বাংলাদেশ দল ঘোষণা

তাসকিনের কান্না রাহীতে চমক

প্রথম পাতা

ইশতিয়াক পারভেজ | ১৭ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৯
এ যেন জীবনের প্রতিচ্ছবি। একদিকে হাসি, অন্যদিকে কান্না। ৮ বছর আগে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মাশরাফি। সে কান্নাই যেন এবার ভর করলো তাসকিনের কপালে। এমনিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে তেমন বড় কোনো চমক নেই। গতকাল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ১৫ সদস্যের দল ঘোষণ করেন। যে দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০১৫ শেষ আসরে যার  নেতৃত্ব দল খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার স্বপ্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা। এই দল ঘোষণার আগে অনেক নামই শোনা গেছে। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বিবেচনাতে সেরা দল দিয়েছেন বলে জানান প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হচ্ছে সুতরাং এখানে আমরা অভিজ্ঞতাকে বেশি মূল্যায়ন করেছি। আর ওখানকার কন্ডিশন উপমহাদেশ থেকে ভিন্ন। আমরা কিন্তু এক বছর আগেও ওখানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে এসেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করেই অভিজ্ঞ দল সাজানো হয়েছে।’

প্রধান নির্বাচক দলের শক্তি হিসেবে বার বারই বলেছেন অভিজ্ঞতার কথা। বলবেন না কেন!  যে দলের অধিনায়ক খেলবেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ। সেই সঙ্গে নেতৃত্ব দিবেন দ্বিতীয় বারের মত। ২০০৩ বিশ্বকাপ দলে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার খেলেছেন ২০০৭ ও ২০১৫ তেও। তবে নিজের দেশের মাটিতে ২০১১ তে দলে ছিলেন না ইনজুরির কারণে। দেশের হয়ে খেলেছেন ২০৫ ওয়ানডে ম্যাচ যেখানে বল হাতে তার শিকার ২৫৯ উইকেট। ব্যাট হাতে করেছেন ১৭৫২ রান। দলের পেস আক্রমনের অন্যতম ভরসাও তিনি। ২০১১ তে মাশরাফি দলে না থাকায় সেবার দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে এবার তিনি থাকবেন সহ অধিনায়ক হিসেবেই। এ নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী এই বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। দেশের হয়ে ১৯৫ ওয়ানডে ম্যাচে করেছেন ৫৫৭৭ রান। ৭ সেঞ্চুরর সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ৪০ ফিফটিও। দলের ব্যাটিংই নয় স্পিন আক্রমনের অন্যতম শক্তি তিনি। এখন পর্যন্ত এই বাঁহাতি স্পিনারের শিকার ২৪৭  উইকেট।

২০০৭ থেকে এবার নিজের টনা চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসাই তিনি। দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত  ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে এসেছে ১৮৯ ম্যাচে ৬৪৬০ রান। ১১ সেঞ্চুরি সঙ্গে ফিফটি  হাঁকিয়েছেন ৪৪ টি। তামিমের পর দলের আরেক ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহীম। এ নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে মাঠে নামবেন এই ৩২ বছর বয়সী উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। ২০১ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬ সেঞ্চুরি ও ৩২ ফিফটিতে ৫৩৯২ রান। তারপরই আছেন ২০১১ থেকে এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ খেলা অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার দেশের হয়ে ১৭১ ম্যাচে করেছেন ৩৬৭৬ রান। ২০ ফিফটির সঙ্গে তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। যার দুটিই করেছেন গেল ২০১৫ বিশ্বকাপে। এছাড়াও বল হাতে নিয়েছেন ৭৬ উইকেট। বলতে গেলে এই পাঁচ অভিজ্ঞ ও তারকা ক্রিকেটারের উপরই নির্ভর করছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দলের আশা ভরসা।

এছাড়াও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন দুটি বিশ্বকাপ খেলা পেসার রুবেল হোসেন। ২৯ বছর বয়সী এই পেসার ৯৬ ম্যাচে ১২২ উইকেট। এছাড়াও নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। এই দু’জনকেই দলের প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। ২৬ বছর বয়সী সৌম্য এখন পর্যন্ত ১২৭৪ রান করেছেন ২ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটিতে। তবে মোটেও ধারাবাহিক নন তিনি। এমনকি চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে লীগেও রানের দেখা পাননি এই ওপেনার। কিন্তু তার প্রতিভা বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচকরা দলে টেনে নিয়েছেন। এছাড়াও ২৭ বছর বয়সী সাব্বিরের একই অবস্থা। ৫৭ ম্যাচে ১২১২ রান করেছেন ১ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে।

অন্যদিকে ১৫ জনের মধ্যে প্রথম বারের মত দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন আরো ৭ ক্রিকেটার। তবে এরই মধ্যে দেশের ক্রিকেটে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন তারা। এর মধ্যে অন্যতম স্পিন ২১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে করেছেন ২৯১ রান। এছাড়াও উইকেট নিয়েছেন ২৫টি। মাশরাফির পর দলের পেস আক্রমনে আরেক ভরসা মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৩ ম্যাচে এই কাটার মাস্টারের শিকার ৭৭ উইকেট। ইংলিশ পেস কন্ডিশনে দলের তুরুপের তাসও বলা হচ্ছে তাকে। তাদের পরই আরেক প্রতিভা ২৪ বছর বয়সী ওপেনার লিটন কুমার দাসের। তামিম ইকবালের ওপেনিংয়ে সঙ্গী হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে তাকে। তবে সৌম্য ও সাব্বিরের মত তিনিও ধারাবাহিক নন। এখন পর্যন্ত ২৭ ম্যাচে ৫০১ রান করেছেন ১ সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে। হঠাৎ করেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন আরেক তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দীর্ঘ দিন ইনজুুরি কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছেন তিনি। দেশের হয়ে ২৩ বছর এই বয়সের তরুণ এখন পর্যন্ত খেলেছেন ২৪ ম্যাাচ। ৩৪১ রান করেছে  মাত্র একটি ফিফটিতে। বলার অপেক্ষা রাখেনা নিজেকে এখনো প্রমাণ করতে পারেননি তিনি।

এছাড়াও দলের আরেক ব্যাটিং ভরসা ভাবা হচ্ছে  ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিঠুনকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুন সফল এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান ১৫ ম্যাচ ৩৬০ রান করেছেন ৪ ফিফটিতে। তাই  প্রথম বিশ্বকাপে তার কাছে দলের প্রত্যাশা অনেক। এছাড়াও পেস আক্রমনে মাশরাফির আরেক ভরসা ভাবা হচ্ছে ২২ বছর বয়সী পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। আর এই বিশ্বকাপ দলে অন্যতম চমকের নাম এখনো ওয়ানডে অভিষেক না হওয়া ২৫ বছর বয়সী পেসার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহীকে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণ ও নতুনরা যদি দলের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে তাহলে হতে পারে এটি বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ।

অন্যদিকে শেষ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন ৮ ক্রিকেটার। তারা হলেন এনামুল হক বিজয়, আরাফাত সানি, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। এই বিশ্বকাপ দলে তাসকিনের সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে উজ্বল। কিন্তু ইনজুরির কারণে শেষ পর্যন্ত তার সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন অভিযোগের তীর সরকারের দিকে

সিরিজ খোয়ালো ইমার্জিং দল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন মোদি

মিয়ানমারেরও শক্তিশালী বন্ধু আছে: কাদের

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে: মিলার

শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাকচাপায় শ্রমিক নিহত

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের দায়ে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে, নিহত ৮

ধনাঞ্জয়া ১০৯, শ্রীলঙ্কা ২৪৪

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইফের সেঞ্চুরি

নাটোরে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

বঙ্গবন্ধুর কথা ষোলআনা অমান্য করা হচ্ছে: ড. কামাল

বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

প্রয়াত ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি

ইট-পাটকেল ছোড়ার খেলায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ