পুলিশের ওপর হামলাকারীদের এক মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

বাংলারজমিন

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৭
বিশ্বনাথে পুলিশের ওপর হামলাকারী কুখ্যাত মাদক কারবারি, পুলিশের সোর্স সুহেল মিয়া ও তার সহযোগীদের একমাস পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি থানা পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকে মনে করছেন, পুলিশের সোর্স হওয়ায় সুহেল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে তেমন একটা আন্তরিক নয় পুলিশ।

এদিকে, তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আগের করা মামলার বাদী কলেজ ছাত্রী তাসলিমা ও তার পরিবার। জানা গেছে, উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার পূর্বপাড়া (ভিন্নারটেক) গ্রামের মৃত আহমদ আলী ওরফে ছাবাল শাহ’র মাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়াসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে তার প্রথমপক্ষের পুত্র আশিক নূর ও নিকটাত্মীয় কুখ্যাত মাদক কারবারী একই গ্রামের মৃত করিম বক্সের পুত্র সুহেল মিয়া। এসব কার্যকলাপ বন্ধ করতে ছাবাল শাহ’র দ্বিতীয়পক্ষের একমাত্র মেয়ে কলেজছাত্রী তাসলিমা আক্তার প্রতিবাদী ও প্রশাসনের দারস্থ হওয়ায় গত বছরের ১৯ই জুলাই তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তার স্বর্ণালঙ্কার, বই ও আসবাব লুট করে নিয়ে যায় সুহেল, আশিক নূর এবং তাদের সহযোগীরা। এ ঘটনায় একই বছরের ৪ঠা সেপ্টেম্বর সুহেল-আশিকসহ ৫জনের নামোল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দেয় তাসলিমা।

রহস্যজনকভাবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১০ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এটি মামলা (নং-৯) হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
ওই দিনই মামলার প্রধান আসামি সুহেলকে গ্রেপ্তার করতে সাদাপোশাকে মাত্র তিনজন কনস্টেবল নিয়ে স্থানীয় বৈরাগীবাজারের একটি হোটেলে অভিযান চালান এসআই সবুজ কুমার নাইডু। এসময় সুহেল ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হন চার পুলিশ সদস্যই। এ ঘটনায় এসআই সবুজ কুমার নাইডু বাদী হয়ে ওই রাতেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এসল্ট মামলা (নং-১০) দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫/১৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে জাকির ও কয়ছর নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। তবে, ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলেও হামলার মূল হোতা সুহেল ও তার অপর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে কলেজছাত্রী তাসলিমা আক্তার ও তার পরিবার। তাসলিমা আক্তার জানান, ‘আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রতি রাতেই কে বা কারা আমার বসতঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা করে।’ তাসলিমা আরও বলেন, ‘সাত মাস পেরিয়ে গেলেও আমার লুট হওয়া মাল এখনও উদ্ধার করা হয়নি।’  এসল্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ বলেন, ‘আত্মগোপনে থাকা সুহেল পুলিশের সোর্স হওয়ায় বারবার কৌশল পাল্টাচ্ছে। যে কারণে তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে, তাদেরকে ধরব আশা করি।’

থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, ‘পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।’সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই তারা এলাকা ছেড়েছে। তাই গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে, তাদেরকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন