জিয়া স্মৃতি জাদুঘর নামফলকে কালি

চট্টগ্রামে আন্দোলনের ঘোষণা বিএনপির

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ঢেকে দেয়া, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর নামফলকে কালি লাগানো এবং এই জাদুঘরকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে দেড় মাস পর কারামুক্ত মহানগর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সমপাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ইস্যু করে এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সমপাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক। শাহাদাত হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবের পর ১২ই ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্রফোরাম নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলকে প্রকাশ্যে কালি লাগিয়ে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলে। তারা শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীর ছবি-সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ঢেকে দেয়। অথচ জাদুঘর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিল তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া।
আমরা পুলিশকে অনুরোধ করছি- যারা এই কাজ করেছে তাদের ছবি আছে, পত্রিকায় নাম আছে। ছবি ও নাম দেখে তাদের গ্রেপ্তার করুন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জাদুঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে ম্যুরালের কাপড় সরিয়ে নেওয়া এবং নামফলকের কালি মুছে জিয়ার নাম পুনঃস্থাপনের জন্য আমরা ২৪শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছি। অন্যথায় ২৫শে ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা আন্দোলনে নামব। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ২৫শে ফেব্রুয়ারি সিএমপি কমিশনার এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন কর্মসূচি রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমরা আন্দোলনে নামবো। জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যতায় মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে পরবর্তী ঘোষণা করা হবে।  
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যিনি নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন তিনি চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমরা তার কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তার তত্ত্বাবধানেই সব ধরনের কর্মকান্ড চলছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড করেছে, আমরা তাদের দুষ্কৃতকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে চাই।
চট্টগ্রাম নগরীর বিপ্লব উদ্যানে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ জানিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, এই স্থান থেকে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে জিয়াউর রহমান তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন। এটা ভেঙে ফেলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে-তারা মুক্তিযুদ্ধের লেবাসধারী। আওয়ামী লীগ নেতারা মুখে শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। আসলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। ঘৃণ্য এ কাজে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করেছেন। তাদের চরিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিতর্কিত ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছিলেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছিলেন। জাতীয় ঐক্যের নমুনা জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা নয়। দেশের অর্ধেক বেশি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না। এটা হবে আওয়ামী ঐক্য। জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ ইব্রাহীম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, শ্রম বিষয়ক সমপাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম বদরুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দিন, নগর বিএনপির সহ-দপ্তর সমপাদক মো. ইদ্রিস আলী এবং নগর মহিলা দলের সভাপতি ও কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সফরে এসে সার্কিট হাউজের চার নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভোরের দিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। ওই বছরের ৩ জুন সার্কিট হাউসকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯১ সালে জিয়াউর রহমান স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। ১৯৯৩ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর সেই জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়। জাদুঘরে জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের নমুনা, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিটারটি সংরক্ষিত আছে। গত ১১ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরের প্রস্তাব তোলেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘দর্শক আমাকে অন্যভাবে আবিষ্কার করবে’

আমিই এখন তোমার মা ও বাবা

থমথমে পাহাড় গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

সিনেমা হলের সূচনার গল্প

বাবার সামনেই বাস পিষে মারলো আবরারকে

একদিনে সড়কে নিহত ১২

নুরের একাত্মতা, আঘাত এলে দাঁতভাঙা জবাব

খাগড়াছড়িতে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

এখনো চলছে সেই জাবালে নূর পরিবহন

প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা

‘খালেদা অসুস্থ আদালতে আসার আগেও বমি করেছেন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন একপেশে প্রত্যাখ্যান করছি

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে গোলাগুলি, নিহত ২

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিজয় এনে দিয়েছে

আত্মবিশ্বাসী শতাব্দী রায়, আরো বড় ব্যবধানে জিততে চান

সরকারি হাইস্কুলে তিন বিষয়ে ১৫০৬টি পদ সৃষ্টি হচ্ছে