থমথমে পাহাড় গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

প্রথম পাতা

আলমগীর মানিক, রাঙ্গামাটি থেকে | ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:২১
সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিলাইছড়ি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গুলিতে নিহত হয়েছেন। এই দুই ঘটনায় থমথমে পাহাড়ি জনপদ। আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের ধারণা- এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ ও সন্তু লারমার  নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি জেএসএস। নারকীয় এ ঘটনার সার্বিক বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে তুলে আনতে ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামস্থ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একজন ডিডিএলজি’র নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্রমতে, পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘাতে গত ১৫ মাসে অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। কয়েক বছর সমঝোতার ভিত্তিতে চললেও গত ২০১৭ সালের ৫ই ডিসেম্বর থেকে পাহাড়ের দুই জেলা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক দলগুলো সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির নয় মাইল এলাকায় ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ আট জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কুমার তংচঙ্গ্যাকে তার সন্তানের সামনে থেকে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে জেএসএস নামধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এদিকে পরপর দুটি সশস্ত্র হামলায় আটজনকে পাখির মতো গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি সমপ্রদায়সহ রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ঘটনায় জড়িত আঞ্চলিক দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধরতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর সদস্যরা শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযানে নামবে বলে জানিয়েছে সেনা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হতাহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে বাঘাইছড়িতে ছুটে যান রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। মঙ্গলবার সকালে রাঙ্গামাটি থেকে রওয়ানা হয়ে বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থল নয়কিলো এলাকাটি সরজমিন পরিদর্শনসহ বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রাঙ্গামাটির  জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, আনসার ব্যাটালিয়ন পরিচালক আবদুল আওয়ালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এসময় ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানানো সহ এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে বলে হতাহতদের স্বজনদের আশ্বস্ত করেছেন তারা। এদিকে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাঘাইছড়ির নয়কিলো নামক স্থানটিসহ সন্ত্রাসীদের আধিপত্যে থাকা এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি জানিয়েছে হতাহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে মতবিনিময় সভা শেষে নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। এর আগে, মঙ্গলবার সকালে বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থলের আশেপাশে সবগুলো পাহাড়ি এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথবাহিনী। সকাল থেকে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন।  

এদিকে জেএসএস-ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ পাহাড়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিগগিরই চিরুনি অভিযান না চালালে লাগাতার হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বাঙালি সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি শহরে এবং বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছে তারা।
জানা গেছে, নিহত আট জনের মধ্যে ৬ জনের মরদেহ খাগড়াছড়ি  জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে, ঐ ঘটনায় আহত ১৭ জনের মধ্যে আশঙ্কাজনক সাতজনকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সিএমএইচে আনা হয়েছে। বাকি ১০ জন চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে গঠিত সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা হলেন- ১. পরিচালক, স্থানীয় সরকার (অতিরিক্ত সচিব), চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম, ২, ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের প্রতিনিধি (অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদা) ৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদা), ৪. পরিচালক ও ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক, ৩০ আনসার ব্যাটালিয়ন, ফয়’সলেক, চট্টগ্রাম, ৫. সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি,  সেক্টর সদর দপ্তর, রাঙ্গামাটির প্রতিনিধি (মেজর পদমর্যাদা)। ৬. মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, রাঙ্গামাটি  জেলা পরিষদ, ৭. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাঙ্গামাটিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই ঘটনার কারণ ও করণীয় নির্ধারণ, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে সুপারিশসহ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

গুলিতে বিলাইছড়ি আওয়ামী লীগ সভাপতি নিহত: রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছেন  বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তংচঙ্গ্যা। এ ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হন। নির্বাচনী অনুষ্ঠান শেষ করে ফারুয়া থেকে বিলাইছড়ি উপজেলা সদরে ফেরার পথে মঙ্গলবার সকাল নয়টায় কোনিয়াপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ভোট শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৭ জন।   

মঙ্গলবার সকাল নয়টার সময় বিলাইছড়ির ফারুয়া থেকে ফেরার পথে জেএসএস-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মূছা মাতব্বর। তিনি জানিয়েছেন, এই হামলায় এখনো পর্যন্ত ঠিক কতজন আহত হয়েছেন এটা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারছি না। সকলকেই রাঙ্গামাটিতে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে পরপর দু’দিন রাঙ্গামাটির দুই উপজেলায় সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল দশটায় রাঙ্গামাটি  জেলা শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কেন্দুয়ায় পানিতে পড়ে ৩ শিশুর মৃত্যু

নববধূকে সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকার অভিযোগ, মামলা

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপির বাকিরাও শপথ নেবেন : হানিফ

লাবণ্যকে বহনকারী মোটরবাইক চালক আটক

সরকারের চাপে শপথ নিচ্ছে বিএনপির নির্বাচিতরা

‘গেট আউট’ মোকাব্বির যোগ দিলেন গণফোরামের কাউন্সিলে

‘সাংগ্রি-লা হামলায় নিহত হয়েছে জাহরান হাশমি’

শ্রীলঙ্কায় হামলার আশঙ্কা, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা না করার আহ্বান

নড়াইলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

ইরাকে ৪৫ বাংলাদেশী শ্রমিক উদ্ধার

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল

কথিত বাংলাদেশী অভিবাসী ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ

‘মাসের ত্রিশ দিনই ক্যামেরার সামনে থাকতে হচ্ছে’

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতিকে শোকজ

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত