সব খেলাপি ব্যবসায়ীকে জেলে দিলে দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না: অর্থমন্ত্রী

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার | ২৯ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৭
সকল ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে জেলে দিলে দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, তবে সবাইকে মাফও করা যাবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপী হয়ে যায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এ্যাকশন অবশ্যই নিতে হবে, কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি যে, ব্যাংকিংখাত যদি স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারে, ঋণভারে জর্জরিত হয়ে যায়, মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়-তাহলে আমরা অর্থনৈতিক গতিশীলতা থেকে বিচ্যুত হব। তাই আমরা সকল কিছু বিবেচনায় নিয়েই ব্যাংকের সুদের হার কমাব। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের সুদের হার কমানো না গেলে পারফর্মিং লোন কমবে না। মন্দ ঋণ তখনই হয়ে যায়, যখন লোন নিয়ে তারা পরিশোধ করতে না পারেন। মন্দ ঋণের জন্যই সুদের হার অনেক বেশি। যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা অথবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন, তখন সেখানে সঙ্গত কারণেই খেলাপি হয়ে যায়। আর ঋণখেলাপি রেখে ব্যাংকগুলোর অবস্থা এতোটাই দূরাবস্থার মধ্যে আছে, এগুলোকে যদি পরিস্কার না করি তাহলে এগুলো আরো খারাপ হয়ে যাবে। সেজন্যই সুদের হার মোটামুটি সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে নিয়ে আসতে পারলেই আমরা সফল হব, আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে। শিল্প-কারখানাগুলো রক্ষা পাবে। সকলের স্বার্থেই আমরা এই কাজ করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, অনেকে অনেক রকম কথা বলছে। কিন্তু সারাবিশ্বেই কিন্তু মাফ করে দেয়। আমাদের দেশে মাফ করার কোন ব্যবস্থা ছিল না। কারণ লোনের জন্য ব্যাংক আর্বিট্রেশন যেটা আছে, সেটা কার্যকর ছিল না। সেজন্য একবার ব্যাংকে ঢুকলে সেখান থেকে বের হবার পথ ছিল না। আমরা আইনগুলো কার্যকর করে সেই আইনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একটা সহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করে সবাইকে এখান থেকে মাফ করার ব্যবস্থা করব। কারণ সকল ব্যবসায়ীকে জেলে দিলে তো দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে নেই: সরকারি দলের সংসদ সদস্য আহসানুল হক টিটুর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা ও শক্তিশালী, তবে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার জন্য যা যা করার তাই করা হবে। তিনি বলেন, একটা দেশের অর্থনীতি যতই শক্তিশালী হয়, তার প্রতিফলনটা আমরা দেখতে পাই পুঁজিবাজারে। পৃথিবীর প্রত্যেকটিদেশেই এভাবে পুঁজিবাজার আর অর্থনীতি সম্পৃক্ত থাকে। দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা ও শক্তিশালী। কয়েক দিন আগে আইএমএফ এর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। সেখানেও তারা আমাদের গতিশীলতা দেখে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। সেসময় আরো যাদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, সেখানে সবাই বলেছেন বাংলাদেশকে অনুসরণ করার জন্য। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের এগিয়ে যাওয়া থমকে যাবে, যদি আমাদের পুঁজিবাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি। পুঁজিবাজারটি এখন নিয়ন্ত্রণে নাই আমি বলব। তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নাই এটা বলব না। পুঁজিবাজারে যেসকল সমস্যা আছে, এরইমধ্যে আমরা চিহ্নিত করেছি। সবগুলোই এক এক করে সমাধান করবো। এসময় প্রশ্নকারী সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত  করে তিনি বলেন, সরকার অর্থনৈতিক এলাকায় যেমনিভাবে চিন্তা করে, তেমনি পুঁজিবাজার নিয়েও ততটা যত্নশীল। আমি নিজেও পুঁজিবাজারের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সবাইকে নিয়ে এক দুই দফা মিটিং করেছি, আরো মিটিং করব। মিটিং করে পুঁজিবাজারকে আর ১০টি দেশে যেভাবে চলে সেইভাবেই চালাবার জন্য চেষ্টা করবো। আমাদের বিচ্যুতিগুলো অবশ্যই দূর করব। আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কোনো প্রণোদনা থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজাটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা অবশ্যই থাকবে। তবে কতটা থাকবে সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন তার সব ব্যবস্থা করবো।

সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে: সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, অনেকের ধারণা আমাদের ব্যাংকিং নাজুক অবস্থায় আছে। কিন্তু আমাদের ব্যাংকিং খাত এতো খারাপ বলবো না। যদি এতোই খারাপ হতো তাহলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে অর্জন এটা হতো না। ব্যাংকিং খাত বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক অর্জন হয় না। আমাদের দেশের ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৪-১৫ ভাগ। এটা বিশ্বের কোনো দেশে নেই। প্রধানমন্ত্রী এই সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার কথা বলেছেন। তিনি বুঝে শুনে চিন্তা করেই এ কথা বলেছেন। আমরা চিস্তা করছি, চিন্তা-ভাবনা করেই একটা রেট নির্ধারণ করবো। আমরা কাজ শুরু করেছি, সুদের হার কমাবো, সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসবো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘অভিযানে ধরা পড়া সবাই এক সময় যুবদল-বিএনপি করতো’

ব্যাংক নোটের আদলে টোকেন ব্যবহার দণ্ডনীয়

পুলিশ এতদিন কি করছিল?

মতিঝিলে আরও ৪ ক্লাবে অভিযান, পাওয়া গেছে ক্যাসিনো সামগ্রি, মাদক, নগদ টাকা

সিরিজ বোমা হামলা: ৫ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড

কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

পাষণ্ড ছেলে...

যমুনায় নৌকা ডুবি, নিহত ১

ফাইনালে অনিশ্চিত রশিদ খান

ঢাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের অবস্থান, স্লোগান, উত্তেজনা

আগস্টে ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছে ২০ লাখ: বিটিআরসি

সৌদি আরবে হামলা থামানোর প্রস্তাব হুতির, সমর্থন জাতিসংঘের

‘জাবিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলন, সাবেক ভিসির এজেন্ডা’

জাবি’র ভর্তি পরীক্ষা শুরু, ২০ কোটি টাকার ফরম বিক্রি

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মানবেতর জীবন যাপন