কঠিন হলেও সেমিফাইনালে চোখ রোডসের

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় ছুটিতে নিজ দেশে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। তবে ইংলিশ কোচ এরই মধ্যে ঢাকায় এসে দায়িত্ব নিয়েছেন বিশ্বকাপ দলের ক্যাম্পের। কিন্তু ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ চলছিল বলে ক্যাম্পের শুরু থেকেই পাননি জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারকে। আবার লীগ শেষ হলেও গতকাল অনেক ক্রিকেটারই আসেননি ছুটিতে থাকার কারণে। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দল আয়ারল্যান্ডে খেলবে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও। সব মিলিয়ে প্রধান কোচ গতকালই প্রথম তার দল নিয়ে বিশ্বকাপে আশা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে এই বিশ্বকাপের আসরে। তার কথোপকথনের মূল অংশগুলো তুলে ধরা হলো-
ঢাকায় বিশ্বকাপ ক্যাম্পের আত্মবিশ্বাস
আমি শুরুতেই ক্যাম্পের সদস্য সংখ্যা কমিয়েছি। কারণ একটি বড় সংখ্যক ক্রিকেটার ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে খেলছিল। যেখানে গরম ও তাপে দারুণ কম্পিটিশন। এছাড়াও কঠিন পরিশ্রমও  করতে হয়েছে। যে কারণে তাদের একটি ছোট ব্রেক দিয়েছি। যদিও আমি ওদের সঙ্গে স্কিল নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি।  আমার মনোযোগ ছিল তাদের কিছুটা হলেও সতেজ করে নেয়া। এটি আমার জন্য ভালো হয়েছে। এছাড়াও কম সংখ্যক ক্রিকেটার  নিয়ে এরই মধ্যে অনেক কাজও করা গেছে। আমাদের হাতে আরো দু’দিন বাকি আছে। তখন সব ক্রিকেটারদের একত্রে  পাব। আমি আশা করি আয়ারল্যান্ডে ৭ই মে প্রথম ম্যাচে ভালো খেলা উপহার দিব। আমরা তার জন্য প্রস্তুত আছি।
হ্যা, এটিও সত্যি যে নিউজিল্যান্ডে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। কিন্তু আমাদের মিঠুন ও সাব্বিরের পারফরম্যান্স ভালো ছিল যা নিয়ে আমরা সামনে আশা করতে পারি। অবশ্য তারা বিপিএলসহ নানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে বেশ ক্লান্ত ছিল তখন। তবে এখন আমার কাজ তাদের যতটা সম্ভব সতেজ করে তোলা।
বিশ্বকাপে দলের লক্ষ্য
সত্যি কথা, বেশ কয়েকটি ভালো দল বিশ্বকাপে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ভালো খেলাটা কঠিন হবে। তবে আমি বেশ কয়েকটি দেশকেই জানি যারা বাংলাদেশকে সমীহ করে। তারা জানে যত ভালোই খেলুক না কেন তাদের হারিয়ে দেয়ার সামর্থ বাংলাদেশের আছে।  এবং সেটা আমরা প্রমাণ করেছি । আমি এখানে আসার আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দল ভালো করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে গোটা দুয়েক জয় পেয়েছি। আমরা এমন একটি দল যারা শীর্ষ দলগুলোকে হারাতে সক্ষম। আমরা এটাও জানি যে আমাদের সেরা খেলাটিই খেলতে হবে। এবং সেটাই হবে আমাদের বার্তা। আমরা যদিও সত্যিই দূরে যেতে চাই, যদি নক আউটে (সেমিফাইনাল) খেলতে চাই তাহলে আমাদের সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।
আয়ারল্যান্ডে হবে মূল প্রস্তুতি
আমার ধারণা আয়ারল্যান্ডেই গড়ে উঠবে আমাদের বিশ্বকাপের দল। আমরা সেখানে ওয়ানডে ম্যাচ খেলবো আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এখানে সুযোগ হবে দলে একটি সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করার। তামিমও এই বিষয়ে বলেছে কিছু ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দিয়ে খেলানোর কথা। হ্যা, আশা করি ম্যাচ জিতবো। সেই সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়টাও হবে আমাদের জন্য বড় বিষয়।
সাকিবের ক্রিকেট ক্ষুধা বেড়েছে
আমার মনে হয় সে জন্যই (প্রস্তুতি) সাকিব আইপিএল ছেড়ে আসেনি। এটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল সত্যি। আমি আশা করছিলাম যেন ও দুই তিনটি ম্যাচ হলেও পায় এবং অনুশীলনটা করতে পারে। হাঁ, ও সেটা পাচ্ছে। ওকে ম্যাচে দেখে মনে হলো, শার্প, ফিট ও কুইক। মাঠে বলের পেছনেও বেশ দ্রুত দৌঁড়াচ্ছিল। আমি খুবই খুশি এবং আশা করব যেন আর দুটি ম্যাচ হলেও খেলতে পারে। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার ও। কিছু ম্যাচ খেলা অবশ্যই দরকার । তাতে করে ম্যাচের জন্য পুরো দমে প্রস্তুত হয়ে যাবে। খুবই ভালো লাগছে। আর ওখানে দুটি জিনিস হচ্ছে; ওর ক্রিকেটের জন্য ক্ষুধাটা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও ভালো করার ক্ষুধা থাকবে।
বোলারদের জন্যই কঠিন হবে
ইংল্যান্ডে সত্যিকার অর্থেই বোলারদের জন্য কঠিন হবে। উইকেট ফ্ল্যাট হবে, এখানে উইকেট নিতে পারাটাই হবে বড়। আমাদের বড় স্কোর করতে হতে পারে, আর সেটি ইংল্যান্ডে করা সহজ। কারণ আউট ফিল্ড অনেক দ্রুত, উইকেট ফ্ল্যাট যে কারণে বল ব্যাটে আসবে দ্রুত।
অভিজ্ঞ দলে আস্থা
হা, আমাদের বেশ কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে যারা আগেই বিশ্বকাপ খেলেছে। এছাড়াও অনেকেই আছে যাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমার মনে হয় এখনই তাদের সময় কিছু করে দেখানোর।
আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে
ইংলিশ হিসেবে আমার মনে হয় আমার কিছু বাড়তি সুবিধা থাকবে। যেমন আমার কিউরেটরদের সঙ্গে সম্পর্ক, গ্রাউন্ডস সম্পর্কে ধারণা। এছাড়াও আমার কিছু কিছু মাঠে নিজের খেলা ও  কোচিং করার অভিজ্ঞতাও আছে। এমন অনেক কিছু আছে আমার অভিজ্ঞতায় কিন্তু ক্রিকেটার মাঠে বল ও ব্যাট হাতেও ভালো করতে হবে।
ওপেনিংয়ে তামিমের পার্টনার
সামপ্রতিক সময়ে আমরা ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন বেছে নিয়েছি, তামিম ও লিটন। ব্যক্তিগতভাবে আমি ডান-বাঁ কম্বিনেশন পছন্দ করি। তবে সৌম্য ঢাকা লীগের শেষ দুই ম্যাচে যা করেছে, সেটিও আমার ভালো লেগেছে। মজার ব্যাপার হলো, আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে আউট হওয়ার পর আমি ওকে বলেছিলাম, ডাবল সেঞ্চুরির এমন সুযোগ খুব বেশি পাবে না। তখনও অনেক ওভার বাকি ছিল। বলেছিলাম, আবার সুযোগ পেলে ছুঁড়ে এসো না। কাকতালীয়ভাবে, পরের ম্যাচেই সে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলল। আমি এখনই বলতে চাই না, বিশ্বকাপে আমাদের সম্ভাব্য উদ্বোধনী জুটি কোনটি হবে। শুধু এটুকু বলছি, সৌম্য-লিটন, দুজনের ওপরই ভরসা আছে আমার।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ডেঙ্গুতে সারাদেশে ৪ জনের মৃত্যু

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন অভিযোগের তীর সরকারের দিকে

সিরিজ খোয়ালো ইমার্জিং দল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন মোদি

মিয়ানমারেরও শক্তিশালী বন্ধু আছে: কাদের

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে: মিলার

শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাকচাপায় শ্রমিক নিহত

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের দায়ে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে, নিহত ৮

ধনাঞ্জয়া ১০৯, শ্রীলঙ্কা ২৪৪

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইফের সেঞ্চুরি

নাটোরে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

বঙ্গবন্ধুর কথা ষোলআনা অমান্য করা হচ্ছে: ড. কামাল

বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

প্রয়াত ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি