আতঙ্ক: কি ঘটবে আজ বৃটেনে!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার
পুরো বৃটেনজুড়ে আতঙ্ক- কি ঘটতে যাচ্ছে দেশে! অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে টিকে থাকতে পারবেন তো! যদি তিনি এ ভোটে আজ রাতে হেরে যান তাহলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন পক্ষই যদি সরকার গঠন করতে না পারে তাহলে নতুন জাতীয় নির্বাচনের দিকে ধাবিত হবে বৃটেন। এমনই এক অনিশ্চয়তার মধ্যে বৃটিশ জনগণের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মঙ্গলবার রাতে হাউস অব কমন্সে ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ক্ষমতাসীন দল পরাজিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তি বিশাল ভোটের ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করেছেন কমন্স সদস্যরা। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আহ্বান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভদের ক্ষমতাচ্যুত করার প্রয়াস নিয়েছেন। আর যদি তাতে সফল হন তাহলে তিনি আশা করছেন নিজের হাতেই উঠবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি।
তেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি পার্লামেন্টে বলেছেন, ১৯২০ এর দশক থেকে হাউস অব কমন্সে একটি সরকারের জন্য মঙ্গলবারের ভোটই হলো সবচেয়ে বড় পরাজয়। এটা হলো সরকারের জন্য বিপর্যয়কর পরাজয়। তিনি আরো বলেন, দুই বছরের ব্যর্থ সমঝোতা শেষে হাউস অব কমন্স ব্রেক্সিট চুক্তিতে তার রায় দিয়ে দিয়েছে। আর এই রায় চূড়ান্ত।
এই চ্যালেঞ্জে যদি জেরেমি করবিন বিজয়ী হন তাহলে তার মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে তার দায়িত্ব থেকে বিদায় নেয়ার বার্তা দিতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন জাতীয় নির্বাচনের পথ তৈরি হবে। তবে মঙ্গলবার রাতে নিজ দলের কমপক্ষে ১১৮ জন এমপি তেরেসা মের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও আজ রাতে তাদের অনেকে তার পক্ষে চলে আসতে পারেন। এরই মধ্যে ডিইউপি ও কনজার্ভেটিভ দলের কট্টরপন্থি ব্রেক্সিটিয়ার বলে পরিচিতদের অনেকে তাকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে হেরে যাওয়ার পরে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে লেবার দলের পক্ষ থেকে জেরেমি করবিনের ওপর প্রচন্ড চাপ ছিল। তিনি তেরেসা মের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট ডাকার হুমকি দিয়েছিলেন গত মাসেই। কিন্তু সমালোচকরা একে বাঁকা চোখে দেখার পর তিনি ইউ-টার্ন নেন।
অনাস্থা ভোট কি?
কোনো প্রধানমন্ত্রীকে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই হাউস অব কমন্সে এ ভোটে বিজয়ী হতে হয়। একেই আস্থা ভোট বলে। যদি তিনি পরাজিত হন তাহলে তার বিদায় ঘন্টা বেজে যায়।
করবিন কেন মঙ্গলবার রাতে অনাস্থা ভোট ডাকলেন?
তেরেসা মে মঙ্গলবার রাতে ব্রেক্সিট ভোটে হেরে যান বিশাল ভোটের ব্যবধানে। সম্ভবত এটাকেই উত্তর সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন। তিনি মনে করেছেন, যেহেতু বিপুল সংখ্যক এমপি তেরেসা মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাই তারা তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করতে পারেন।
কেন তিনি বিলম্ব করলেন?
আগেই অনাস্থা ভোট ডাকার কথা ছিল করবিনের। কিন্তু তিনি অপেক্ষা করছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন একটি উপযুক্ত সময়ের জন্য, যখন তিনি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হবেন।
মে কি হেরে যাবেন?
সম্ভবত না। কারণ, কনজার্ভেটিভ দলের সমর্থন ছাড়া শুধু লেবার পার্টি ও অন্য বিরোধীরা সম্ভবত বিজয়ী হতে পারবে না।
পরাজয়ের অর্থ কি হবে?
ঐতিহাসিকভাবে অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের জন্য পদত্যাগের ঘন্টা বেজে যাবে। সামনে চলে আসবে একটি জাতীয় নির্বাচন। এমনটা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে সর্বশেষ। ওই সময় জেম ক্যালাঘান ৩১১-৩১০ ভোটে হেরে যান। ফলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। এর ফলে নির্বাচন আসে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হন মার্গারেট থ্যাচার।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রক্তাক্ত লঙ্কা পেছনে কারা?

দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি নেই

পাসপোর্ট বইয়ের সংকটে দুর্ভোগ চরমে

দগ্ধ তরুণীকে বাঁচানো গেল না

শেয়ারবাজারে উত্থান পতনের পেছনে কেউ জড়িত

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ৬ সমঝোতা সই

রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, চিকিৎসক আটক

ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দাফন আজ

কালা মিয়ার কাটা পা এখনো উদ্ধার হয়নি

সঞ্চয়পত্রে ঝোঁক সবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সরকারের

শবেবরাত পালিত

অমিত শাহ বললেন বাংলাদেশি হলেই নাগরিকত্ব!

পশ্চিমবঙ্গে ৯২ শতাংশ বুথে আধা সামরিক বাহিনী

গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিন: মোশাররফ

ঋণখেলাপিদের আরো বড় ছাড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের