অনুমতি পেলেই সিঙ্গাপুরে নেয়া হবে সুবীর নন্দীকে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৮
খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পাঠানো হয়েছে এগুলো। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই এয়ার এম্বুলেন্সে করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর মানবজমিনকে এসব তথ্য জানান জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। সপ্তাহখানেক ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন সুবীর নন্দী। বরেণ্য এই শিল্পীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবন যান চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

এই দলে কুমার বিশ্বজিৎ ছাড়াও ছিলেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম ও তপন চৌধুরী। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী সময় নিয়ে সুবীর নন্দীর শারীরিকঅবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে মানবজমিনকে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, শুক্রবার রাতেই সুবীর নন্দীর চিকিৎসার সব কাগজপত্র সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে, তাহলেই সুবীর নন্দীকে সেখানে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। কুমার বিশ্বজিৎ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই শিল্পীদের ব্যাপারে আন্তরিক। তার এই আন্তরিকতার প্রমাণ তিনি আমাদের বারবার দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি সবার খোঁজখবর যেভাবে রাখেন, তা ভেবে বিস্মিত হই। সমগ্র শিল্পীসমাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। প্রসঙ্গত, গত ১২ই এপ্রিল একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মৌলভীবাজার গিয়েছিলেন সুবীর নন্দী। অনুষ্ঠান শেষ করে ১৪ই এপ্রিল রাতে ট্রেনযোগে ঢাকায় ফেরার পথে কয়েকবার বমি করেন, গলায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন ও বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক থাকায় তার পরামর্শে সুবীর নন্দীকে নিয়ে পবিারের সদস্যরা ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তার কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট হয়। ৩ থেকে ৪ মিনিট সর্বাত্মক চেষ্টার পর তার হার্ট চালু হয় এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। তার হার্টে বাইপাস সার্জারি হয়েছিল।

কিডনির সমস্যাও রয়েছে তার। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয় তাকে। ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। ১৯৫৩ সালের ১৯শে নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় তার জন্ম। বাবার চাকরি সূত্রে শৈশব কেটেছে চা বাগানে। পরিণত বয়সে গানের পাশাপাশি চাকরি করেছেন ব্যাংকে। সিলেট  বেতারে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে। এরপর ঢাকা বেতারে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন সুবীর নন্দী। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ সিনেমাটি। সেই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ধীরে ধীরে সুবীর নন্দীর কণ্ঠের গান ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। চারবার পেয়েছেন বাচসাস পুরস্কার। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বারাত নিয়া’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’সহ অসংখ্য গান। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। ‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, ‘সুরের ভুবনে’, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ ছাড়াও ‘প্রণামাঞ্জলী’ নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবাম রয়েছে এ শিল্পীর।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন