বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। দেশে যদি কোনো মার্শাল ল’ জারি হয়, অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করে, তখন তারা খুব শান্তিতে থাকে। কারণ তারা ক্ষমতার বাতাস পায়। সে আশায় তারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। বাঙালির ওপর পাকিস্তানিদের দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ের মতো এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ৬৪ নম্বর ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭ জন নিহতের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তিনি নেতৃত্ব দেন। মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেয়া জাতি বিশ্বের মধ্যে কেবল বাঙালিই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের সব থেকে গৌরবের, ভাষার জন্য রক্ত দেয়া। সেই মাতৃভাষার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতিকে নিঃশেষ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, এমনকি এ জাতির অস্তিত্বেই বিশ্বাস করতো না। সেজন্য তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কোনো উন্নতি-অগ্রযাত্রা হয়নি এদেশের। আর যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারলো, তখনই দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে। সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই জনগণের প্রতি। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে যে অত্যাচার-হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তা একাত্তর সালের হানাদারদের মতো বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে তাদের সে তাণ্ডব, জঙ্গিবাদী আচরণ, আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা- সেই ভয়াবহ স্মৃতি সবার মনে আছে। তাদের জনগণ ভোট দেবে কেন? ৫০০ এর মতো মানুষ মারা গেছে। যারা মানুষ পুড়িয়েছে, তাদের জনগণ ভোট দেয়নি। যারা নির্বাচনের মনোনয়ন নিলামে উঠিয়েছে, একটি দেশের হাইকমিশন থেকে মনোনয়ন নিতে হয়েছে যাদের, তাদের জনগণ ভোট দেয়নি। সবথেকে বড় কথা হলো, তারা যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দিয়েছে।

এদেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবে না, দেয়নি। টানা তিনবারের মতো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তর করবো। ভাষা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষায় কথা বলা আমাদের জন্মগত অধিকার। কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। তাই তো যখনই এই অধিকারের ওপর আঘাত এসেছে তখনই বাঙালি প্রতিবাদ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো জাতিকে দুর্বল করতে হলে শত্রুপক্ষ প্রথমে তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির ওপরে আঘাত হানে। পাকিস্তানিরাও তাই করার চেষ্টা করেছিল। আমাদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য পূর্ব বাংলার মানুষের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তখন পাকিস্তানের চেয়ে পূর্ব বাংলার জনসংখ্যা ছিল বেশি। অথচ দেশভাগের পর পরই পাকিস্তানের করাচিতে যখন সম্মেলন হয় তখন সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, উর্দু ভাষা হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এ সিদ্ধান্তের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও গর্জে উঠেছিল। শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। তাদের ভোটের মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে।

আমরা বাংলার মানুষকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্তি দিতে কাজ শুরু করেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায় সেভাবে আমরা দেশকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দেশের মানুষের সহযোগিতা পেলে ২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা উপহার দিব। এজন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা প্রণয়ন করেছি এবং এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি। মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ধুমধাম করে পালন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, মহানগর নেতা একেএম রহমতুল্লাহ, সাদেক খান ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা মেরিনা জাহান কবিতা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

golamgopal

২০১৯-০২-২৩ ০৩:৫১:৫২

চকবাজারের মতো অতি পুরানো জায়গার দিকে নজর দিলে সেটাতো বিদেশিদের কাছে দৃশ্যমান হবেনা।সে জন্যে আকাশের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে লোসেঞ্জেল্স শহর মনে করতে পারে। অন্যদিকে দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে নিমতলী আর চকবাজারের কয়েকশো লোক মারা গেলে গেছে আরকি।মরলে লক্ষ টাকা কোনো রকমে বাঁচলে পঞ্চাশ হাজার তো মরবেনা কেন মানুষ?

Saad

২০১৯-০২-২২ ১১:৩৫:৫৪

মানুষের ভাল দেখলে তাদের চোখে বেদনা করে

আপনার মতামত দিন

মধুর ক্যান্টিনের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের ৫ জনকে বহিষ্কার

গণমাধ্যমের অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হবে: মান্না

৩৬ লক্ষ টাকার অগ্রিম চেক লিখিয়ে নিলেন গৌরনদী উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান

জরিপকে আমল না-দিয়ে জোটে নজর বিরোধীদের

ভারতে শেয়ার বাজারে রেকর্ড উলম্ফন

চাল আমদানি বন্ধের সুপারিশ

পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আমরা: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির কারণেই ধানের দাম পাচ্ছেন না কৃষক

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দিলো পুলিশ সদস্য

চট্টগ্রাম চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন তরফদার মো.রুহুল আমিন

জাবির শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে বিতর্কিত ধারা, নিন্দার ঝড়

ফুলবাড়ীতে ভিজিডি’র সঞ্চয়ের দেড় কোটি টাকা গায়েব, কর্মকর্তা উধাও

মাদারীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় শিশু নিহত, মহাসড়ক অবরোধ!

রূপপুরে বালিশসহ আসবাব কেনার তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

কৌশল নির্ধারণে কলকাতায় আসছেন চন্দ্রবাবু, বৈঠক করবেন মমতার সঙ্গে

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রুমিন ফারহানা