শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর

দুর্ঘটনা, না হত্যা?

অনলাইন

সাজেদুল হক | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১১:০৯ | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৬
মৃত্যুর মিছিল চলছে। মারা যাচ্ছে মানুষ। বেরুচ্ছে একের পর এক লাশ। আমাদের চোখের সামনেই। আমরা কিছুই করতে পারছি না। ফায়ার সার্ভিস রাতভর চেষ্টা করেছে। লড়াই করেছে জীবনবাজি রেখে। এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু যা হওয়ার তা হয়েই গেছে।
এ যেন সবারই জানা ছিল। দিনটি আসবে। কেবল কবে আসবে তা হয়তো আমরা জানতাম না। অপেক্ষা করেছি। একটি অক্ষম এবং বিস্মৃতিপরায়ন জাতির অপেক্ষা। ৯ বছর পর সেই রাত আবার ফিরে এলো। নিমতলি ট্রাজেডির পর কত কথা হলো। কত আওয়াজ। শোক, কান্না। নাজিম হিকমত লিখে গেছেন, বিংশ শতাব্দিতে মানুষের শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর। কিন্তু আমাদের শোকের আয়ু আসলে আরো কম। আমরা সবকিছু মেনে নিতে এবং মানিয়ে নিতে শিখে গেছি।
নিমতলি থেকে চকবাজার। কত কাছে। নিমতলিতে শতাধিক প্রাণহানির পর এ দাবি জোরেশোরে ওঠেছিল যে রাসায়নিক গুদামঘরগুলো সরিয়ে নিতে। নানা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। নিরাপদ ঢাকা। এ যেন রীতিমতো পরিহাস। আরেকটি কালোরাত এটা পরিষ্কার করে দিয়ে গেছে যে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গুটিকয়েক লোকের সীমাহীন লোভের কাছে তুচ্ছ অগণিত মানুষের জীবন। এমনকি সময় আর সভ্যতাও বোধ হয় নতুন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে। সবকিছুই যেন এখন স্বাভাবিক। সকালেই ঢাকায় অনেক মানুষের চোখের ভাষার পড়ার চেষ্টা করলাম। গণপরিবহনে, রাস্তায় মানুষের চোখে-মুখে শোকের ছায়া খুব বেশি নয়। অথচ এই শহরে একরাতে এতগুলো মানুষ নাই হয়ে গেল। ‘আব্বা, এনামুল পুইরা মইর‌্যা গেছে’- এই এনামুল আমাদের যেকারও বাবা, ভাই হতে পারতো। আছিয়া বেগমের ভাইকে আমরা কেউই আর ফিরিয়ে দিতে পারবো না।
শোকের মিছিল যে নেই তা নয়। স্বজনহারাদের কান্নার বাইরেও বহু মানুষ শোকাতুর। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আলী রীয়াজ লিখেছেন, এত মৃত্যু! সহজেই নিবার্য ছিল এই সব প্রাণহানি। কিন্তু এই  লেলিহান শিখা কি কেবল আগুনের? এই লেলিহান আগুনের আলোয় কি আর কিছুই  দেখা যাচ্ছে না? ২০১০ সালের ৩রা জুন নিমতলির আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যুর পরে যে তদন্ত কমিটি হয়েছিল তার কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছিল আমরা জানি না, কিন্তু মনে পড়ে একদিন জাতীয় শোক দিবস পালনের কথা। এর বেশি আর কিছুই হয়েছে বলে মনে হয় না। ৬ই জুন ২০১০, ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল, ‘কেবল শোক দিবস পালন নয়, সময় এসেছে আমাদের জাতীয় জবাবদিহি দিবস পালনের; কেননা জবাবদিহির অনুপস্থিতিই জাতিকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে’।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর রাজী লিখেছেন, একুশ মানে মাথা নত না করা? ঢাকার চকবাজারে এতগুলো মৃত্যুর জন্য কেউ কি দায়ী? কে বা কারা দায়ী? কে কে বা কারা দায়িত্ব পালন না করায় এমন বিপুল প্রাণহানি হলো? সম্পদহানি হলো? কে বা কারা এ দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করে, ক্ষমা চেয়ে, পদত্যাগ করবে? কাকে বা কাদের আমরা এই অপরাধ ও অযোগ্যতার জন্য বিচারের সম্মুখীন হতে এবং শাস্তি পেতে দেখবো? না কি  দেখবো নতুন কোনো নাটক মঞ্চস্থ হতে? ক্ষমাহীন ঘৃণা ছাড়া আমাদের অন্তরে তাদের জন্য আর কিছু কি অবশিষ্ট আছে, না কি থাকতে পারে?
শেষ কথা: এ এমন এক সময় যখন প্রার্থনা ছাড়া আমাদের আসলে খুব বেশি কিছু করার নেই। আসুন, নিহত আর তাদের স্বজনদের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। শোকের আয়ু শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই হতভাগাদের কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

৩৬ লক্ষ টাকার অগ্রিম চেক লিখিয়ে নিলেন গৌরনদী উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান

জরিপকে আমল না-দিয়ে জোটে নজর বিরোধীদের

ভারতে শেয়ার বাজারে রেকর্ড উলম্ফন

পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আমরা: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির কারণেই ধানের দাম পাচ্ছেন না কৃষক

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দিলো পুলিশ সদস্য

চট্টগ্রাম চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন তরফদার মো.রুহুল আমিন

জাবির শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে বিতর্কিত ধারা, নিন্দার ঝড়

ফুলবাড়ীতে ভিজিডি’র সঞ্চয়ের দেড় কোটি টাকা গায়েব, কর্মকর্তা উধাও

মাদারীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় শিশু নিহত, মহাসড়ক অবরোধ!

রূপপুরে বালিশসহ আসবাব কেনার তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

কৌশল নির্ধারণে কলকাতায় আসছেন চন্দ্রবাবু, বৈঠক করবেন মমতার সঙ্গে

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রুমিন ফারহানা

মির্জা ফখরুলের সংসদে যোগদান আবশ্যক ছিল: কাদের

মুসলিমদের ওপর সহিংসতা, স্থগিত শ্রীলংকা-পাকিস্তান বাণিজ্য

গ্লোবাল মিডিয়া এওয়ার্ড জিতলেন হেলসিঙ্গিন সানোমা