বিল নেই কাজ বন্ধ

প্রথম পাতা

দীন ইসলাম | ২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:১০
টাকা নেই তাই বিল পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। তিন-চার বছর আগে কাজ শেষ করেও বিল পাচ্ছেন না কেউ কেউ। এভাবে ঠিকাদারদের পাওনার পাহাড় জমা হচ্ছে। বিল না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে কোনো কোনো প্রকল্পে। সরকারের দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ করেও দিনের পর দিন ঘুরছেন ঠিকাদাররা। সরকারের দপ্তরগুলোর তহবিলে অর্থ না থাকায় দেন-দরবার করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কাজ করে বিল না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদাররা। পুঁজি কম থাকায় তারা একটি কাজের বিল তুলে আরেকটি কাজে হাত দেয়ার প্রস্তুতি নেন।

পুঁজি আটকে যাওয়ায় সেই সুযোগও তাদের বন্ধ হয়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর , গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা এমন সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড় বেশি হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ২০ থেকে ৪০ ভাগ ছাড় করা হয়েছে। তাই ঠিকাদারদের মোটা অঙ্কের বিল আটকে গেছে। বিল না পাওয়ায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও রাজউক বলছে, প্রকল্প প্রস্তাব রিভাইস হওয়ার কারণে বিল দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিল না পেয়ে প্রায় দুই শতাধিক ঠিকাদার কষ্টে আছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, বিল নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ডিএসসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের বচসা হচ্ছে। মূলত ডিএসসিসির আয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাজস্ব আদায়ে ধস নামে। কারণ, ৭৫ শতাংশ রাজস্বই পাওয়া যেত বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে। ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে রাজস্ব আদায় হয়, তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার কাজ চলে। উন্নয়নকাজ করা কঠিন হয়ে যায়। দুই বছর আগেও কর্মচারীদের সঞ্চিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা থেকে বেতন দেয়ার নজির রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেও ফান্ডে টাকা নেই। তবুও প্রশাসকরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যখন চালাতেন তখন প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেন। এর মধ্যে সাবেক সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক জিল্লার রহমানের আমলে ২৫০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। এছাড়া প্রশাসক নজরুল ইসলামের সময় ১১২ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসকদের সময় দরকার না হলেও টেন্ডার আহ্বান করে কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন খেয়ে বসে আছেন। এখন বিল পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসিসি ভাগ হওয়ার পর মূলত ডিএনসিসি’র লাভ হয়েছে। উন্নয়ন খাতে তাদের বাজেট দিন দিন বাড়ছে। বিপরীতে ঠিকাদারদের বকেয়া পরিমাণ খুব বেশি নয়। রাজস্ব আয় বেশি থাকায় ডিএনসিসি’র কর্মকর্তারা উন্নয়ন কাজ বেশি করতে পারছেন। দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ দুই সিটি কর্পোরেশনে আগের মেয়াদে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা দায়িত্ব পালনের কারণে খুব বেশি উন্নয়ন কাজ করা যায়নি। যেসব উন্নয়ন কাজ করা গেছে ওই সব কাজের বিল এখনও বকেয়া পড়ে আছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের বাইরে সরকারি অর্থায়নে যেসব কাজ হয় ওই সব কাজের বিল পেতে গেলে ঠিকাদারদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা বেশ কষ্টের মধ্যে আছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টের পর যেসব ঠিকাদার কাজ করেছেন তারা এখনও বিল পাননি। আগামী বাজেটের দিকে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে। বাজেট অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে যে অর্থ ছাড় হবে তা থেকেই দেন দরবার করে বিল নিতে হবে। এরপর নতুন করে কোন কাজ করলে তা বাকি পড়ে থাকবে। গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির একজন নেতা মানবজমিনকে বলেন, বাবার আমল থেকে ঠিকাদারি করি তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আকড়ে ধরে আছি। কাজ করলে বিল পাই না। বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। কিভাবে চলি বলেন। পরিবার নিয়ে টেকা দায় হয়ে গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, মেরামত কাজের বাজেট সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ছাড় হয়। তখন রীতিমতো কামড়াকামড়ি চলে। নিজেদের মতো তদবির করে বিল নিয়ে যান তারা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে নির্মাণ ও মেরামত খাতে গেল অর্থ বছরের চেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মেগা প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। তাই এ অর্থ বছরে বরাদ্দ কম ছাড় হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোঃ আরিফ হোসাইন।

২০১৯-০৪-২৫ ১৫:৫৭:২৫

উন্নয়ন! তা শুধুই মুখের বুলি! উন্নয়ন হয়েছে শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে।!!!!!!!!!!

আপনার মতামত দিন

তেরেসা মে’র চোখে তখন পানি

২৮শে মে শপথ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি

সরকার এত অমানবিক নয়

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

ধারণা পাল্টে দিতে চায় অভিজ্ঞ বাংলাদেশ

গান্ধী পরিবারের রাজনীতির সমাপ্তি?

দোহার-নবাবগঞ্জকে আধুনিক উপজেলায় পরিণত করবো

তৃতীয় দিনেও ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলাম

চট্টগ্রামে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘কিশোর গ্যাং’

বাংলাদেশে মানব পাচার রোধে কাজ করছে আইওএম

মোদির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

জৈন্তাপুরে এখন নয়া ‘ধান্ধা’ চোরাকারবার

ড্যাবের নির্বাচনে ডা. হারুন-সালাম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

ছয় শতাধিক কারখানায় বেতন বোনাস নিয়ে সমস্যা

এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন মেহেদী