মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের টিকিট পেলেন ৩৫ আইনজীবী

শেষের পাতা

নাজমুল আহসান রাজু | ৯ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০৭
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৩৫ আইনজীবীর চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়েছে। আইনজীবীদের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ। ১৪ জন আইনজীবীকে দলের টিকিট দিয়েছে দলটি। যা দলীয় মনোনয়নের ৩৩ শতাংশ। বিএনপি থেকে চূড়ান্ত ২০৬ প্রার্থীর মধ্যে ১২ আইনজীবী মনোনয়ন পেয়েছেন যা দলটির মোট মনোনয়নের ২৪ শতাংশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ ছিলেন আইনজীবী। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ছিলেন ২৭ শতাংশ। প্রথম সংসদ নির্বাচনে আইনজীবী ২৭ শতাংশ।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর থেকে ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৫৩ শতাংশ পৌঁছে। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৮, ৫৭ ও ৫৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের দশম সংসদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ ছিলেন আইনজীবী।

গত ৪ঠা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, ‘১৯৭০ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্যে এ সংখ্যা কমতে কমতে এখন কতিপয় আইনজীবীর মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে। আইনজীবীদের জায়গা দখলে নিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীরা। তাই আমরা সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই যেন আইনজীবীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।’

সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে গত তিনবছর বিরামহীন গণসংযোগ চালিয়েও মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। মনোনয়ন পেলে এটর্নি জেনারেল পদ ছাড়তেও রাজি ছিলেন তিনি। তার আসনে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রবীণ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন চাইলেও পাননি। তার আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। ভোলা-২ আসনে মনোনয়ন পাননি দলের উপদেষ্টা কমিটির অপর সদস্য ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন আলী আজম মুকুল। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওসার ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়ন তুললেও দলের সিদ্ধান্তে মহাজোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-৭ আসনে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান মানিক নেত্রকোনা-৩ আসনে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী ঢাকা-১৮ আসনে, ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব টাঙ্গাইল-৬, ব্যারিস্টার তানজীব-উল-আলম চট্টগ্রাম-২ আসনে, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রসিকিউটর এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল ঢাকা-১৬ আসনে, এডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক ময়মনসিংহ-৮ আসনে, এডভোকেট রবিউল আলম বুদু পাবনা-২, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মনোয়ার হোসেন নীলফামারী-১ আসনে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকেই নির্বাচনে লড়েন। কিন্তু সম্পদের হিসাব দাখিল না করার মামলায় গত ১৭ই নভেম্বর হঠাৎ করে বিচারিক আদালতে তিনবছর দণ্ডিত হয়ে তিনি বাদ পড়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি। ঢাকা-২০ আসনে একাধিকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান বাদ পড়েছেন। তার আসনে দলীয় টিকেট পেয়েছেন তমিজউদ্দিন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর মৌলভীবাজার-১ আসনে চূড়ান্ত হয়েছেন নাসিরউদ্দিন মিঠু, চট্টগ্রাম-৫ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন দণ্ডিত হওয়ায় বাদ পড়েছেন। ওই আসনে তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মীর হেলাল জানিয়েছেন মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। এ আসনে বিএনপি’র অপর প্রার্থী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

তিনি সাবেক হুইপ ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। সাবেক উপমন্ত্রী ও রাজশাহী বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক নাটোর-২ আসনে এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি’র মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমের স্থলে তার শ্বশুর মো. আবদুল মান্নানকে প্রার্থী করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান টাঙ্গাইল-৮ আসনে,  বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া নরসিংদী-৩ আসনে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বরিশাল-২ আসনে এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জামালপুর-৩ আসনে, এডভোকেট আবেদ রাজা মৌলভীবাজার-২ আসনে, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া-২ আসনে, এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বরিশাল-১ আসনে, এডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ ও এডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনে, এডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম ও এডভোকেট ড. আরিফা জেসমিন নাহিন নেত্রকোনা-২ আসনে মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন।

আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত প্রার্থী
আওয়ামী লীগ দলীয় আইনজীবী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- পঞ্চগড়-২ আসনে এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, রংপুর-৬ আসনে বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-৫ আসনে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, ঢাকা-২ আসনে এডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা-১০ আসনে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১৮ আসনে এডভোকেট সাহারা খাতুন, পাবনা-১ আসনে এডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু, নরসিংদী-৫ আসনে এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে এডভোকেট আনিসুল হক, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুব আলী, কুমিল্লা-৫ আসনে এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, পিরোজপুর-১ আসনে এডভোকেট শম রেজাউল করিম, নাটোর-৩ আসনে এডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ পলক।  

বিএনপি’র চূড়ান্ত প্রার্থী
বিএনপি দলীয় আইনজীবী প্রার্থীরা হলেন-পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, রাজশাহী-৫ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ঝিনাইদহ-৫ আসনে এডভোকেট আবদুল মজিদ, মাগুরা-২ আসনে এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বরিশাল-৩ আসনে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বরিশাল-৫ আসনে এডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার, ঝালকাঠি-১ আসনে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, নেত্রকোনা-১ আসনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, টাঙ্গাইল-৬ আসনে এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী
মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে আইনজীবী প্রার্থী-চট্টগ্রাম-৪ আসনে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশিদ, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে এডভোকেট মো. মজিবুল হক চুন্নু, গাইবান্ধা-১ আসনে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বগুড়া-৬ আসনে এডভোকেট আলতাফ আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এডভোকট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও গাইবান্ধা-৩ আসনে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার।

জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত প্রার্থী
জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে আইনজীবী প্রার্থী হলেন- বাগেরহাট-৩ আসনে এডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, যশোর-৫ আসনে এডভোকেট গাজী এনামুল হক।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে’

মানবজমিন রিপোর্টার রাশিদুলের আগাম জামিন

জারদারিকে অযোগ্য ঘোষণার ২ আবেদন সুপ্রিম কোর্টে

রাবি ছাত্রলীগ ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে মারামারি, আহত ২

ফ্রান্স থেকে ১০০০ কোটি রুপির অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর

গণতন্ত্রের আয়নায় নিজেকে দেখুন

দণ্ডিত দুই সাবেক আইজিপির জামিন

এক বছরে চীনে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি

বাংলাদেশকে ট্রেনের আড়াইশ বগি সরবরাহ দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

সিরিয়ায় রাতভর ইসরাইলের সামরিক হামলা

এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর লাশ

হুইল চেয়ারে আদালতে খালেদা জিয়া অভিযোগ গঠন শুনানী ৪ ফেব্রুয়ারি

আরো আড়াইশ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৩০

বেরোবির ৪০৭টি শুন্য আসনে ভর্তির সাক্ষাতকার ২৭ শে জানুয়ারি

তিনজনের ঠিকানা হয়েছে ওসিসি