কটিয়াদিতে রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি

তৃতীয় ধাপেও ভোটার খরা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ মার্চ ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫১
উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের তৃতীয় ধাপেও ভোটারের তেমন সাড়া মেলেনি। দিনভর ভোটারদের অপেক্ষায় সময় পার করেছেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। কোনো কোনো এলাকার ভোটারশূন্য কেন্দ্রের ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখার প্রমাণ পেয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার ভোট স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশন। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় রাতেই ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এ অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসপি ও থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাতেই ভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন উপজেলায়। এসব অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন অনেক প্রার্থী।
হামলা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন উপজেলায়। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ভোট জালিয়াতি রুখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন একজন পুলিশ কনস্টেবল। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়াসহ নানা জালিয়াতির অভিযোগে বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

গতকাল ১১৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারে হাতে গোনা। যদিও গতকাল বিকালে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সমেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ভোটের হারের বিষয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এর আগে উপজেলা পরিষদের প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। যদিও নির্বাচন কমিশনের হিসেবে ভোট পড়ে ৪২ শতাংশের মতো। তৃতীয় ধাপের ভোটে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় সকাল থেকে প্রায় সব কেন্দ্র ছিল ভোটার শূন্য। পূর্ব চন্দনাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জোর করে ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল মারার ঘটনা ঘটে। বাধা দিতে গেলে গুলিবিদ্ধ হয় এক কনস্টেবলসহ পুলিশের ছয়জন সদস্য।

এছাড়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলাও ছিল প্রায় ভোটারশূন্য। কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগে ভোট বর্জন করেন আওয়ামী লীগের একজন ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থক ছাড়া তেমন কাউকে ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি। ভোট নিয়ে উদ্বেগ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়াতেও। লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলার ভোট ছিল নীরব-সুনসান। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সারা দিন ধরে ভোটারের অপেক্ষায় ছিলেন প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা। কিন্তু ভোটারের দেখা মিলেছে কদাচিৎ। মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় ইভিএমে ভোট হলেও সেখানে ছিল ভোটারদের অনুপস্থিতি। দৌলতপুর উপজেলায় ভোট বর্জন করেছেন দুই প্রার্থী। একটি কেন্দ্রে সিল মারার অপরাধে আটক হন একজন সহকাীর প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলাম। বরিশাল সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস- চেয়ারম্যান আগেই নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় ভোট ছিল নিরুত্তাপ। ভোটের প্রথম আড়াই ঘণ্টায়ও কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট পড়েনি। কক্সবাজারে উখিয়ায় কারচুপি ও অনিয়মের অভিয়োগ এনে ভোট বর্জন করেন তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেহেরপুরের গাংনীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭ জন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জও ছিল প্রায় ভোটারশূন্য। জালভোট ও ব্যালট পেপারে জোর করে সিলমারার অভিযোগে আটক করা হয় ছয়জনকে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তিন ঘণ্টায়ও একটি ভোট পড়েনি কোনো কোনো কেন্দ্রে। তবে ভোট শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ১৪টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। একটি উপজেলার পুরো ভোটই স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পারসেনট্যান্স কত হলো এটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বিষয়টা হলো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা।

ইসি সচিবের কাছে উপজেলায় ভোটের হার কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন বলেছেন অনেকেই (দল) নির্বাচন করে নাই (অংশগ্রহণ করেনি)। প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় রাঙ্গামাটি জেলা বাদ দিয়ে ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাঙ্গামাটির ফলাফল যদি আমরা পাই, তাহলে গড়ে আমাদের মনে হয় ৪৫ শতাংশ হবে। আর তৃতীয় ধাপে আমরা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করছি। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, একটি রাজনৈতিক জোট নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা কিন্তু ভোটে আসেনি। অপরদিকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসার জন্য তাদের প্রচারণা আছে। এসব আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। পারসেনটেন্স ইজ নট দ্যা মেটার। পারসেনটেন্স কত হলো এটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের বিষয়টা হলো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা- নির্বাচন কমিশন এমন বলেছেন। গত দুই দফায় ভোটের হার কম হওয়ায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, আমাদের দেশের কোনো আইন নেই, যে কত শতাংশ ভোট দিতে হবে বা গ্রহণযোগ্যতার জন্য কত শতাংশ ভোট পড়তে হবে।

ইসি সচিব বলেন, কটিয়াদিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত করে আরো কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ কনস্টেবল মারাত্মক আহত হয়েছে। তিনি তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার আর্টারি ছিঁড়ে যাওয়ায় রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হেলিকপ্টারে করে এনে ভর্তি করানো হয়েছে। কেননা, অন্য কোথাও এই চিকিৎসা নেই। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন মনে করছেন, মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর ও মেহেরপুর সদর এই চারটি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

এতে মোট ৩৪০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ২১৩টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। প্রযুক্তি সহায়তায় ভোটগ্রহণ করায় এসব কেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ কেউ পায়নি। মানুষ ইভিএমে ভোট দিয়ে আনন্দ পেয়েছে। বিকাল চারটায় ভোট শেষ হওয়ার দেড়ঘণ্টা পরেও কেন ইভিএমের ফলাফল জানানো যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ভোট শেষ হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ইভিএমের ফলাফল প্রিন্ট দিতে পারি। কিন্তু ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে বিকাল ৪টার পরও ভোটার থাকেন। আইন অনুযায়ী, তাদের ভোট নিতে হয়। এছাড়া ফলাফল সমন্বয় করে কেন্দ্রগুলো থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতেও কিছুটা সময় লাগে। তাই একটু বিলম্ব হয়। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩১শে মার্চ চতুর্থ ধাপের এবং ১৮ই জুন পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। গত ১০ই মার্চ প্রথম ধাপে এবং ১৮ই মার্চ দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়।

কটিয়াদীতে রাতে ভোট, নির্বাচন স্থগিত  অ্যাডিশনাল এসপি ও ওসি প্রত্যাহার
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ ও কটিয়াদি প্রতিনিধি জানান, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখা হয়। রাতের এই ভোটে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন। গতকাল সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে রাতের এই ভোটের খবর আসতে থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রথমে উপজেলার চারটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয় রাতের ভোটে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনকে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি কেন্দ্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে আরো বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে রাতে ভোটের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের সবকটিতেই ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, রাতেই কিছু দুষ্কৃতকারী ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে রেখে দেয়। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের সবকটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেয়া হয়।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে নির্বাচনের আগের রাতে কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ও মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চারটি কেন্দ্রে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনের উপস্থিতিতে ব্যালট পেপারে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপী’র নৌকা প্রতীকে সিল মারা হয়। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- চান্দপুর ইউনিয়নের চান্দুপর বড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চান্দপুর হাজীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল বাগহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও চাতল বাগহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ভুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ আরো বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়। গতকাল সকাল ৮টায় নির্বাচন শুরু হওয়ার পর পরই এসব কেন্দ্রে রাতে ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার আলামত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় অ্যাকশনে যায় ইসি।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে চান্দপুর ইউনিয়নের চান্দুপর বড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চান্দপুর হাজীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল বাগহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও চাতল বাগহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এই চারটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্থগিত করা হয় করগাঁও ইউনিয়নের ভুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনকে। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলামকে বরিশালে বদলি করা হয় এবং কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য আরো বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে রাতের ভোটের সত্যতা মিললে এই উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান, রাতে কেবা কারা সিল মেরেছে এবং ব্যালট পেপারে সিল মারা দেখা গেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনকে প্রত্যাহার করা হয়। তদন্তের পর এর সত্যতা জানা যাবে। তবে এরই মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলামকে বরিশালে বদলি এবং কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীনকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা), জাকের পার্টির প্রার্থী শহীদুজ্জামান স্বপন (গোলাপ ফুল), আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন মো. আলী আকবর (দোয়াত-কলম), আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলতাফ উদ্দীন (মোটর সাইকেল) ও ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার আনার (আনারস)। এই উপজেলার মোট ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ জন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Sarwar

২০১৯-০৩-২৫ ২১:৫২:০৬

Nobody believes that liar CEC. But why A. league is not going to the booth?

Kazi

২০১৯-০৩-২৪ ২১:১৬:২৪

Vote is now controlled by police departments. They manipulate everything in most centers where opposition is slightly weaker

আহমেদ

২০১৯-০৩-২৪ ১৭:৩১:৪৫

এ জন্য দুষ্কৃতকারী দুজন পুলিশ সদস্য যেন পদক না পায়।শুধু বদলিতে এদের শায়েস্তা করা যাবে?সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে এ ধরনের অপরাধ কেউ করার সাহস পাবে না।

Kazi

২০১৯-০৩-২৪ ১৫:৫০:০৫

কারও মরার সাধ নাই। বিপক্ষে ভোট দিলেই প্রভাবশালী প্রার্থীর লোক (আওয়ামিলীগ বা বিদ্রোহী নির্বিশেষে) ভোটারের উপর চড়াও হয়, কুপিয়ে মারে, বাড়ি ভাঙ্গচুর করে। স্বয়ং সরকারী দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েও । সরকার ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নিজ দলের লোক এসব করলে নীরব দর্শক হয়। পৃষ্টপোষকতাও করে। প্রশাসন তোষামোদ করে ভোটারের নিরাপত্তা তো দেয়ই না বরং আক্রমন কারিকে সাহায্য করে আক্রান্তকে হয়রানি করে। তাই জনগণ নির্বাচন বিমুখ ।

আপনার মতামত দিন

পাকিস্তানে নারী জঙ্গির আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৮

প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা না শুনে মামলা নয়: ওবায়দুল কাদের

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

প্রিয়া সাহার বক্তব্য: মার্কিন দূতাবাসেরই দূরভিসন্ধি

দেশের সুনাম সংকটে ফেলাই উদ্দেশ্য: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

মিন্নির জামিন আবেদন না মঞ্জুর

ঢাবির ভবনে ভবনে তালা, ক্লাস বর্জন

ব্রেস্ট ক্যান্সারে নতুন ওষুধ

মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার বিচ্ছেদ নিয়ে ক্লাইম্যাক্স

হিউম্যানস অব আসাম- পর্ব ১

পুলিশ যেভাবে বলতে বলেছে সেভাবেই বলেছি, বাবাকে মিন্নি

কায়রোতে ৭ দিনের জন্য ফ্লাইট স্থগিত বৃটিশ এয়ারওয়েজের

বাড্ডায় নিহত নারী ছেলেধরা ছিলেন না, ৪০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নিজ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আহত ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওয়াশিংটন গেলেন ইমরান খান