‘চীনের বিআরআই উদ্যোগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় ঢাকা’

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৮
বেইজিংয়ে চলতি মাসে হতে যাওয়া মেগা ইভেন্ট বিআরআই দ্বিতীয় সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর সঙ্গে শুরু থেকেই বাংলাদেশ রয়েছে। ঢাকা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়, কারণ এটি বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড (ওবোর) পরবর্তীতে যার সংশোধিত নাম দেয়া হয় ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েভিট’ (বিআরআই)। এটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণার অনেক আগেই বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার মিলে নিজেদের মত করে চতুর্দেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর বিসিআইএম ঘোষণা করেছিল উল্লেখ করে ড. রিজভী বলেন, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল মূলত এক অঞ্চল, এক পথ (ওবোর)- এর ক্ষুদ্র সংস্করণ।

এ অঞ্চলের উন্নয়নে গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচীর জন্য বিআরআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূযোগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সব উদ্যোগের সঙ্গেই রয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফল বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৫-২৭ শে এপ্রিল বেইজিংয়ে বিআরআই’র দ্বিতীয় সম্মেলন হবে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক ওই সম্মেলনে বিশ্বের ৩৭ জন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে চীন। সেখানে প্রায় দেড় শতাধিক রাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। ৯০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধিস্থ থাকছে। তবে ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ওই আয়োজনে যোগদান প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। ভারত ও ভূটান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না।

শুরু থেকেই দিল্লি এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে থিম্পু দিল্লির পথেই হাঁটছে মর্মে খবর বেরিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশেরও একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রে খবর বেরিয়েছে চীনের ওই উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ থাকলেও আসন্ন বেইজিং সম্মেলনে দেশটির  প্রতিনিধিত্ব থাকছে। ওয়াশিংটন অবশ্য আভাস দিয়েছে যে উদ্বেগের মধ্যেও তাদের এ অংশগ্রহণ হবে নামমাত্র, জুনিয়র বা নিম্ন সারির প্রতিনিধি যোগ দিবেন সেখানে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা এক অঞ্চল, এক পথ উদ্যোগের ভিশন ও কর্মসূচিগুলোকে নিয়মিত এবং বিশেষভাবে তুলে ধরতে ঢাকায় স্বতন্ত্র ‘দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ম্যাগাজিন এর যাত্রা শুরু হলো। যার সূচনা সংখ্যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি আমন্ত্রিত ছিলেন। চীনা অর্থায়নে প্রচারিত ওই ম্যাগাজিনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সেলিনা মোহসিন। ঢাকায় নিযুক্ত চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স চেন ওয়ে, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মাদ আজিজুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এতে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, চীনের এক অঞ্চল, এক পথ উদ্যোগ বা বিআরআইকে বলা হচ্ছে এশিয়ার বিশ্বায়নের কর্মসূচি।

সবচেয়ে বেশি দেশ, বিপুল বিনিয়োগ এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যাকে সম্পৃক্ত করার ওই পরিকল্পনা একুশ শতকের বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প। চীনের টার্গেট প্রকল্পটি নিয়ে এশিয়াকে বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রীয় চালিকা শক্তিতে পরিণত করা। এ পরিকল্পনায় থাকছে সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক পুনর্জাগরণ যেমন একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক বন্দর, স্থলপথে আন্তসীমান্ত সড়ক, উচ্চগতির রেলপথ, বিমানবন্দর এবং ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ। এর সমান্তরালে থাকছে বিদ্যুতের গ্রিড, গ্যাসের পাইপলাইন এবং বাণিজ্য সহায়ক আর্থিক কার্যক্রম।

সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় ভারত, তবে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে: এদিকে বেল্ট এন্ড রোড ফোরাম বা বিআরএফ সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্তে ভারত অনড় রয়েছে জানিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে ওই বৈঠকের আগেই দিল্লির বিদেশসচিবের বেইজিং সফর হতে পারে। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে বেজিংয়ের ‘চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্প নিয়ে গোড়া থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। যার ছায়া পড়েছে বিআরআই এবং বিআরএফ সম্মেলনে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় চীন। ফলে বিদেশ সচিব বিজয় কেশব গোখলে বেইজিং সফরে গেলে এ নিয়ে কথা হতে পারে। শুক্রবার চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চায় তার দেশ। সিপিইসি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চীনের বিদেশমন্ত্রী বলেন, এটি কোনওভবেই কাশ্মীর সমস্যা জটিল করছে না। কোনও দেশের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করা কখনওই বেজিংয়ের উদ্দেশ্য নয়। এ জন্য ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওই সিপিইসি প্রকল্পের বিরোধিতা না করার আবেদনও জানিয়েছেন বেইজিং।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তেরেসা মে’র চোখে তখন পানি

২৮শে মে শপথ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি

সরকার এত অমানবিক নয়

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

ধারণা পাল্টে দিতে চায় অভিজ্ঞ বাংলাদেশ

গান্ধী পরিবারের রাজনীতির সমাপ্তি?

দোহার-নবাবগঞ্জকে আধুনিক উপজেলায় পরিণত করবো

তৃতীয় দিনেও ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলাম

চট্টগ্রামে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘কিশোর গ্যাং’

বাংলাদেশে মানব পাচার রোধে কাজ করছে আইওএম

মোদির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

জৈন্তাপুরে এখন নয়া ‘ধান্ধা’ চোরাকারবার

ড্যাবের নির্বাচনে ডা. হারুন-সালাম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

ছয় শতাধিক কারখানায় বেতন বোনাস নিয়ে সমস্যা

এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন মেহেদী