আদালতে খালেদার দেড় ঘণ্টা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৬
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর আংশিক শুনানি হয়েছে। শুনানি অসমাপ্ত অবস্থায়  আগামী ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত শুনানি শুরুর আগে বেলা ১২টা ২৭ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে আনা হয়। গোলাপী রঙের শাড়ি পরা তার দু’ পা কোমর পর্যন্ত সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। আদালতে আনার সময় তার মুখ কিছুটা কাঁপছিল।

সাড়ে ১২টায় বিচারক আসন নেন। বেলা ১টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত চলে আদালতের কার্যক্রম। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তিনি কোনো কথা বলেননি।
আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার আগে তার সঙ্গে দেখা করেন সাবেক এটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বোরহান উদ্দিন, মো. আকতারুজ্জামানসহ উপস্থিত আইনজীবীরা।

৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে অভিযোগ গঠনের ওপর তৃতীয় দিনের শুনানি চলে।

এদিন মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে নিজেই শুনানি করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান শুনানিতে অংশ নেন।

মওদুদ আহমদ মামলার অভিযোগপত্র থেকে পড়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নাইকো চুক্তি হয়েছিল। ১৯৯৯ সালের ২৩শে আগস্ট নাইকো ও বাপেক্সের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের করা চক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পরবর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় আমাকে মতামত দিতে হয়েছিল। চুক্তি করায় আমি কিভাবে লাভবান হলাম, টাকা-পয়সা লেনদেনের কোনোকিছু এখানে নেই। মামলার অভিযোগপত্রে প্রমাণ হয় আগের সরকারের চুক্তি রক্ষা করেছে পরবর্তী সরকার। এরপর তিনি উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে বলে শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত সময় দেন।

এরপর খন্দকার শহীদুল ইসলামকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আরজি পেশ করেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমার মক্কেল কোনো অপরাধ করেননি। তিনি কার কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন বা অর্থ নিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।  

তিনি বলেন, যে সরকারের সময় নাইকো চুক্তি হয় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। বর্তমান আসামিদের বিরুদ্ধেও একই এজাহার। হাইকোর্টে তা বাতিল হয়েছে। ৬০ ডিএলআর শেখ হাসিনা বনাম রাষ্ট্র মামলার বিষয়ে আমি বক্তব্য রাখবো। এজন্য সময় প্রার্থনা করছি। আদালত সময় মঞ্জুর করে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।  

গত ৩রা জানুয়ারি খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। এরপর ১৩ই জানুয়ারি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অন্যান্য আসামির পক্ষে শুনানি শেষে ২১শে জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

জরুরি আমলের সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে গ্যাস চুক্তি করায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ই মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রক্তাক্ত লঙ্কা পেছনে কারা?

দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি নেই

পাসপোর্ট বইয়ের সংকটে দুর্ভোগ চরমে

দগ্ধ তরুণীকে বাঁচানো গেল না

শেয়ারবাজারে উত্থান পতনের পেছনে কেউ জড়িত

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ৬ সমঝোতা সই

রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, চিকিৎসক আটক

ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দাফন আজ

কালা মিয়ার কাটা পা এখনো উদ্ধার হয়নি

সঞ্চয়পত্রে ঝোঁক সবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সরকারের

শবেবরাত পালিত

অমিত শাহ বললেন বাংলাদেশি হলেই নাগরিকত্ব!

পশ্চিমবঙ্গে ৯২ শতাংশ বুথে আধা সামরিক বাহিনী

গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিন: মোশাররফ

ঋণখেলাপিদের আরো বড় ছাড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের