বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় বাধা, গুলি, সংঘর্ষ

খোকন গুলিবিদ্ধ, আব্বাস-সুব্রতের ওপর হামলা, কর্নেল অলির ছেলের আঙুল কর্তন

প্রথম পাতা

বাংলারজমিন ডেস্ক | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১১
চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন
নির্বাচনী প্রচারণার ষষ্ঠ দিন গতকালও বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রচারে ব্যবহার করা যানবাহন ও নির্বাচনী কার্যালয়। নির্বাচনী প্রচারণাকালে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঢাকায় প্রচারণায় চালানোর সময় হামলা হয়েছে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ওপর। হামলা হয়েছে ঢাকা-৬ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর ওপর। কক্সবাজারের চকোরিয়ায় হামলা হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হাসিনা আহমেদের প্রচার মিছিলে। এতে গুলির ঘটনাও ঘটে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ছেলের বাম হাতের আঙুল কেটে ফেলে হামলাকারীরা।
যশোরে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ ইসলাম অমিতের প্রচার সভায় বোমা হামলা হয়েছে। পটুয়াখালীতে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মওলা রনির স্ত্রী তার পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় হামলার শিকার হন। এ সময় তার স্বর্ণালংকারও ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রচারে হামলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, বাগেরহাট, কুমিল্লা, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মৌলভীবাজার, ঝালকাঠি ও ঝিনাইদহে।

খোকন গুলিবিদ্ধ, থমথমে নোয়াখালী
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, নির্বাচনী জনসভা থেকে ফেরার পথে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচনী জনসভা থেকে ফেরার পথে সোনাইমুড়ি বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাহবুব উদ্দিন খোকনের ছেলে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব মানবজমিনকে জানান, ব্যারিস্টার খোকনের শরীরে পাঁচটি গুলি লেগেছে। পিঠে চারটি ও সামনে একটি গুলি লাগে। ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
চিকিৎসাধীন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, রিটার্নিং অফিসার ও থানা পুলিশকে জানিয়ে গণসংযোগ করার সময় ওসি আবদুল মজিদ আমার ওপর গুলি করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপরও গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সভাপতি মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু ও জয়নুল আবদীন ফারুক তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মির্জা আব্বাসের ওপর হামলা
রাজধানীতে গণসংযোগকালে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। গতকাল দুপুর একটার দিকে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। হামলাকারীরা মির্জা আব্বাসকে আঘাত করতে গেলে তার দেহরক্ষী ও কর্মীরা রক্ষা করেন। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০-৬০ জন।
এদিকে নির্বাচনী গণসংযোগকালে হামলা করলে বীরের মতো বুকে পেতে নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, হামলা-মামলা মোকাবিলা করেই নির্বাচনে এসেছি। আমাদের ওপর এ ধরনের হামলা আগামীতেও করলে করতে পারে, আমরা বীরের মতো বুুকে পেতে নেবো। কিন্তু আমাদের পিঠে কোনো আঘাত লাগবে না। আমরা পলায়নপর হবো না, বিএনপি নেতাকর্মীরা পলায়নপর হবে না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের পালানোর কোনো সুযোগ নেই। আমি আবারো নির্বাচনী প্রচারণায় নামবো। হামলা-মামলা হলেও নির্বাচন থেকে পালিয়ে যাব না। গতকাল দুপুরে হামলার শিকার হওয়ার পর দক্ষিণ শাহজাহানপুরের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের হামলার মুখে পড়েন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনীর অত্যাচার, আরেক দিকে পুলিশি অত্যাচার। আমরা কোন্টা সহ্য করে নির্বাচন করবো? আমাদের রাস্তাটা কি? সরকারের কাছে জানতে চাই, কি করলে আপনারা খুশি হন? এই কথাটা দয়া করে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। হামলার বিষয়ে বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেগুনবাগিচার রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে প্রচারণা শুরু করি। পরে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে যাই।

আমি নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে বাজারে ঢুকি। বাজার থেকে বের হয়ে সেখানে দেখলাম একদল ছেলে হিংস্র মনোভাব নিয়ে আমার ছেলেদের রড, লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেধড়ক পিটাচ্ছে। তারা যখন দেখলো আমি বের হয়েছি তখন আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করে। আমার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাদের থামানোর চেষ্টা করে আহত হয়েছেন। এক কর্মীর হাত ভেঙে গেছে। মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা নির্বাচনে এসেছি, সহিংস কোনো আন্দোলনে যাইনি। এরকম ঘটনা আমরা পছন্দ করছি না, নিরস্ত্র অবস্থায় প্রচারণায় গিয়েছি। আমাদের কাছে তো কোনো অস্ত্র ছিল না। লিফলেটই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মারামারি করার প্রস্তুতি আমাদের নেই। এর মধ্যে এধরনের আক্রমণের জন্যও প্রস্তুত ছিলাম না। আমি সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে চাই, আসলে সরকার কি চায়? বিএনপিকে নির্বাচন করতে আদৌ দেবে কি দেবে না- এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, যেভাবে আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে, আমার ছেলেরা, নিরাপত্তা রক্ষী যদি রক্ষা না করতো তাহলে এখানে হয়তো কথা বলতে পারতাম না। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, প্রচারণায় যাওয়ার আগে রমনা ও শাহবাগ থানায় জানিয়ে গিয়েছেন। পরে শাহবাগ ও রমনা থানায় অভিযোগ করেছি। রমনা থানা অভিযোগ গ্রহণই করেনি। রাস্তায় কোনো পুলিশও ছিল না। হামলায় বিএনপি ও অঙ্গ দলের অন্তত ৬০ জনের মতো নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। আহত নেতাকর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের প্রচারণা মিছিল থেকেও সাতজনকে আটক করার অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। বিএনপির অন্যতম এ নীতিনির্ধারক বলেন, আজকে যে অবস্থা হয়েছে, তারপরও আমি আমার এলাকার লোকজনের কাছে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করবো। এরপরও যদি না পারি তাহলে এটা হবে আমার অপারগতা।

শারীরিক নিরাপত্তার কারণে হয়তো আমি পৌঁছাতে পারবো না। মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলেন- বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁঁজছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন থেকে সরবে না। জনগণ ভোট দিতে যাবে। আমরা ভোট দিতে যাবো এবং আশা করবো ভোটের প্রতিফলন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে আসবে। তা না হলে জনগণ ঝুঝে নেবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ধাপ্পাবাজি করেছে। মির্জা আব্বাস বলেন, তফসিল ঘোষণার সময় সরকার বলেছিল, বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে নতুন কোনো মামলা হবে না এবং পুরাতন মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। প্রতিদিন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, নতুন নতুন গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। আমরা নির্বাচনে থাকতে চাই বলেই সরকারের এই আক্রোশ। তিনি বলেন, গোডাউনে পোস্টার, লিফলেট পড়ে আছে, পোস্টার লাগাতে গেলেই ছেলেদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। অথচ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকা শহর। সরকারের এই যে বিরূপ আচরণ, তাতে তো নির্বাচনের ফলাফল অনুমেয়। তবুও আমি ভবিষ্যৎ বলতে চাই না। তারা তো সবই নিয়ে নিয়েছে, আর কি বাকি আছে? ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ বেলা একটার দিকে সেগুনবাগিচা এলাকায় গণসংযোগ করার সময় মির্জা আব্বাসের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সামনে ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথমে নৌকার পক্ষে সেøাগান দিয়ে লাঠি, লোহার রড, চাপাতি হাতে ৩০-৪০ জনের একটি দল মির্জা আব্বাসের কর্মীদের ধাওয়া দেয়, পরে তার কর্মীদের ওপর হামলা হয়। ঘটনার সময় মির্জা আব্বাস কমিশনারের কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন। এদিকে মির্জা আব্বাসের উপরে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরচেয়ে বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় কর্নেল অলির ছেলের আঙুল কর্তন
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কর্নেল (অব:) অলি আহমেদের ছেলে ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুসারীরা।
হামলাকারীরা এ সময় ওমর ফারুকের বাম হাতের আঙুল কেটে ফেলে। এ হামলায় কেওচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ, তার বড়ভাই আব্দুস সালাম ও ছেলে আব্দুল গফুরও আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকেলের দিকে সাতকানিয়া থানার তেমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির।
তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগও করেনি। তবে কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।

কর্নেল অলির নির্বাচনী মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মো. জসিম উদ্দিন জানান, শনিবার বিকেলের দিকে অলি আহমেদের পক্ষে তার ছেলে ওমর ফারুক গণসংযোগে বের হন। কেরানীহাটস্থ তেমুহনী এলাকায় প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষের দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা এ সময় ওমর ফারুকের বাম হাতের আঙুল কেটে ফেলে।

তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কেওচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ, তার বড়ভাই আব্দুস সালাম ও ছেলে আব্দুল গফুরও আহত হন। রক্তাক্তবস্থায় তাদের সবাইকে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আবস্থায় ওমর ফারুককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলাব্রত বড়ুয়া বলেন, ওমর ফারুককে রক্তাক্ত অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শীলাব্রত বড়ুয়া বলেন, ওমর ফারুকের বাম হাতের একটি আঙুল কাটা ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

যশোরে বিএনপির প্রার্থী অমিতের পথসভায় বোমা হামলা
আমাদের স্টাফ রিপোর্টার যশোর থেকে জানান, যশোর-৩ সদর আসনের বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী পথসভায় বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকাল ১১টার দিকে আরবপুর ইউনিয়নের কদমতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পথসভা শেষ হওয়ার মুহূর্তে আট-দশ জন যুবক মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পরপর দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের গাড়ি বহর থেকে মোশাররফ নামে ষাটোর্ধ এক বিএনপি নেতাকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বোমা মেরে ভয় দেখিয়ে আমাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। আমার শরীরে তরিকুল ইসলামের রক্ত। ভয় কী জিনিস সেটা আমি ও আমার কর্মীরা জানি না। আমরা সকলে ভয়কে জয় করতে পারি। তিনি বোমা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

পটুয়াখালীতে রনির স্ত্রীর ওপর হামলা
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মওলা রনির স্ত্রীর ওপর হামলা ও গাড়িবহর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার স্ত্রী এবং বোনের স্বর্ণালঙ্কারও লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গোলাম মওলা রনি। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার টিএনটি রোড এলাকার তালেফ মিয়ার বাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্বামীর পক্ষে গণসংযোগ চালাতে গেলে এ হামলার শিকার হন রনির স্ত্রী। এ বিষয়ে গোলাম মওলা রনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে গলাচিপা পৌর শহরে গণসংযোগের জন্য আমার স্ত্রী গাড়ি নিয়ে বের হন এবং গণসংযোগ চালান। দুপুর দেড়টায় গলাচিপার প্যাদাপাড়া এলাকার তালেব মিয়ার বাড়ি যান। উপজেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা তালেব মিয়াকে নিয়ে গণসংযোগ চালাতে বের হলে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার স্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এতে আমার স্ত্রীসহ বিএনপির ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সেই সঙ্গে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও লিফলেট ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। রনি আরো বলেন, আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। এ ঘটনায় মামলা দিতে চাইলে ওসি বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ না করে মামলা নিতে পারবো না। আজকের মধ্যে ওসি মামলা না নিলে আগামীকাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করবো আমি। এ বিষয়ে গলাচিপার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে গোলাম মওলা রনির গাড়ি থানায় রয়েছে। হামলার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চকরিয়ায় বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা, গুলি, আহত ৫
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও গুলি চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে ডুলাহাজারা কাটাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এতে আহত হয়েছেন, চিরিংগা ইউনিয়নের আলী আহমদ (৪৫), ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের মনজুর আলম (৫২), ছাত্রদল কর্মী আব্দুল মান্নান (২৯) ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হারুনসহ (৩৪) আরো কয়েকজন কম বেশি আহত। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমেদ ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী গিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। এসময় গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এতে প্রায় ৩টি গাড়ি ও ২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ২টি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ সময় হাসিনা আহমেদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে রক্ষা পান তিনি। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান খোকন মিয়া সাংবাদিকের কাছে দাবি করেন, ‘সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমেদ ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এসময় একদল আওয়ামী লীগ ক্যাডার গাড়িবহরে হামলা করে। পরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক গেটের সামনে আরেক দফা হামলার শিকার হন হাসিনা আহমেদ ও সমর্থকরা।’

জানতে চাইলে চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি প্রার্থী এমপি থাকাকালে এলাকায় ছিলেন না। তেমনি এলাকার মানুষের খোঁজ-খবর রাখেনি। এ ছাড়া বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীদের চিংড়ি ঘের দিলেও এলাকার মানুষের কল্যাণে কোনো কাজ করেনি। এসব কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালাতে পারে।’

বিএনপির মনোনীত (ঐক্যফ্রন্ট) প্রার্থী হাসিনা আহমেদ প্রেস বিফ্রিং করে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় পথে পথে বাধা সম্মুখীন হচ্ছি। চকরিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোটারদের হুমকিও দিচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতা-কর্মীরা।’

প্রেস বিফ্রিংয়ে হাসিনা আহমেদ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এভাবে যদি হামলা, ভাঙচুর ও নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি ও মারধর করলে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালানো সম্ভব হবে না। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির স্বার্থে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি করছি।’

ঘটনার পর কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ দাবি করেছেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও মহিলারা তাকে উদ্ধার না করলে যেকোনো বড় ঘটনা ঘটতে পারতো।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

কালিয়ায় হামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আহত ৫
কালিয়া প্রতিনিধি জানান, হামলা পাল্টা হামলার ঘটন ঘটেছে কালিয়া উপজেলায়। বিকাল সাড়ে ৪টায় কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামীম রহমান ও তার সঙ্গীরা পুটিমারীর উদ্দেশ্যে বের হলে এ খাশিয়াল বাজারে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালানো হয়। হামলার জন্য বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ। দুর্বৃত্তদের হামলায় কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামীম রহমান (৫০), খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান সুইট (৪৫), শুড়িগাতি গ্রামের নাইম খান (২২), সিবানন্দপুর গ্রামের সেখ নাজমুল হাসান (২৪) ও খান হিমু (৫০) আহত হন।

পরবর্তীতে নড়াইল-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের কালিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে নড়াইলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। নড়াগাতি থানার ওসি মো. আলমগীর কবির জানান, খাশিয়াল বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এলাকা এখন শান্ত।

মনিরামপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ মনিরামপুর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ কামরুল হাসান বারীর (আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী) নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মনিরামপুর পৌরশহরের গরুহাটা মোড়ে অবস্থিত নির্বাচনী কার্যালয়টিতে আকস্মিকভাবে ১০-১২ জন যুবক হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের আসবাব ভাঙচুর ও পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।

সিরাজগঞ্জে হামলার ঘটনায় মামলা
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ২৩০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে দুজনকে। এদিকে মামলার পর অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া। গত ১১ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পৌর সদরের শক্তিপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হামলা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আল আমিন হোসেনকে মারপিটের অভিযোগ এনে বিএনপির সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ছেলেসহ ৮০ জনকে আসামি করে অপর আরেকটি মামলা করা হয়। এতে অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা করার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন হিরু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফকে। এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির নেতৃবৃন্দ যেন ভোট চাইতে না পারে এবং তাদের কোনো কর্মসূূচি পালন করতে না পারে এ কারণেই বিএনপির সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সব নেতাকর্মী এখন মামলার ভয়ে নির্বাচন রেখে এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

জামালপুরে বিএনপির প্রচারণায় হামলার অভিযোগ
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুনের কেন্দুয়ার নির্বাচনী প্রচার মিছিলে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তারা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। হামলায় সাত-আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন গতকাল দুপুরে শহরের সরদারপাড়ায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এছাড়া সাদা পোশাকধারী পুলিশ বিএনপিকর্মীদের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচনী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। ২০-২৫টি মোটরসাইকেলযোগে মুখোশধারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রায় প্রতিদিন রাত ১২টার পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করছে। কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। নৌকার প্রার্থীর নিজস্ব এলাকা ছোনটিয়া বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস বন্ধ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

বরগুনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় জাপার আহত ১০
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনার বরইতলার বাইনচটকী এলাকায় নৌকা সমর্থকদের হামলায় জাতীয় পার্টির ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচ জনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বরগুনা-২ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থনে নেতাকর্মীরা বাইনচটকী এলাকায় প্রচারণায় গেলে নৌকার সমর্থিতরা তাদের গাড়ি বহরে হামলা করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই নৌকা সমর্থিতরা লাঠিসোটা নিয়ে জাতীয় পার্টির সমর্থকের ওপর হামলা চালায়। নৌকা সমর্থিতদের তোপের মুখে একপর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ফেরিযোগে দ্রুত নদীর পার হয়ে বরইতলা ফিরে যায়।

বরগুনা-২ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে নৌকার মনোনীত প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমনের সর্মথকরা আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার দাবি করছি।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা-১ আসনে নৌকার মনোনীত প্রাথী শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, আমার কোনো সমর্থক কারও ওপর হামলা করেছে এটা বিশ^াসযোগ্য নয়। জাতীয় পার্টির সমর্থকরা মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে প্রচারণায় চালায়, যা নির্বাচনী আচরণববিধির লঙ্ঘন। মহড়া দিতে গিয়ে হয়তো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে, যা তিনি আমার কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন। একইভাবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল। উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রংপুর-৫ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা, গ্রেপ্তার-২
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানীর প্রচার মাইক আটক করেছে পুলিশ। প্রচারের সময় শব্দ দূষণের অভিযোগ এনে ছয়টি প্রচার মাইক এবং ব্যাটারিচালিত তিনটি অটোরিকশা আটক করা হয়। বিএনপির পোস্টার লাগাতে গেলে গ্রেপ্তার করা হয় দুই কর্মীকে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার লাগানোর সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মির্জাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একেএম রুহুল্লাহ জুয়েল বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে সরকারদলীয় লোকজন আমাদের দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, বিএনপি প্রার্থীর প্রচার মাইক থেকে মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ হচ্ছে। এমন অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব শব্দযন্ত্র আটক করা হয়। আটক দুই কর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মণিরামপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ কামরুল হাসান বারীর (আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী) নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মণিরামপুর পৌরশহরের গরুহাটা মোড়ে অবস্থিত নির্বাচনী কার্যালয়ে ১০-১২ জন যুবক হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান জানান, জনগণের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে গতকাল তা করতে পারেননি তিনি।

চাঁদপুরে বিএনপি প্রার্থীর ওপর হামলা, পুলিশের গুলি
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগকালে দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে। এতে আহত বিএনপির প্রার্থীসহ আহত হয়েছে ১০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গতকাল দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে । পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন নির্বাচনী প্রচারণা করতে তার নিজ এলাকায় যান। দুপুর ১টার দিকে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার সময় হামলা চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে দুপুর ৩টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি প্রার্থী তার বাড়ি থেকে বের হলেই আবারো হামলা করা হয়। এ সময় প্রার্থী ও তার কয়েকজন নেতাকর্মীকে বেদম মারধর করা হয়। এ দিকে সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে চাঁদপুর শহরে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কর্তৃক নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা বিএনপি প্রার্থী. ড. জালাল উদ্দিনকে উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, এখন মাঠে আছি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া ও বিজয়নগর প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলায় বিএনপির সভায় হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ নির্বাচনী এলাকার আখাউড়ায় বিএনপির প্রার্থী মুসলিম উদ্দিনের নির্বাচনী পরামর্শ সভায় গতকাল সকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ১৫টি মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহত হন যুবদল ও ছাত্রদলের ৪ নেতা। তারা হচ্ছেন উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মহসিন ভূইয়া, পৌর যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। দেবগ্রামে বিএনপির প্রয়াত নেতা মন্তাজ মিয়ার বাড়িতে দলের নেতাকর্মীদের একটি নির্বাচনী পরামর্শ সভায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপি প্রার্থী মুসলেম উদ্দিন জানান, ইউএনও ও থানার ওসির অনুমতি নিয়ে তারা সেখানে পরামর্শ সভাটি করছিলেন। সভা চলাকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি সোঁটা নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ভাঙচুর করে তারা। তবে, আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন বেগ সাপলু হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী নাসির উদ্দিন হাজারীর সঙ্গে মুসলেম উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন, হামলার বিষয়টি ঠিক না। তাদের নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিএনপির এই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিজয়নগরে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের পক্ষে গণসংযোগের সময় দুপুরে একটি প্রচারণার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ওই উপজেলার চর ইসলামপুর এলাকায় প্রার্থীর স্ত্রী সৈয়দা মাহমুদা আক্তার মিতা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করতে যান। তখন প্রতিপক্ষের লোকজন গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এতে গাড়ির ড্রাইভার রাসেলসহ উপজেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মৃধা আহত হয় বলে মাহমুদা আক্তার মিতা জানান। আহত মৃধা জানান, আমরা গাড়ি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে যাওয়ার সময় আমাদের গাড়ির সামনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তানভীর ভূঁইয়ার গাড়ি ছিল।

চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম ভূইয়াসহ তার সহযোগী ছাত্রলীগের কর্মীরা গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা গাড়ির সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে। গাড়ি থেকে বের করে মারধর করেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তানভীর ভূঁইয়া বলেন, তিনি এ ঘটনা দেখেন নি বলে জানান। বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নবীর হোসেন বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ ছাড়া সদরের কালীসীমা বোর্ড বাজার এলাকায় নির্বাচনী অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Zahir Faruki

২০১৮-১২-১৬ ১১:১০:৪১

হামলা-বাধার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আরো বেশি ক্ষোভ জমছে।

বাহাউদ্দিন বাবলু

২০১৮-১২-১৫ ১৯:৪৯:৫৩

তত্তাবধায়ক সরকারের দাবি যে বিরোধী দলের ছিল,তা যে সঠিক ছিল বর্তমানে তা প্রমাণ করে।

আপনার মতামত দিন

ছেলেধরা সন্দেহে এবার পাঁচ এনজিও কর্মীকে গণপিটুনি

প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন আবুল বারকাত

বিএনপি নেতা জাপায়

নিন্দা বর্ষণের মধ্যেও শাসকদলের নরম মনোভাব

ট্রান্সফার :বার্সেলোনায় আসতে পারেন যারা

ভর্তি যুদ্ধ, টপকাতে হবে ২১ জনকে

গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারলে আইনগত ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

এক আসামির স্বীকারোক্তি, ৩ জন রিমান্ডে

মিন্নির চিকিৎসার আবেদন নামঞ্জুর

ডিসিসি’র দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

গুজব গণপিটুনি নিয়ে পুলিশেও উদ্বেগ, সারাদেশে সতর্কবার্তা

একমাত্র আসামীর ফাঁসি

সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষায় আসাদের পাশে থাকবে রাশিয়া: পুতিন

আ.লীগ নেতাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ রিজভীর

ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে গলা কেটে হত্যা