গোপন বৈঠক করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা: রিজভী

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার, ১২:২৩ | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক তথা রিটার্নিং অফিসাররা। আজ নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।  রিজভী বলেন, নীলনকশার মাধ্যমে অবৈধ সরকারের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য লোক দেখানো নির্বাচন আয়োজনে ফন্দি-ফিকির করছে জেলা প্রশাসক তথা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ক্ষমতাসীনদের মাষ্টারপ্লান অনুযায়ী প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রহসনমূলক নির্বাচনী ছক তৈরী করে এগিয়ে চলছে।

শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন। ভোট ডাকাতি প্রস্তুতির শলাপরামর্শ করছেন। নির্বাচনে জাল-জোচ্চুরির সব প্রস্তুতি পাকা করছেন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, গতকাল রোববার সকল জেলার প্রশাসকরা স্ব স্ব এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডিসিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তারা বলেছেন, আপনারা জানেন সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি বিজয়ী হয়ে যাবে, তাই এই সরকারকে আবারও ক্ষমতায় রাখতে হলে বুঝেশুনে কাজ করতে হবে।
যেকোন মূল্যে এই সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। কাজেই এদিক ওদিক করার মতলব থাকলে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন, মাঠে কাজ করবে পুলিশ ও র‌্যাব।
আপনাদের দায়িত্ব হলো তাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করা এবং সহযোগিতা প্রদান, প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপদে কন্ট্রোল রুমে আসার ব্যবস্থা করবেন ও প্রিজাইডিং অফিসারদের ব্ল্যাঙ্ক সিগনেচার নিয়ে রাখবেন। সেটা সময়মতা কাজে লাগানো হবে। এই সরকারকে যেকোন প্রকারে হোক ক্ষমতায় রাখতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীককে জয়ী করার জন্য ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে।

সকাল হওয়ার পর ভোটগ্রহণের আগেই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষের এজেন্টগণ তাদের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে স্ব স্ব কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে সরকার দলীয় লোকজন তাদের ঢুকতে বাধা দিবে এবং কেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশ সহায়তা করবে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চিত ভরাডুবির আশংকায় অস্থির ও বেসামাল হয়ে পড়েছে। তারা বিএনপি’র বিরুদ্ধে অনর্গল মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া সন্ত্রাসে নেমেছে। পাকিস্তান হাইকমিশনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গোপন বৈঠকের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বললেন রিজভী।

তিনি বলেন, একটি দেশকে নিজেদের পক্ষে টানতে, অনুকম্পা ও সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের নেতাদের নামে আজগুবী ভিত্তিহীন কথা ছড়াচ্ছে। গতকাল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ধানমন্ডীতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পাকিস্তানি দূতাবাসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক করেছেন। এই অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশন গতকাল সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে। লিখিত বার্তায় তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের কোনো কূটনীতিকের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক হয়নি।

মিথ্যা কুৎসা প্রচারণায় বিকারগ্রস্ত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। গোষ্ঠী স্বার্থে দেন-দরবার করার ঐতিহ্যই হচ্ছে আওয়ামী লীগের। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাহেবই তো ৭ দিন পাকিস্তানে কাটিয়ে আসলেন। এই ধরনের মিথ্যাচার থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের অর্থপুষ্ট দালাল মিডিয়া বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও তাদের মদদপুষ্ট কিছু দালাল মিডিয়াকে বলবো-বিকৃত অপপ্রচার না চালিয়ে আওয়ামী লীগের গোপন দেন-দরবারগুলি প্রকাশ করলে জাতি উপকৃত হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রোহিঙ্গারা ফেরত না গেলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রেমিটেন্স ১৬শ’ কোটি ডলার ছাড়ালো

টিকে রইলো পাকিস্তান

সংকট সমাধানে আশাবাদী বিএনপি

এ যেন আরেক আয়লান

মাহমুদুল্লাহর সুস্থতার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

মায়ের ভিডিওকলে অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের সংসার ভাঙার উপক্রম!

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ

টেলিকম খাতে করের বোঝা চাপিয়ে প্রবৃদ্ধিকে আটকে দেয়া হয়েছে

ফেসবুক, ইউটিউব গুগলকে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগের নির্দেশনা

তিউনিশিয়া থেকে ফিরলো আরো ২৪ জন

মাঠের অভাবে ছুটিতে বাংলাদেশ

চুড়িহাট্টা ও এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিতে চায় সরকার

মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই ডুবলো সিলেট নগর

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে পদে পদে মৃত্যু ঝুঁকি