‘আল্লামা শফির বক্তব্য ঠিক নয়, ইসলামে কাউকে শিক্ষায় নিষেধ করা হয়নি’

অনলাইন

মুনির হোসেন | ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার, ১২:২৭ | সর্বশেষ আপডেট: ৭:০৭
মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পড়াতে এবং পড়ালেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য গতকাল এক মাহফিলে হেফাজত ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিত মুসল্লীদের ওয়াদা করানোর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেছেন, ‘আল্লামা শফির দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে ইসলাম বিরুদ্ধ কথা। ইসলাম সকল নারী পুরুষের ওপর জ্ঞান শিক্ষা ফরজ করেছে। সেখানে বলেনি যে কাউকে ফোর পর্যন্ত বা কাউকে সিক্স পর্যন্ত পড়তে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পরিবেশের জন্য যদি কোন ছেলে মেয়ের জীবন, চরিত্র নষ্ট হয়, সেগুলো হলো পরিবেশের কারণে। কিন্তু শিক্ষা করতে পারবে না এ কথাটা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরুদ্ধ কথা। ইসলামতো প্রত্যেক নারী পুরুষকে জ্ঞান শিক্ষা ফরজ করেছে, যেটি নবীজী বলেছেন। কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল ‘পড়’।

অধ্যাপক আব্দুর রশীদ বলেন, ‘আমাদেরকে পরিবেশ দিতে হবে। উনি যে কথাগুলো বললেন আমার মনে হয়েছে মাথা ব্যাথা হলে মাথাটা কেটে ফেলতে হবে।
হ্যাঁ, আমাদের সমাজে ঘটছে দুই-একটা ঘটনা ঘটছে। তার সংখ্যা হয়তোবা ক্রমান্বয়ে বাড়ছেও। আমার প্রশ্ন আল্লামা শফিরা এতো বড় জ্ঞানী গুণীরা এ সমাজে থাকতে এ সমাজে এসব হবে কেন? রাসূলতো বলেছেন, আমার প্রচারিত ইসলাম দ্বারা একজন যুবতী নারী দুনিয়ার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তার সম্পদ ও সম্ভ্রম কোনটারই আশংকা থাকবে না এবং এটাই রাসূলের জীবন থেকে শুরু করে চার’শ বছর পর্যন্ত ইসলামী বিশে^ নিশ্চিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে এখন যে সমস্যা হচ্ছে এর জন্যতো আমরাই দায়ী। আমরাতো এদেরকে (নারী) সেভ করতে পারছি না। যে সমাজে আল্লাম শফিরা আছেন, সে সমাজে এমনটা কেন হবে যে একটা মেয়ের হাত ধরে টান দিবে, অসম্মান করবে। এ জন্য বলছি যে পরিবেশের কারণে আমরা তাদের শিক্ষা বন্ধ করে দিতে পারিনা। কারণ মাথা ব্যাথা হলে আমরা মাথাটাকে কেটে ফেলতে পারি না, মাথায় ব্যাথার ঔষধ দিতে হয়।’

এই ইসলামিক স্কলারের মতে, আল্লামা শফির বক্তব্য কোনভাবেই ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পড়াশোনা ইসলামিক শিক্ষায় কাউকে নিষেধ করেনি। সবাইকে শিখতে হবে। শিখলেই কেবল দ্বীন-ধর্ম শিখা যাবে। মানুষ সুন্দর হবে, সামাজিক হবে। আল্লাহকে আল্লাহর রাসূলকে জানতে পারবে। কিন্তু পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। যে পরিবেশ এর কারণে আমাদের মেয়েরা লাঞ্ছিত হয়, নির্যাতিত হয়, নিরাপত্তা বিঘিœত না হয় সে পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।’



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ABDUL HANNAN

২০১৯-০১-১৩ ১৫:৩৩:২৫

জনাব আব্দুর রশিদ সাহেব! আপনার বক্তব্য “আমার প্রশ্ন আল্লামা শফিরা এতো বড় জ্ঞানী গুণীরা এ সমাজে থাকতে এ সমাজে এসব হবে কেন? আপনার বক্তব্য যদি এরকম হয় তাহলে আমরাও একটি প্রশ্ন আপনার প্রতি! আপনার মত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ সাহেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার পর সমস্ত বাংলাদেশ বাদই দিলাম প্রতি দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিরুধী ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজ কিভাবে হয়?

Abul bashar

২০১৯-০১-১২ ১০:২৯:৫৮

জনাব আব্দুর রশীদ, আল্লামা শফী সাহেবের বক্তব্য শুনে তার পর মন্তব্য করুন। আর হ্যাঁ, মন্তব্য করার সময় পর্দা সম্পর্কে আল্লাহর হুকুমের কথা মনে করে নিয়েন।

মোস্তাফা হিরা

২০১৯-০১-১২ ০৮:৩০:১৯

আব্দুর রশিদ আপনি কি পর্দার হুকুম জানেন?

মোঃ ইয়াকুব আলী

২০১৯-০১-১২ ০১:২২:০১

শফি সাহেব মনগড়া ফতোয়া বন্ধ করুন।

আপনার মতামত দিন

‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে’

মানবজমিন রিপোর্টার রাশিদুলের আগাম জামিন

জারদারিকে অযোগ্য ঘোষণার ২ আবেদন সুপ্রিম কোর্টে

রাবি ছাত্রলীগ ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে মারামারি, আহত ২

ফ্রান্স থেকে ১০০০ কোটি রুপির অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর

গণতন্ত্রের আয়নায় নিজেকে দেখুন

দণ্ডিত দুই সাবেক আইজিপির জামিন

এক বছরে চীনে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি

বাংলাদেশকে ট্রেনের আড়াইশ বগি সরবরাহ দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

সিরিয়ায় রাতভর ইসরাইলের সামরিক হামলা

এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর লাশ

হুইল চেয়ারে আদালতে খালেদা জিয়া অভিযোগ গঠন শুনানী ৪ ফেব্রুয়ারি

আরো আড়াইশ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৩০

বেরোবির ৪০৭টি শুন্য আসনে ভর্তির সাক্ষাতকার ২৭ শে জানুয়ারি

তিনজনের ঠিকানা হয়েছে ওসিসি