রংপুর এলজিইডি পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য অর্জন

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ২০ জানুয়ারি ২০১৯, রোববার
বর্তমান সরকারের এক দশকে রংপুর এলজিইডি পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। গত ১০ বছরে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা স্বাধীনতার তিন যুগের ব্যয়ের পরিমাণের চেয়েও বেশি। এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন জানান, সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে পল্লী সড়ক উন্নয়ন এবং রক্ষানাবেক্ষন কাজ, বৃহৎ সেতু, কালভার্ট নির্মাণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে। বিগত দশ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে সোস্যাল সেফটিনেসসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে নানা কল্যাণকর প্রকল্প। তিনি আরও জানান, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন বছরে আরও পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। এলজিইডি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি লোকবল। এরজন্য এলজিইডি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্র মতে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩৭ বছরে ৪৩৪ কিলোমিটার পল্লী সড়কের উন্নয়ন হয়েছে। ১’শ মিটারের উপরে বৃহৎ সেতু নির্মিত হয়েছে ৭টি, যা ৭৪০ মিটার। সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ৩২ মিটার। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে ৩১টি। গ্রোথ সেন্টার হাট-বাজার নির্মিত হয়েছে ১৬টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ২৫৩টি। এছাড়াও ওই সময়ে সড়কের রক্ষানাবেক্ষনের কাজ হয়েছে ৮৮ কিলোমিটার। এদিকে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে পল্লী সড়কের উন্নয়নের হয়েছে ৪৭২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। ১’শ মিটারের উপরে বৃহৎ সেতু নির্মিত হয়েছে ৯টি, যা ১ হাজার ৭১৫ মিটার পর্যন্ত। সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ২ হাজার ৭৫৩ মিটার। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে ৪০টি। গ্রোথ সেন্টার হাট-বাজার নির্মিত হয়েছে ৪১টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ৪৯৩টি। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়েছে ১ হাজার ৩৩২ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। এছাড়া যোগ হয়েছে নতুন প্রকল্প। এগুলোর আওতায় নির্মিত হয়েছে ৪টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ৫টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ২৩টি অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা নিবাস। এছাড়া ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার ৮ হাজার কৃষি জমি পানি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। মাছ চাষ এবং খরা মৌসুমে সম্পূরক সেচের জন্য ৪২টি খাল খনন করা হয়েছে। আবাদী জমি রক্ষায় বাধ নির্মিত হয়েছে ২২টি এবং সুইচ রেগুলেটর-রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে ১২টি। এই প্রকল্পগুলোর অনেক কাজ এখন চলমান রয়েছে। রংপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরও অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। তারপরও ১০ বছরে রংপুরে যে পরিমান কাজ হয়েছে তা গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আগামীতে আরও ব্যাপক কাজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান শুধু রংপুর বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫’শ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। যা আগামী ৫ বছর চলবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হয়ে গেছে, তা আবার চালুর অপেক্ষা রয়েছে। এটি মূলত সংসদ সদস্যের বরাদ্দ প্রাপ্তির স্বাপেক্ষে পরিচালিত হয়। গতবার ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল একজন সংসদ সদস্যের। ফলে রংপুরের ৬টি সংসদীয় এলাকায় ১২০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এবারও এ টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রক্তাক্ত লঙ্কা পেছনে কারা?

দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি নেই

পাসপোর্ট বইয়ের সংকটে দুর্ভোগ চরমে

দগ্ধ তরুণীকে বাঁচানো গেল না

শেয়ারবাজারে উত্থান পতনের পেছনে কেউ জড়িত

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ৬ সমঝোতা সই

রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, চিকিৎসক আটক

ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দাফন আজ

কালা মিয়ার কাটা পা এখনো উদ্ধার হয়নি

সঞ্চয়পত্রে ঝোঁক সবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সরকারের

শবেবরাত পালিত

অমিত শাহ বললেন বাংলাদেশি হলেই নাগরিকত্ব!

পশ্চিমবঙ্গে ৯২ শতাংশ বুথে আধা সামরিক বাহিনী

গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিন: মোশাররফ

ঋণখেলাপিদের আরো বড় ছাড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের