বাংলাদেশ-বৃটেন কৌশলগত সংলাপ

কার্যকর গণতন্ত্রে মানবাধিকার ও মিডিয়ার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

প্রথম পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৪
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং যে কোন কার্যকর গণতন্ত্রে সু-শাসন, মানবাধিকার এবং মিডিয়ার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও বৃটেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত কৌশলগত সংলাপে গতকাল উভয় পক্ষ উল্লেখিত বিষয়ের উপর জোর দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা’র ওই সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের এবং সফররত বৃটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েথ অফিসের পারমানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি স্যার সায়মন ম্যাকডোনাল্ড দেশটির ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।


প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত ঢাকা-লন্ডন তৃতীয় সংলাপে দুই দেশের সম্পর্কের ‘আলোচনা হওয়ার মত’ প্রায় সব বিষয়েই কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৃটিশ প্রতিনিধি দলের নেতা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবও দাবি করেছেন সম্পর্কের সব বিষয় নিয়ে সংলাপে অত্যন্ত খোলামেলা এবং বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব আরও সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন, সংলাপে ১৭টি পয়েন্টে কথা হয়েছে। যার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ বাড়ানো, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস দমনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

সচিবসহ অন্যরাও বলেন, ২০১৭ সালের মার্চে ঢাকায় বৃটেনের সঙ্গে প্রথম কৌশলগত সংলাপের পর থেকে নিয়মিতভাবেই ওই ফোরামে আলোচনা হয়ে আসছে। এবারের সংলাপে বৃটেনের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের অংশগ্রহণ স্পষ্ট যে বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় এবং সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বৃটেন কতটা মনোযোগী। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানসহ বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও গভীর করতে দেশটির আগ্রহ যে রয়েছে তা খোলাসা করেই বলেন বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব।বাংলাদেশও যে আগ্রহী তা-ও জানান তিনি।

দুই দেশের যৌথ সংবাদ নোট, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রচার করেছে, তাতে মোটা দাগে বলা হয়েছে, এবারের আলোচনায় বিদ্যমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিবিড় করা, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংলাপে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান, আঞ্চলিক সংযুক্তি ও স্থিতিশীলতার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ যাতে দেশটির বিশেষ বাণিজ্য অংশীদার থাকে, তা নিয়েও কথা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মতে, সংলাপে ভিসা সহজীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভিসা অফিস সরিয়ে নেয়া হলেও ঢাকা ও সিলেটে আবেদনকারীদের হাই কোয়ালিটি সার্ভিসে বৃটেনের যে অঙ্গীকার রয়েছে তা বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। বৃটেনে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশীদের ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশের যে অঙ্গীকার তা নিয়েও কথা হয়েছে। বৃটিশ সরকার বাংলাদেশের এমন অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বৃটেনের নেতৃত্ব। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে ঢাকার সংলাপে।  


এদিকে অন্য কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সংলাপে বাংলাদেশ ও বৃটেন উভয় পক্ষই সতর্ক ছিল কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তুর আলোচনা এবং উপস্থাপন বিশেষতঃ শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে। বৃটেনে থাকা দ-প্রাপ্তদের ফেরানোর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোন পক্ষই ব্যক্তিবিশেষের নাম মুখে নেননি। কারণ হিসাবে এক কূটনীতিক বলেন, বৃটেন ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার নীতি মেনে চলে, এটা বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সবার জানা। ঢাকায় বহুবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের  ‘স্ট্যাটাস’ বা বৃটেনে অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। গতকালও স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের পর বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিবের একক বক্তৃতার প্রশ্নোত্তর পর্বে নাম উল্লেখ না করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে বরাবরের মত বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের মধ্যে স্পর্শকাতর অনেক ইস্যু রয়েছে। তবে আমাদের সম্পর্ক স্মোথ।

কূটনৈতিক সূত্র মতে, দুনিয়ার কোন দেশের সঙ্গেই বৃটেনের প্রত্যর্পন চুক্তি নেই। কিন্তু দেশটিতে প্রত্যর্পন সংক্রান্ত আইন আছে। চুক্তি না থাকলেও দেশটির বিদ্যমান আইনে যে কোন দ-প্রাপ্তকে ফেরানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে হবে এবং ব্যক্তির অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য বৃটেনের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন কানুনের বিষয়ও বৃটেন খতিয়ে দেখে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঢাকায় আসার পর ওইদিন সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বৃটেনের পররাষ্ট্র সচিবের কাছে প্রত্যর্পন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে কি-না? জানতে চাওয়া হয়।

সেখানেও তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি। সচিবের ভাষ্য ছিল এমন ‘দুই দেশের মাঝে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। দুই দেশেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মামলা রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি নিয়ে আমরা কোনো ধরনের মন্তব্য করব না।’ সচিবের আগে ঢাকা সফরকারী বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডও বলে গেছেন, দ-প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনায় নেবে বৃটেন। তবে বিষয়টি দেশটির আদালত আর পুলিশের এখতিয়ার হওয়ায় জটিলতা রয়েই গেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ডেঙ্গুতে সারাদেশে ৪ জনের মৃত্যু

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন অভিযোগের তীর সরকারের দিকে

সিরিজ খোয়ালো ইমার্জিং দল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন মোদি

মিয়ানমারেরও শক্তিশালী বন্ধু আছে: কাদের

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে: মিলার

শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাকচাপায় শ্রমিক নিহত

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের দায়ে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে, নিহত ৮

ধনাঞ্জয়া ১০৯, শ্রীলঙ্কা ২৪৪

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইফের সেঞ্চুরি

নাটোরে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

বঙ্গবন্ধুর কথা ষোলআনা অমান্য করা হচ্ছে: ড. কামাল

বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

প্রয়াত ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি