম।

সাগরের নৌকাডুবিতে মৃত ওই দুই যুবক হলো- ছাতক উপজেলার নুরুল্লাহপুর গ্রামের মো. আজির উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন (২২) ও দিরাই উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে মাহবুবুল করিম (২৬)। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, নাজিম উদ্দিন সিলেটের মদন মোহন কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। সে সিলেট নগরের লেকসিটি আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো। দালাল শামীমের সঙ্গে আট লাখ টাকায় চুক্তি হয় তার ইউরোপে যাওয়ার। প্রথমে চার লাখ ও পৌঁছার পর বাকি চার লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। গত বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গ্রামের আরো দুই তরুণ শরীফ, শহীদসহ নাজিম বাড়ি থেকে ঢাকায় যায়। পরে ঢাকা থেকে লিবিয়া।

নাজিমের চাচা শাহীন আহমদ জানান, দালাল শামীম আহমেদের মাধ্যমে ৮ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার জন্য চুক্তি হয়। নাজিমসহ অন্যদের সঙ্গে লিবিয়া গিয়ে কয়েক মাস জেল খাটতে হয়েছে তাকে। জেল থেকে বের হয়ে গত বৃহসপতিবার লিবিয়ার জুয়ারা শহর থেকে নৌকাযোগে ইতালির উদ্দেশে রওয়ানা হয় নাজিমসহ অন্যরা। এর মধ্যে গভীর সাগরে যখন তাদের বড় নৌকা থেকে ছোট নৌকায় তোলা হয়, তার কিছুক্ষণ পরই সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

তিনি আরো জানান, দালালের সঙ্গে চুক্তি ৮ লাখ টাকার হলেও আমাদের কাছ থেকে নাজিম ইতালি যাওয়ার আগেই ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাকে ইতালি পৌঁছানোর কথা ছিল। পরে রেডক্রিসেন্টের মাধ্যমে জানলাম আমার ভাতিজা নাজিম নৌকাডুবিতে মারা গেছে।

এদিকে মাহবুবুল করিমও ঠিক নাজিমের মতোই উন্নত জীবনের আশায় ইতালির উদ্দেশে রওয়ানা দেয় ২০১৮ সালের মে মাসে। পরিবারের ৭ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়। মাহবুবুল করিম দালাল পারভেজ মিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া এবং লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়।

মাহবুবুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম বলেন, মাহবুব ভারতের দেওবন্দ মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। ২০১৮ সালে দেশে এসে আর ভারতে যাননি। পরে দালাল পারভেজের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন। লিবিয়া যাওয়ার পর মাঝে মধ্যে পরিবারের সঙ্গে কথা হতো। কিন্তু ছয় মাস ধরে যোগাযোগ ছিল কম। রেজাউল করিম আরো বলেন, আমি প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো দালালকে দিয়েছিলাম। দালাল পারভেজ আমাকে জানিয়েছে, সে নাকি ইতালি গিয়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এখন শুনি আমার ভাই মারা গেছে।

সুনামগঞ্জ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিট লেভেল অফিসার কনিকা তালুকদার বলেন, প্রথমে আমাদের ৩ জনের নাম দেয়া হলেও এখানে মাহবুব নামটি দুইবার চলে আসে। আমরা যখন তদন্ত করি ও খোঁজ নেই তখন শুধু একজন মাহবুবের তথ্য পাই। পরে আমাদের রেডক্রিসেন্ট থেকে জানানো হয় যে মাহবুব একজনই। ওর নাম দুইবার চলে এসেছিল।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পারভেজকে পুলিশি রিমান্ডে

চট্টগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ, ভন্ডপীর গ্রেপ্তার

নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন বিষয়ে আদেশ কাল

‘বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে’

কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ডেঙ্গু রোগী, রামেকে এক নারীর মৃত্যু

আসামে বিশাল বন্দিশিবির নির্মাণের পরিকল্পনা, আতঙ্কে মুসলিমরা

ময়মনসিংহে গারো তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, ক্লিনিক মালিক গ্রেপ্তার

স্বামীর লাশ দেখেই...

মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে যুবক নিহত

রিয়েলিটি টিভি তারকাদের যৌন সম্পর্ক, উপার্জন অঢেল টাকা

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত

কাশ্মীরে নির্বিচারে ধরপাকড়

ঈদে সড়কেই প্রাণ গেল ২২৪ জনের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আদৌ শুরু হচ্ছে কি?

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮

এখনো উচ্চ ঝুঁকি ২৪ ঘণ্টায় ১৭০৬ রোগী ভর্তি