বইমেলায় কেনাকাটার ধুম

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৩
তখন ঘড়ির কাঁটা সাড়ে তিনটার ঘরে। এ সময় মেলা ছিল কিছুটা ফাঁকা। কিন্তু ঘণ্টা খানেক পরেই লোকজনে সরগরম একুশে গ্রন্থমেলা। অনেক আনন্দ-উদ্দীপনা নিয়ে বই কিনেছেন সবাই। শেষ দিকে এসে সব স্টলেই চলছে ধুম বিক্রি।
এবারের একুশে গ্রন্থমেলার ২০তম দিন গতকাল দেখা গেল বইপ্রেমীরা রাত অবধি মেলার স্টলে স্টলে ঘুরে কিনেছেন পছন্দের বই। কেউ একা, আবার কেউ দল বেঁধে এসেছিলেন। প্রকাশকরা জানালেন, আগের তুলনায় বিক্রির চিত্রটা খুবই ভালো যাচ্ছে। এখন আর কেউ ঘাঁটাঘাঁটি করছেন না, বই কিনছেন। আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। এই উপলক্ষে মেলার সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   
বইপ্রেমী কয়েকজন বলেন, এখন দেখাদেখির সময় নেই, বই কিনছি। ঐতিহ্য প্রকাশনীর সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুমানা সাথীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এর আগে কয়েকবার মেলা ঘুরে দেখে গেছি। এখন আর ঘুরার সময় নাই। আজ একগুচ্ছ বই কিনলাম। আরো বই কেনার ইচ্ছা আছে।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয় কর্মী আমিনুল হক বলেন, আসন্ন দিনগুলোতে ভালো বিক্রির আশা করছি। এখন যারা আসছেন, জেনেশুনেই আসছেন। একই সুর শোনা গেল অন্যপ্রকাশের বিক্রেতা মাজহারুল ইসলামের কণ্ঠে। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শেষ সময়ে ক্রেতার ভিড় যেমন থাকুক না কেন, বিক্রির চিত্রটা ভালো থাকে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী জাহিদ হাসান বলেন, প্রতিবছরই মেলায় শেষ দিকে বই বিক্রি বেশি হয়। অনেকে শেষ দিকে বই কেনার জন্য পরিকল্পনা করেন। সে হিসেবে গত দুই দিন থেকে বইপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
মেলায় যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই বই কিনে ফিরছেন। পছন্দের বই কেনার জন্য কুমিল্লা থকে এসেছেন ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র শাহীন। তিনি বলেন, মেলায় আসার পরিকল্পনা করেছিলাম শুরু থেকেই। কিন্তু ক্লাস শিডিউলের কারণে আসা হয়নি। অবশেষে মেলায় আসলাম। খুব ভালো লাগছে। এটা অন্য এক পরিবেশে। এই পরিবেশ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বেশ কয়েকটি বই কিনেছি। আরো কিছু কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাজেট কম থাকার কারণে আর হলো না। তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সোহরাব হাসান বলেন, মেলার আর বেশি দিন নেই। গত দুই দিন ধরে বিক্রি বেড়েছে। যারাই আসছেন সবাই কিছু না কিছু বই কিনছেন।
আজ  ২১শে ফেব্রুয়ারি। এ উপলক্ষে গ্রন্থমেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঠক-দর্শনার্থীতে জমে উঠবে বইমেলা। থাকবেন লেখকরাও। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ঢল নামবে প্রাণের এই মেলায়। তবে গতকালও অসংখ্য পাঠক-দর্শনার্থী এসেছেন। কয়েকজন পাঠকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বই কিনতে এসেছেন। আজও আসবেন তবে বইকেনার কাজটা গতকালই সেরে ফেলেছেন। অনেককে দেখা গেছে  বইয়ের তালিকা ধরে স্টলের সন্ধান করতে।
গতকাল নতুন বই এসেছে ১৩৮টি। গতকাল পর্যন্ত নতুন বই জমা পড়েছে দুই হাজার ৮২৯টি বই। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশুসাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়। বাংলা একাডেমির হিসাবে, গত ১৫ তারিখ পর্যন্ত বই জমা পড়েছে, গল্প ৩১৮টি, উপন্যাস ৩২৬টি, প্রবন্ধ ১১৯টি, কবিতা ৬০২টি, গবেষণা ২৯টি, ছড়া ৪৫টি, শিশুতোষ ৫৬টি, জীবনীগ্রন্থ ৬১টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ৫২টি, নাটক ১৬টি, বিজ্ঞানবিষয়ক বই ৩০টি, ভ্রমণকাহিনী ৩৩টি, ইতিহাসমূলক ৩০টি, রাজনীতিবিষয়ক ১৯টি, চিকিৎসা সংক্রান্ত ১২টি, রম্য ১৪টি, ধর্মীয় ৮টি, অনূদিত বই ১০টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ২৩টি এবং বাকিগুলো অন্যান্য। মেলার ২০তম দিনে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ১৮টি বইয়ের। গত ১৯ দিনে প্রায় সাত শতাধিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় বইমেলার এই মঞ্চে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভোট গণনায় কারচুপি ঠেকাতে ইসি’র দ্বারস্থ মোদি বিরোধী জোট

প্রেমিকার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার

বুথ ফেরত জরিপে মোদির জয়, বিরোধীদের তোড়জোড়

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণ মামলায় প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন

সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবিতে নাটোরে বিএনপির স্মারকলিপি

সারাদেশের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

গাজীপুর সিটির ১৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র বৈধ

হুয়াওয়ের ওপরকার বিধিনিষেধ শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

১০ গ্রামের মানুষের ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো

দেশে ফিরেছেন ভূমধ্যসাগরে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১৫ বাংলাদেশি

শাহজালালে সোয়া তিন কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ, যাত্রী আটক

ইউরেনিয়াম উৎপাদন ৪ গুণ বাড়িয়েছে ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা

বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী জারিনের আত্মহত্যার চেষ্টা!

বিশ্ববিদ্যালয় পালানো শিক্ষকরা

ধনবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনে অন্তসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু