ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:১০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন চিফ রিটার্নিং অফিসার  অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ই মার্চ ভোটগ্রহণ করা হবে। বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠনের দাবি উপেক্ষা করে হলগুলোতেই ভোটগ্রহণ করা হবে। ছাত্রলীগ তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে বাকি সংগঠনগুলোর দাবি একাডেমিক ভবনে যাতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এ দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসুর নির্বাচন হচ্ছে।
সর্বশেষ ১৯৯০ সালে ডাকসুর নির্বাচন হয়েছিল।

তফসিলের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত নেতৃত্ব চায়। তারা ছাত্রনেতাদের কাছে জবাবদিহিতা আশা করে। তারা একটি স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চায়। তাদের সেই স্বপ্ন, প্রত্যাশার এবং ইচ্ছের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই তফসিলকে আমরা স্বাগত জানাই। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তরফে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে তফসিলের পর। সংগঠনকি তফসিল প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি উপেক্ষা করে এই তফসিল দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। যদিও ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর সাত দফা দাবি জানিয়েছিল স্মারকলিপি দিয়ে। এসব দাবি পূরণ হয়নি বলেও নেতাদের দাবি। তফসিলের পর ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী বলেন, সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনকে জেতানোর আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই তফসিলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা স্মারকলিপি দিয়ে, আলোচনা করে নির্বাচন পেছানোর কথা বলেছিলাম, কিন্তু আমাদের কোনো কথাই তো শুনলো না। আমরা বলেছি, আগে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু সেসব না করেই তফসিল দিয়ে দিলো। এতে বোঝার আর বাকি রইলো না। ছাত্রলীগ জেতানোর জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে।

বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের যে তফসিল হলো সেটা একদিক দিয়ে আনন্দের কিন্তু যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তফসিল ঘোষণা করলো সেটা খুব অস্বস্তিদায়ক। একটি দলকে জেতানোর জন্য নীল নকশা অনুযায়ী তাদের সকল বক্তব্য গ্রাহ্য করে  এবং আমাদের বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়টি আমাদের আরো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের যে সুযোগ সেটা অনেকাংশে কমে গেছে। তবে আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে আমরা রাজপথে থাকবো। একই সঙ্গে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিবো। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে পারবো কিনা সেটা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিকৃত পরিবেশই বলে দিবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় একটা দলের দাবিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বেশি।

কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাধারণ ছাত্রপরিষদের মুখপাত্র নূরুল হক নূর  বলেন, উৎসব আমাদের কাছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পরিণত হয়েছে। কারণ ছাত্রসংগঠন গুলোর যে দাবি ছিল সেটার কোনো সুরাহা না করে তফসিল ঘোষণা করা হলো। আমাদের মৌলিক দাবি হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন  করা। সেই দাবি মানা হয়নি। আমাদের দাবি ছিল যেন সকল ছাত্রসংগঠন তাদের কার্যক্রম অবাধে চালাতে পারে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেগুলো কিন্তু প্রশাসন নিশ্চিত করেনি। আমার মনে হয় তারা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন করছেন। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ রাখবো, দেখবো তারা কি ভূমিকা রাখছে। তাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে আমরা নির্বাচনে যাবো কি না।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বিতরণ করা হবে ১৯ থেকে ২৫শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হলের প্রাধ্যক্ষের অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ২৬শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
২৬শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে হল সংসদের মনোনয়নপত্র হল রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাছাই করা হবে। ২৭শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় হলের নোটিশ বোর্ড এবং ডাকসুর ওয়েব সাইটে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কোনো প্রার্থীদের আপত্তি থাকলে ২৮শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার মধ্যে হল সংসদ সভাপতির কাছে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

২রা মার্চ দুপুর ১টা পর্যন্ত লিখিত ও স্বাক্ষরকৃত আবেদনসহ হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে যেকোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। ৩রা মার্চ বিকাল চারটায় প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা হলের নোটিশ বোর্ড এবং ডাকসুর ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে।

৫ই মার্চ দুপুর ১২টায় সম্পূরক ভোটার তালিকা হলের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, নিজ নিজ হল থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে হবে এবং হলেই জমা দিতে হবে। নির্বাচনে ২৫টি পদের জন্য লড়বেন প্রার্থীরা। পদগুলো হচ্ছে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কমনরুম ও ক্যাফেটোরিয়া সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সংস্কৃতি সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক এবং ১৩টি সদস্য পদ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন