অ্যাসাঞ্জ দূতাবাসকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন- ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৯
ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাসকে ‘গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো। এ ছাড়া, অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিলে অন্য কোনো দেশের ইন্ধন নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বৃটিশ পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন মোরেনো। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইকুয়েডরের সাবেক সরকার অন্য রাষ্ট্রের কার্যক্রমে ‘হস্তক্ষেপ’ করার উদ্দেশ্যে তাদের দূতাবাসের ভেতরে সহায়তা প্রদান করতো। অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ‘যাচ্ছে-তাই অভিযোগ’ আনার অভিযোগ তুলেছেন। ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট মোরেনো দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের সাত বছরের আশ্রয় বাতিল করার কারণ সম্পর্কে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা তৈরি করার যেকোনো প্রচেষ্টাই ইকুয়েডরের জন্য নিন্দনীয়। কারণ আমরা একটি সার্বভৌম দেশ এবং আমরা অন্যান্য দেশের রাজনীতির সম্মান করি।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের বাড়িকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে পারি না।
এদিকে, অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বৃটিশ টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই-এ এক অনুষ্ঠানে বলেন, দূতাবাসের ভেতরে বৃটিশ পুলিশকে ঢুকতে দেয়ার বেআইনি এবং বিস্ময়কর সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে ইকুয়েডর গত কয়েকদিনে কিছু গর্হিত অভিযোগ এনেছে। তিনি আরো বলেন, অ্যাসাঞ্জ যে সন্দেহ করছিলেন যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে, তা আরো ঘনীভূত হয়েছে এই সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে আনা পেন্টাগনের কম্পিউটারে হ্যাক করার অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর। ২০১২ সালে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় ৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ ১২ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারেন। সুইডেনের হাতে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মি. অ্যাসাঞ্জ। সুইডেনে ধর্ষণসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ প্রায় ৭ বছর ইকুয়েডরের দূতাবাসে ছিলেন। লন্ডনে ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানিয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে তাদের হাতে তুলে দেন। এর আগে ইকুয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে দেয়। গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মোরেনো বলেছেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ-এর আচার-ব্যবহারের কারণে তাদের ধৈর্যের সীমা একেবারে শেষপ্রান্তে এসে ঠেকেছে। সমপ্রতি ভ্যাটিকান সম্পর্কিত কিছু দলিলপত্র ফাঁস করে দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন ইকুয়েডর-এর প্রেসিডেন্ট। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে এসব দলিলপত্র ফাঁস করা হয়। তিনি বলেন, এসব কাগজপত্র ফাঁস করার মাধ্যমে বিশ্ব নিশ্চিত হয়েছে যে উইকিলিকস-এর সঙ্গে অ্যাসাঞ্জ-এর এখনো সম্পর্ক আছে এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করছে। ইকুয়েডর-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানেও তিনি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, অ্যাসাঞ্জ দূতাবাসের ভেতরে স্কেটবোর্ডিং করতেন এবং ফুটবল খেলতেন। এ নিয়ে তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা করেছেন। ইকুয়েডর দূতাবাস সাত বছর তাকে আশ্রয় দিলেও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন না। বরং ইকুয়েডর দূতাবাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তার ওপর নজরদারি করছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পাকিস্তানে নারী জঙ্গির আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৮

প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা না শুনে মামলা নয়: ওবায়দুল কাদের

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

প্রিয়া সাহার বক্তব্য: মার্কিন দূতাবাসেরই দূরভিসন্ধি

দেশের সুনাম সংকটে ফেলাই উদ্দেশ্য: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

মিন্নির জামিন আবেদন না মঞ্জুর

ঢাবির ভবনে ভবনে তালা, ক্লাস বর্জন

ব্রেস্ট ক্যান্সারে নতুন ওষুধ

মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার বিচ্ছেদ নিয়ে ক্লাইম্যাক্স

হিউম্যানস অব আসাম- পর্ব ১

পুলিশ যেভাবে বলতে বলেছে সেভাবেই বলেছি, বাবাকে মিন্নি

কায়রোতে ৭ দিনের জন্য ফ্লাইট স্থগিত বৃটিশ এয়ারওয়েজের

বাড্ডায় নিহত নারী ছেলেধরা ছিলেন না, ৪০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নিজ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আহত ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওয়াশিংটন গেলেন ইমরান খান