কুড়িয়ে পাওয়া বোমার বিস্ফোরণ

পুলিশের মামলায় কারাবন্দি নূরুল হকও আসামি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ২১ জানুয়ারি ২০১৯, সোমবার
মণিরামপুরে কুড়িয়ে পাওয়া বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশুসহ চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগ এনে বাড়ির মালিক এবং বিএনপি-জামায়াতসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আসামিদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ছাড়াও আওয়ামী লীগের ৬ কর্মী-সমর্থকের নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার ১৩ তিন আগে থেকে জেলহাজতে থাকা বিএনপি কর্মী নূরুল হককেও পুলিশের দায়েরকৃত ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আর এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ মামলার বাদী হয়েছেন ঝাপা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আজাদুল ইসলাম। এলাকাবাসী জানায়, ঝাপা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় ১৪ই জানুয়ারি বিকাল পাঁচটার দিকে বালুরস্তূপের ওপর খেলা করছিল পরিবারের শিশুরা। এ সময় পাশেই বসে ছিলেন শহিদুল ইসলামের মেয়ে দিলারা খাতুন ও পুত্রবধূ লাবণী খাতুন। সন্ধ্যার দিকে শিশুরা বালুর স্তূপ থেকে লাল টেপ জড়ানো দুটি কৌটা কুড়িয়ে পায়।
কুড়িয়ে পাওয়া কৌটাকে বল ভেবে শিশুরা ছুড়ে মারে। এ সময় প্রকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বোমার স্প্রিন্টারে আহত হয় বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের ছেলে শিশু রাসেল, নাতনী ফাতেমা, পুত্রবধূ লাবণী ও মেয়ে দিলারা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারের পর ওই রাতেই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। এ দিকে বোমা বিস্ফোরণ ও আহত হওয়ার ঘটনায় ঝাপা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আজাদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদুল্লাহ ও বিএনপি-জামায়াতসহ ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনের নামে ১৫ই জানুয়ারি মনিরামপুর থানায় একটি নাশকতার মামলা করেন। ওই রাতেই পুলিশ আটক করে মামলার আসামি সৈয়দ আলী, মোস্তাক হোসেন এবং রবি হোসেনকে। পুলিশের দায়েরকৃত এ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় নাশকতা করার পরিকল্পনা নিয়ে সেদিন বোমাসহ বৈঠক করছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বোমা বিস্ফোরিত হলে তাতে চারজন আহত হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬ জন রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। আওয়ামী লীগের ৬ কর্মী-সমর্থক হলেন ঝাপা গ্রামের আজমল হোসেনের দুই ছেলে আলমগীর হোসেন এবং খলিলুর রহমান, মৃত হযরত আলীর ছেলে টুটুল, মৃত বাবর আলীর ছেলে মফিজুর রহমান, আলফাজ বাউলির ছেলে শহিদ এবং মৃত আছরোপ মোড়লের ছেলে ছায়েদ আলী। এ বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে ঝাপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার খোরশেদ আলম জানান, এ ছয়জন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক হলেও পুলিশ তাদের নামে এই মিথ্যা মামলাটি করেছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এ দিকে ১৫ই জানুয়ারির এ মামলায় ২২ নম্বর আসামি করা হয়েছে ঝাপা গ্রামের মৃত আবদুল সরদারের ছেলে বিএনপি কর্মী নূরুল হককে। অথচ নূরুল হক অপর একটি মামলায় (মামলা নম্বর ২৯, তারিখ ২৫/১০/১৮) জামিনের জন্য ২র জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সেই থেকে নূরুল হক এখনও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ঝাপা গ্রামের মৃত নওশের মোড়লের ছেলে আবুল হোসেনকে এবং ১নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সিদ্দিকুর রহমানকে। অথচ সাক্ষী আবুল হোসেন জানান, মামলার আসামিদের সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এসআই সাখাওয়াতের কথা মোতাবেক তিনি শুধু স্বাক্ষর করেছেন। দ্বিতীয় সাক্ষী গ্রাম পুলিশ সিদ্দিকুর রহমান জানান, বালুর স্তূপ থেকে বোমার আলামত উদ্ধারের সময় তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে, এর বেশি তিনি কিছু বলতে পারেননি। মামলার বাদি এএসআই আজাদুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। যা কিছু হয়েছে ফাড়ি ইনচার্জ সাখাওয়াতের কথায় হয়েছে। মামলার তদন্তকারী অফিসার ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই সাখাওয়াত হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ভুলবশত এমনটি হয়েছে। ওসি (তদন্ত) এনামুল হক জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে এ মামলাকে মিথ্যা ভিত্তিহীন উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, মামলার ২২ নম্বর আসামি নুরুল হক অপর একটি মামলায় গত ২রা জানুয়ারি থেকে জেল-হাজতে রয়েছেন। অথচ পুলিশ তাকেও ওই গায়েবি মামলায় আসামি করেছে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

হাবিবুর রহমান

২০১৯-০১-২১ ০৮:৩৮:৪৭

এই সোনার বাংলাদেশে এটা কোন ব্যাপার না। পবিত্র হজ্জ্বে থাকাকালীন মামলা হয়, ১২ বছর পঙ্গু হয়ে পরে থাকলে মামলা হয়, মারা যাওয়ার পরেও যদি কোন ব্যক্তির নামে মামলা হয় তাহলে তো নুরুল হক এখনও বেচে আছে, মামলা হওয়াটা স্বাভাবিক।

আপনার মতামত দিন

রক্তাক্ত লঙ্কা পেছনে কারা?

দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি নেই

পাসপোর্ট বইয়ের সংকটে দুর্ভোগ চরমে

দগ্ধ তরুণীকে বাঁচানো গেল না

শেয়ারবাজারে উত্থান পতনের পেছনে কেউ জড়িত

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ৬ সমঝোতা সই

রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, চিকিৎসক আটক

ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দাফন আজ

কালা মিয়ার কাটা পা এখনো উদ্ধার হয়নি

সঞ্চয়পত্রে ঝোঁক সবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সরকারের

শবেবরাত পালিত

অমিত শাহ বললেন বাংলাদেশি হলেই নাগরিকত্ব!

পশ্চিমবঙ্গে ৯২ শতাংশ বুথে আধা সামরিক বাহিনী

গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিন: মোশাররফ

ঋণখেলাপিদের আরো বড় ছাড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের