সামাজিক ব্যাধিমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৩
সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের
সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে। যে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এগুলো একটি সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। কিন্তু এই অভিযান অব্যাহত রেখে দেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে হবে। গতকাল রাজধানীর শাহবাগে সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এমন জায়গায় দেশকে রেখে যাচ্ছি যেন বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে না হয়। সামনের দিকে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সে অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।


কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করাই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই যে দিকনির্দেশনাগুলো দিয়ে গেলাম সেগুলো অন্তত যদি অনুসরণ করা হয় তাহলে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি দেশের মানুষের আরো উন্নত জীবন নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা আমরা এজন্যই করেছি যেন দেশের সেবাটা আপনারা ভালোভাবে করতে পারেন। তিনি এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে পৃথিবীতে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, তার দেশের অর্থনীতিটা একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে বলেই এগুলো করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি হলুদ সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকায় এটা ওটা লেখা হয়, আর আমাদের অনেকেই সেটা নিয়ে ঘাবড়ে যায়। আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচালনায় পত্রিকার লেখা পড়ে গাইড লাইন গ্রহণ করি না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা এবং নিজস্ব পরিকল্পনা। কে কি বললো সেটা শুনে রি-অ্যাক্ট করার চিন্তাতেই আমি বিশ্বাস করি না। তবে, পত্রিকা থেকে তিনি খবর এবং তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশটা আমার, আমার দেশকে আমি চিনি, আমি জানি দেশের জন্য কোন্‌টা ভালো হবে। আর যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি তখন অবশ্যই জানবো কোথায় কি সমস্যা আছে, কোথায় কি করতে হবে।

জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর পদক বিজয়ী শ.ম. আজহারুল ইসলাম সনেট, শরিফ আসিফ রহমান এবং মো. মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্নকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ ছাড়াও তাদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং তিনটি ব্যাচের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’বছর বা তিন বছর মেয়াদি দারিদ্র্যবিমোচন পরিকল্পনা যেগুলো আগের সরকার করে গেছে সেভাবে একটা দেশ কখনও উন্নত হতে পারে না। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেমন নিতে হবে এবং আশু করণীয় কি সেই পরিকল্পনাও গ্রহণ করে তার বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে এবং সেজন্য তার সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ ও ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আমরা সেই অনুযায়ী ২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণা দেই এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমাদের গৃহীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ২০০১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার যেটা বর্তমানে আমরা ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি তাকে আরো ৪/৫ ভাগ কমিয়ে আনবো। তখন বাংলাদেশকে আমরা বলতে পারবো দরিদ্রমুক্ত। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্রের হার ১৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার আমেরিকা থেকে একভাগ হলেও কমিয়ে আনবো। এত বড় দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না গেলেও দেশকে একটি মর্যাদার আসনে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। তিনি বলেন, পাশাপাশি ২০৭১ সাল যখন আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী উদযাপন করবো এবং সেই পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা থেকে যাবে যেন আগামী প্রজন্ম সেই শতবার্ষিকী ভালোভাবে উদযাপন করতে পারে। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সৈনিক এখানেই প্রস্তুত। আমি সেটাতেই আনন্দিত। আমরা হয়তো ততদিন বাঁচবো না কিন্তু আপনারাই তখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

এটা আপনাদেরই দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে আমি আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা এসব কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষকে ভালোবেসে সবাইকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। সততাই শক্তি। আর দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করতে হবে। কারণ এ দেশটি আমাদের এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এটা অর্জন করেছি। এ স্বাধীনতাকে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। তিনি বলেন, আমার নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তা যারা, যারা আমার ২০৪১’র সৈনিক তাদের জীবনটা সুন্দর ও সফল হোক এবং তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক- সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশের ডিজিটাইজেশনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। যোগাযোগ খুবই সহজ হয়ে গেছে, জানা সহজ হয়েছে এবং কাজের সুযোগও অনেক বেড়ে গেছে। কাজেই আমি চাইবো এই ধারাটাকে অব্যাহত রেখে আমাদের সকলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মমতার মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা

খুলনায় বকুলের সমর্থকদের ওপর হামলা

সভাপতি সাইফুল আলম, সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন

পাক মন্ত্রীর হাফিজ সাইয়িদকে রক্ষার অঙ্গীকার

রাশিয়া ও চীনকে মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে জাপান

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবকিছু করবে পাকিস্তান: ইমরান খান

‘সাদা পোষাকে লোকজন কালো মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায় বাবাকে’

পুলিশের কাছে জিম্মি সিয়েরালিওনের যৌনকর্মীরা

মুন্সীগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই

রংপুরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় জাপা

ফের আফরোজা আব্বাসের প্রচারণায় হামলা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেলেন মইনুল

আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন রোধে ইসি’র নিস্ক্রিয়তায় উদ্বিগ্ন টিআইবি

পৃথক দুই মামলায় বিএনপির শতাধিক আসামী

ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ্উদ্দিনের প্রচারণায় হামলা

সুইডিশ পার্লামেন্টে বিস্ময় প্রথম হিজাব পরা মুসলিম নারী এমপি লায়লা