নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী ৩৪,৬৭১ স্থানীয় পর্যবেক্ষক

প্রথম পাতা

সিরাজুস সালেকিন | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৮
একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে ৮১টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা। ইসিতে নিবন্ধিত এসব সংস্থার অধীনে মোট ৩৪ হাজার ৬৭১ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ১ হাজার ৫৬৭ এবং স্থানীয়ভাবে ৩৩ হাজার ১০৪ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী। কমিশনের কাছে অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করেছে ইসি সচিবালয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে সতর্কভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়ে রেখেছে। গত ২০শে নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, অনেক সাংবাদিক পর্যবেক্ষকদের সামনে ক্যামেরা ধরবেন, কিন্তু তারা কথা বলতে পারবেন না। কোনো সংবাদপত্রে লাইভে কথা বলতে পারবেন না, কমেন্টস করতে পারবেন না।

বৃটেনের পুলিশের মতো মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করবেন।
লিখিত রিপোর্ট জমা দেয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। ইসির এমন অবস্থানের মধ্যেই পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো তাদের আবেদন জমা দিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এবং ওই সব নির্বাচন বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়। তবে ব্যতিক্রম ঘটে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া রাজি না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের শেষ ভরসা ছিল সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন কমিশন-এর সংগঠন ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (ফেমবোসা)। ইসি  সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার তথ্য অনুসারে, ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউ সর্বোচ্চ ১৪৬ জন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল। কমনওয়েলথ থেকে পাঠানো হয়েছিল ১৭ জন।  যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা এনডিআই ও আইআরআই পাঠিয়েছিল ১৫৮ জন। ইউএসএইড থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল ৬৪ জনকে। 

ইউএনডিপি থেকে এসেছিলেন ১২ জন। ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’ থেকে ৭৯ জন। জাপান ইলেকশন অবজারভার মিশন থেকে এসেছিলেন ২৫ জন। এ ছাড়া জার্মানি দূতাবাস থেকে ১ জন, বৃটিশ হাইকমিশন থেকে ২৪ জন, আমেরিকান দূতাবাস থেকে ৪ জন,   ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ১১ জন,  সুইডিশ দূতাবাস থেকে ২ জন ও নেপাল দূতাবাস থেকে ১ জন, ইন্ডিয়া ফোরাম এশিয়া থেকে ১২ জন এবং ওআইসি থেকে ২ জন- মোট ৫৮৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছিল। আর ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন। তার আগে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ২২৫ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছিলেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছিলেন ৬৯ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার দুই লাখ ১৮ হাজার।

ইসি সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৮১টি সংস্থা থেকে আবেদন এসেছে। জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) ৩ হাজার ৮৪২, লাইটহাউস ৮৭৬, সেবা সোস্যাল ফাউন্ডেশন ৩১, কর্মায়ন ৬২, জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার (জার) ৫, আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ৭৮৯, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ ৪১২, হোপ ২৪, এসোসিয়েশন ফর সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ ৮, সেইফ ২১৫, দেশ বাংলা ৫০০, এসো জাতি গড়ি ২০৭, এসোসিয়েশন ফর রাইটস অ্যান্ড পিস ৩২, অগ্রদূত সংস্থা ৪০৪, উদয় ১৭, নীড় ফাউন্ডেশন ১৪২, নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি ১২৬, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১৯৬, ডেমোক্রেসিওয়াচ ২ হাজার ৪৩০, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোস্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স (দিশা) ৮৩, ইন্টিগ্রেটেড সোসাইটি ফর উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ১৭, সোহা ১৩, এসডাপ ৭, র‌্যাক বাংলাদেশ ১৫, অর্গানাইজেশন ফর সোস্যাল এডভান্সমেন্ট (ঊষা) ২১, স্বেচ্ছাসেবী বহুমুখী মহিলা সমাজকল্যাণ সমিতি ৩০০, দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১৩, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (সিডিও) ৫, ডরপ ২৯, আলোর পথে ২৬০, ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ২৭৫, স্টেপ ২০, মুক্ত আকাশ ৪৫, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ৪৭৯, কোস্ট ট্রাস্ট ১ হাজার ৮৪, এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ৫৮৩, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা ১৪, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ১৪২, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ২৫০, স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পিপসা) ৭৭, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদ ৩৬, ডেপ ৫৯, ক্রিয়েটিভ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) ১৬৭, ভোলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১২, আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র ৪৪৭, ডাক দিয়ে যাই ৩০০, সোস্যাল এডভান্সমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (সাকো) ১৪, বাঁচতে শেখা ৩২১, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) ৭৫০, পিস অ্যান্ড রাইটস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ১০, উত্তরণ ৩০০, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ৭০০, নীড ফাউন্ডেশন ১৭০, পলাশীপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতি ২০০, নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ৬৬০, টাইডা ৪৫, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) ২০০, মিতু সেতু এডুকেশন অ্যান্ড চ্যারিটেবল সোসাইটি ২০, আরবান ৩৪, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র ৫৫০, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা (প্রকস) ১২, সহায় ১৩, নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ৪৩৫, রূপান্তর ২০০, নবলোক ২০০, সলিডারিটি ১৫০, পল্লী একতা উন্নয়ন সংস্থা ৪১০, ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ২৫৩, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন ৬২১, সোসাইটি ফর রুরাল বেসিক নীড ৪৩৭, ফোরাম ফর ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন ৬৩, দি গুড আর্থ ৩০, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) ৬২৬, লুৎফর রহমান ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন (এলআরবি) ৬৬৫, ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) ৯৭৩, বাংলাদেশ আলোকিত প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন সোসাইটি ২ হাজার ৮৯৭, অনিক মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ২ হাজার ৮৭১, মুভ ফাউন্ডেশন ১২১, আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন ৯৬৫, আদর্শ পল্লী উন্নয়ন সংস্থা ৩ হাজার ৫৯৮, হাইলাইট ফাউন্ডেশন ৮৬ জন পর্যবেক্ষকের পরিচয়পত্র চেয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের হয়ে পর্যবেক্ষণ করবে ২২টি সংস্থা। এসব সংস্থার অধীনে মোট পর্যবেক্ষক রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৩৯৪ জন।

এ ছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এশিয়ান ফাউন্ডেশন, জাপান, স্পেন, জার্মান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে দূতাবাস, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম (আইএফইএস), ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, দিপেন্দ্র ক্যান্ডেল ইনিশিয়েটিভ (ডিকেআই) থেকে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের আবেদন এসেছে। প্রসঙ্গত, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আইন আরপিওতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। সর্বশেষ ইসি গত জুনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ কারার জন্য  দেশের ১১৯ সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে পরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে অভিযোগ আসায় পর্যবেক্ষক সংস্থা অধিকারের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। বাকি ১১৮টি সংস্থা ২০২৩ সালের  মে পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ

বিপর্যয়ের মুখে তেরেসা মে

অনেক বাস হাওয়া, দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

জাপায় কেন এই অস্থিরতা?

অনলাইনে ডলার বিক্রির নামে প্রতারণা

হঠাৎ বেড়েছে গুলির ঘটনা

ওবায়দুল কাদেরকে কেবিনে নেয়া হয়েছে

ডাক বিভাগের ‘নগদ’-এর কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিনেটরকে ডিম মারা প্রসঙ্গে যা বললেন ‘ডিম বালক’

মুক্তি কিসে স্বৈরশাসনে নাকি গণতন্ত্রের পুনঃউদ্ভাবনে?

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হতো না

৪৮ বছর পরও আমরা এমনটি আশা করিনি

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত মাহবুব তালুকদার

বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি না করলে দেশের আরো উন্নতি হতো

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই বিএনপির অঙ্গীকার

বিনম্র শ্রদ্ধায় সারা দেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত