রূপগঞ্জে ট্রাস্ট সিটির আগ্রাসনে দিশাহারা কৃষক

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে | ২৪ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুঁইফোড় আবাসন প্রতিষ্ঠান পূর্বাচল ট্রাস্ট সিটি ব্যাপক আগ্রাসন চালাচ্ছে প্রকল্প এলাকায়। সাধারণ মানুষের জমি দখলে নিতে তারা কৃষকদের উপর ভয়াবহ অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছেন। মানুষের জমি ভুয়া দলিল বলে নিজের দাবি করছেন। অনেক কৃষকের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে ফেলেছেন প্রতিষ্ঠানটি। কেউ প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন সে পরিবারকে। অথবা ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম করছেন কৃষকদের। অথচ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। জানা যায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর পূর্বাচল নতুন শহরের ২১ নং সেক্টর সংলগ্ন উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদী ও রঘুরামপুর মৌজায় গড়ে তোলা ‘পূর্বাচল ট্রাস্ট সিটি’ প্রকল্প অঞ্চলে জমি না কিনেই মাত্রাতিরিক্ত প্লট বিক্রি করে ফেলে। এতে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও গ্রাহকদের প্লট দিতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় গ্রাহকরা প্লট বুঝে পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলে গ্রাহকদের শান্ত করতে বিকল্প উপায়ের আশ্রয় নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তারা প্রকল্প এলাকার কৃষকদের ফসলি জমিতে হঠাৎ করেই ভাড়াটে মাস্তানদের সহায়তায় বালু ভরাট শুরু করে। পাশাপাশি তারা অনেক কৃষকের জমি ভুয়া দলিল করে নিজেদের বলে দাবি করতে শুরু করে। তারা স্থানীয় শিমুলিয়া এলাকার মুরাদ হাসান সিপনের ১৩ শতাংশ, রিপন মিয়ার ৩৯ শতাংশ, লুৎফর রহমানের ১৩ শতাংশ, সাজিদুর রহমানের ১৩ শতাংশ, মাজাহারুল ইসলাম রতনের ২৩ শতাংশ, হ্যাপি আক্তারের ১৫ শতাংশ, লিলি আক্তারের ১৫ শতাংশ, মমতাজ বেগমের ১৫ শতাংশ, শফিকুর রহমানের ১৭ শতাংশ, বোরহানের ২১ শতাংশ, কাউসারের ১৪ শতাংশ কৃষি জমিতে বালু ভরাট করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া এ কোম্পানি স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কুলিয়াদী মৌজায় কুলিয়াদী এলাকার নাসির মিয়ার ২৭ শতাংশ, হাশেম মিয়ার ২৩ শতাংশ, আমজাদ হোসেনের ১০০ শতাংশ, আনোয়ার হোসেনের ১০০ শতাংশ, নান্নু মিয়ার ১০০ শতাংশ, ওহাব ভূঁইয়ার ১০০ শতাংশ,  মোজাম্মেল ভূঁইয়ার ২৬ শতাংশ, আজিজুল হকের ১৩ শতাংশ, মোস্তফা মিয়ার ২৯ শতাংশ, ছালাম মিয়ার ৪৪ শতাংশ, হাসমত আলীর ৪৫ শতাংশ, শিমুলিয়ার হামিদ মিয়ার ১১ শতাংশ, রঘুরামপুর মৌজায় রঘুরামপুর এলাকার ঈমান খানের ২২ শতাংশ, ফজলুল হক খানের ১২ শতাংশ, মোফাজ্জল হোসেনের ২৬ শতাংশ, হারুনুর রশিদের ২৬ শতাংশসহ ১৩৬ জনের মোট ১০০ বিঘা জমিতে জোরপূর্বক কোম্পানির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় মুরাদ হাসান শিপন, রতন মিয়া, আরমান হোসেন, ইমান আলী, সজল মিয়া, খানজা মিয়া, কামাল হোসেন, ফরহাদ মিয়া, নুরাজ্জল খান, খোকন, মেহের আলীসহ অন্তত অর্ধশত কৃষককে রূপগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। অনেকে দীর্ঘদিন জেল খেটেছে এই ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের মিথ্যা মামলায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাস্ট সিটির প্রকল্পের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মাসিক চুক্তিতে মাস্তানদের লালনপালন করেন প্রতিষ্ঠানটি। হিরনাল এলাকার সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবীর মিঠু ও তার সহযোগী কামরুল হাসান নয়ন, মোতাহার ফকির, হালিম মোল্লা, জামান,  রেজু, শিবজন, ছলুসহ আরো ৪০/৫০ জনের একটি দল এলাকায় ট্রাস্ট সিটির নিয়ন্ত্রণ করেন। এ বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হয়েছেন এলাকার বহু কৃষক। ২০১৭ সালের ১৫ই মে স্থানীয় ১৩৬ জন জমির মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)  ট্রাস্ট পূর্বাচল নামক আবাসন কোম্পানি তার প্রকল্পে ন্যূনতম জমি না কিনে এবং রাজউক থেকে প্রকল্পের অনুমোদন না নিয়ে প্রকল্পের বিজ্ঞাপন প্রচার, জমি দখল, বালু ভরাটসহ প্লট বিক্রয়ের কার্যক্রমের উপর  ১৭ সালের ১২ই  জুলাই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন রাজউক। রাজউকের সচিব সুশান্ত চাকমার স্বাক্ষরিত সে নিষেধাজ্ঞার অনুুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করে রাজউক। যার স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০৩০.৩২.০০৪.১৭-১০০২(৩)। এরপরও কোম্পানি রাজউকের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কেবলমাত্র এলাকার মাস্তানদের সহযোগিতায় এখনো দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। এ ব্যাপারে ট্রাস্ট সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বড় প্রকল্প তৈরি করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি থাকবেই। তবে আমরা প্রকল্প এলাকায় জমি কিনেছি। প্রকল্প গড়ে তুলতে যারা বিরোধিতা করেছে কোম্পানি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ট্রাস্ট একটি সফল আবাসন প্রতিষ্ঠান। পূর্বাচলে এখন অবধি ৭শ’র অধিক প্লট বিক্রি হয়েছে আমাদের। সম্পূর্ণভাবে কিস্তি পরিশোধ ও এককালীন টাকা প্রদান করায় ২৫ জনকে ইতিমধ্যে প্লট রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তেরেসা মে’র চোখে তখন পানি

২৮শে মে শপথ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি

সরকার এত অমানবিক নয়

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

ধারণা পাল্টে দিতে চায় অভিজ্ঞ বাংলাদেশ

গান্ধী পরিবারের রাজনীতির সমাপ্তি?

দোহার-নবাবগঞ্জকে আধুনিক উপজেলায় পরিণত করবো

তৃতীয় দিনেও ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলাম

চট্টগ্রামে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘কিশোর গ্যাং’

বাংলাদেশে মানব পাচার রোধে কাজ করছে আইওএম

মোদির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

জৈন্তাপুরে এখন নয়া ‘ধান্ধা’ চোরাকারবার

ড্যাবের নির্বাচনে ডা. হারুন-সালাম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

ছয় শতাধিক কারখানায় বেতন বোনাস নিয়ে সমস্যা

এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন মেহেদী