কোন দিকে যাচ্ছে গান-বাজনা

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪
ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, দুই ঈদ, ইংরেজি নববর্ষ, পূজাসহ বিভিন্ন দিবস ঘিরে একটা সময় জমে উঠতো গানের বাজার। বছর শুরুর আগেই এই নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে যেত। বিভিন্ন তারকা শিল্পীর একক, দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবামে জমে উঠতো বিভিন্ন উৎসবের গানের বাজার। শিল্পী, সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক, অডিও কোম্পানি ও শ্রোতাদের মাঝেও একটা অন্যরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যেত। কিন্তু সেই অবস্থা আর নেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে কোন দিকে যাচ্ছে গান-বাজনা? এখন সিডি নেই, কোম্পানি ও শিল্পীদের তোড়জোড় নেই্‌, দিবসকে ঘিরে গানের বাজারের সেই উন্মাদনা নেই। কেবল গান নিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবকেন্দ্রিক প্রচারণা ও প্রকাশনা আছে। শুধু তাই নয়, গান এখন আর চলছে না, বেশিরভাগ অডিও কোম্পানিই এমন বুলি আউড়াচ্ছেন।
কোম্পানিগুলো এখন গানের বদলে মনোযোগ দিয়েছেন নাটক, ওয়েব সিরিজ, শর্টফিল্ম নির্মাণে। কারণ, ইউটিউব থেকে গানের চেয়ে এসব দীর্ঘ কনটেন্ট থেকে আয় বেশি। অন্যদিকে গত এক বছরে মানহীন গানের সংখ্যা কেবল বেড়েছেই। সস্তা ও মানহীন কথা-সুরের গান প্রকাশের যেন হিড়িক লেগেছে। আর সেই সব গানই ভিডিও আকারে প্রকাশ করছে কোম্পানিগুলো। যার ফলে ভালো গান অল্প সংখ্যক তৈরি হলেও মানহীন গানের প্রচারণার কারণে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। আর এর ফলে মূল ধারার শিল্পীর গান প্রকাশের সংখ্যা গত এক বছরে কেবল কমেছে। এছাড়াও অডিওর চেয়ে ভিডিওকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বেশি। যার ফলে গান তেমন দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। এমনও নজির রয়েছে, মিউজিক ভিডিওর শুটিং আগে হচ্ছে। এরপর গান সেটার ওপর বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গানের কথায়ও এখন মানহীন ও অশ্লীল শব্দ জুড়ে দেয়া হচ্ছে। গানের সুর তৈরি হচ্ছে একই আদলে। ইউটিউব সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় ও কোনো সেন্সর না থাকায় যে যার মতো করে গান প্রকাশ করছে। অথচ একটা সময়ে বাণীনির্ভর ও শ্রুতিমধুর সুরে তৈরি হতো গান, যে গানগুলো এখনও কালজয়ী হয়ে রয়েছে সবার মুখে মুখে। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, আমি নিজেও বর্তমান অবস্থা দেখে হতাশ। কারণ, যে যার মতো কাজ করছে। এটার ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক বিষয়গুলোই বেশি দেখছি। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু গান শুনেছি, যেটাকে গান বলাও ঠিক নয়। তাছাড়া যে কাউকেই শিল্পী বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে যেটা করতে পারে না সে সেটা করতে যাচ্ছে বলেই এমন অবস্থা হচ্ছে। জোর করে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী হওয়া যায় না। কিন্তু এখন সেটারই চেষ্টা চলছে। আর কোম্পানিতো নিজের ব্যবসাটাই বুঝবে। কিন্তু আমি অনুরোধ করবো কোম্পানিগুলোকে, তারা যেন ভালো গানগুলো প্রকাশ ও প্রমোশন করে। মানহীন গান শুধু কোম্পানির নয়, শ্রোতাদেরও বর্জন করা উচিত। এক্ষেত্রে যার যার দিক থেকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন বলেন, এখন গানের যাচ্ছেতাই অবস্থা। চলচ্চিত্রের গান ও অডিও গান- সবদিকেই একই অবস্থা। বিষয়টি খুব ভয়াবহ আমাদের সংগীতের জন্য। কারণ, গুণী ও মূলধারার শিল্পীরা কিন্তু ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। ভালো গান ও শিল্পীরা যদি জায়গা না পায় তাহলে সংগীতের তো বারোটা বাজবেই। এখন মানহীন গানেরই প্রচারণা বেশি দেখছি, যেটা হওয়া উচিত নয়। আমি বিশ্বাস করি ভালো গানগুলোর প্রচার বেশি করলে ও মানহীন গান বর্জন করলে সংগীতের অবস্থা ভালো দিকে যাবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রোহিঙ্গারা ফেরত না গেলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রেমিটেন্স ১৬শ’ কোটি ডলার ছাড়ালো

টিকে রইলো পাকিস্তান

সংকট সমাধানে আশাবাদী বিএনপি

এ যেন আরেক আয়লান

মাহমুদুল্লাহর সুস্থতার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

মায়ের ভিডিওকলে অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের সংসার ভাঙার উপক্রম!

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ

টেলিকম খাতে করের বোঝা চাপিয়ে প্রবৃদ্ধিকে আটকে দেয়া হয়েছে

ফেসবুক, ইউটিউব গুগলকে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগের নির্দেশনা

তিউনিশিয়া থেকে ফিরলো আরো ২৪ জন

মাঠের অভাবে ছুটিতে বাংলাদেশ

চুড়িহাট্টা ও এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিতে চায় সরকার

মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই ডুবলো সিলেট নগর

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে পদে পদে মৃত্যু ঝুঁকি