১১ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

৪০ শতাংশ চিকিৎসক অনুপস্থিত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসকরা রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে সময় দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সেবা না পেয়ে শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির। দেশের আট জেলার ১১টি হাসপাতালে গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অ্যানফোর্সমেন্ট টিমের আকস্মিক অভিযানে এমন অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১১টি হাসপাতালে গড়ে ৪০ ভাগ চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন।

আট জেলার ১১ হাসপাতাল হলো-ঢাকার তিনটি কর্মচারী কল্যাণ হাসপাতাল, মা ও শিশু সদন ও মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পাবনার সদর জেনারেল হাসপাতাল ও আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দুদক জানায়, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) আসা এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক অ্যানফোর্সমেন্ট টিম।
সরজমিনে দেখা যায়, আট জেলার ১০ হাসপাতালে মোট রোস্টার ডিউটি বণ্টনকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা ২৩০ জন থাকলেও কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত পাওয়া যায় ৯২ জন চিকিৎসককে, যা মোট চিকিৎসকের ৪০ শতাংশ।

এর মধ্যে মুগদা হাসপাতাল বাদে ঢাকার দুই হাসপাতালের ৯৯ জন ডাক্তারের মধ্যে ১১ জন অনুপস্থিত ছিল। ঢাকার বাইরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এ চিত্র আরো ভয়াবহ। ঢাকার বাইরের সাত জেলার মোট হাসপাতালে রোস্টার ডিউটি বণ্টনকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা ১৩১ জন থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ৮১ জন। এক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার মোট চিকিৎসকের প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। তবে অভিযানকালে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সকল ডাক্তার উপস্থিত পাওয়া যায়। এদিকে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অভিযানকালে জরুরি বিভাগের এক কর্মচারী মো. আবু মুসা ভূঞা (স্ট্রেচার বিয়ারার) দায়িত্বরত অবস্থায় রোগীর স্বজনদের নিকট হতে ঘুষ গ্রহণকালে দুদক টিমের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। দুদক টিমের সুপারিশক্রমে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য সেক্টরে এ অবক্ষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। মানবসেবার চেতনা না থাকলে চিকিৎসা সেবা পরিত্যাগ করা উচিত। তবে দায়িত্ব অবহেলার ক্ষেত্রে দুদক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সারা দেশে স্বাস্থ্য সেক্টরে দুদকের নজরদারি থাকবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

লিটন

২০১৯-০১-২১ ১৮:৫৩:৩১

লজ্জার বেপার।তাদেরকে ধিক্।

আপনার মতামত দিন

ফিক্সিংয়ের দায়ে প্রোটিয়া ক্রিকেটারের ৫ বছরের জেল

অনুমতি ছাড়াই ফ্রান্সের ৮ নাগরিক খাগড়াছড়িতে

ফরিদপুরে বাবার হাতে ছেলে খুন

নলডাঙ্গায় কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

১৬ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা দুই বছরেই অচল

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎকে নিয়ে বিজেপির লাগামহীন কুৎসা

ব্রিজে উঠতে লাগে মই

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা বাণিজ্য দাঁড়াবে ১৮০০ কোটি ডলারে

শরণখোলায় ১৩ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

‘নতুন সম্মেলন মানেই নতুন মুখ’

ভারতে হিন্দু নেতা হত্যা, গ্রেপ্তার দু’মাওলানাসহ ৫

ধামরাইয়ে শিক্ষকের হাতে বলৎকারের শিকার ছাত্র

চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ ৬ জন নিহত

বিব্রত ঢাকা, বিজিবির বিরুদ্ধে ভারতে মামলা, তদন্ত শুরু

তিন ঘন্টার চেষ্টায় চট্টগ্রাম হকার্স মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কঠিন পরীক্ষায় বরিস জনসন