সৌদি আরবের বন্দিশালায় রোহিঙ্গাদের অনশন

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৫
বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে সৌদি আরব। জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন বন্দি রোহিঙ্গারা। জেদ্দার সুমাইসি বন্দি শিবিরের রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ করলেও গত মাসে অনেক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনশনে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। সুমাইসি বন্দি শিবিরের ফাঁস হওয়া ছবিতে দেখা গেছে, বন্দিরা তাদের দেয়া খাবার গ্রহণ করছেন না।

পাউরুটি ও স্যুপের প্যাকেটগুলো মেঝেতে পড়ে আছে। ছদ্মনামে সেখানকার কয়েকজন বন্দি মধপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। জাহিদ ছদ্মনামের এক রোহিঙ্গা বন্দি বলেন, হোয়াটসঅ্যাপসহ বার্তা আদান-প্রদানের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তারা অনশন কর্মসূচি সংঘটিত করেছেন।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো মেসেজে জাহিদ আরো বলেন, ‘প্রথমে আমরা ৩০০ জনের মতো অনশন শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে অন্যরাও আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে থাকে। অনশনে অংশ নেয়া এক বৃদ্ধকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আমরা জানি না, আর কত দিন টিকে থাকতে পারবো। খাওয়ার জন্য তারা আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ ইতিমধ্যে যেসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তারা জোরপূর্বক তাদের বিমানে তোলার দৃশ্য ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর সুমাইসি বন্দিশিবিরের রোহিঙ্গাদের থেকে মেবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়।

গত চার মাসে এটি রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় অনশনের ঘটনা। সুমাইসির আরেক বন্দি রাফিদ বলেন, অনশন বন্ধ করলে সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের মুক্তি দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু এর পরেও অন্তত ৬০ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা আমাদের মুক্তি দেয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ বন্দিশিবির ছাড়তে পারেনি। মিডলইস্ট আইকে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সাহায্য চাই। দয়া করে আমাদের এখানে ফেলে রাখবেন না। সম্ভব হলে জাতিসংঘ আমাদের এখান থেকে নিয়ে যাক। সুমাইসিতে আমাদের কিছু রোহিঙ্গা ভাই মানসিক রোগে ভুগছে। এটা অসহ্য হয়ে উঠেছে। আমাদের আবারো অনশনে যেতে হচ্ছে।’

ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সুমাইসি বন্দি শিবিরের ভেতরে অনেক রোহিঙ্গাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যাওয়ার পরেও তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানকার বন্দিরা আরো জানান, সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বুকে থাবা দিয়ে জোরপূর্বক মানসিক সুস্থতার ফর্মে স্বাক্ষর নিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের বার্মিজ পাসপোর্ট দেয় না মিয়ানমার। তাই বন্দিশিবিরের অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছে। বাকিরা ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর পাসপোর্ট ব্যবহার করেছে। সৌদি আরব থেকে ফিরে যাওয়া এক ডজনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে জাল পাসপোর্ট ব্যবহারের দায়ে সম্প্রতি জেল দিয়েছে বাংলাদেশ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন