পুলিশ ইংরেজি না বোঝায়...

রকমারি

অনলাইন ডেস্ক | ৩ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:১৬
সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে মূল অপরাধীর ছাড় পাওয়া বা নিরপরাধের শাস্তি হওয়ার নজির অনেক রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র ইংরেজির অজ্ঞানতায় জেল খাটতে হয়েছে এমন উদাহরণ সম্ভবত নেই। এবার সেই নজিরও গড়েছে ভারতের বিহার পুলিশ। ইংরেজিতে লেখা আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা ভুল বুঝে ব্যবসায়ীকে হাজতে পুরে দিয়েছে তারা।

বিচারকের নির্দেশ ছিল, সম্পত্তির হিসাব করার। কিন্তু বিহার পুলিশের ইংরেজি না বোঝায় এক রাত হাজত খেটে তার মাশুল দিলেন এক ব্যবসায়ী। ভুল ভাঙল পরের দিন আদালতে পেশ করার পর।

গত ২৫শে নভেম্বরের এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের জেহানাবাদে। আর ইংরেজির ভুলের স্বীকার সেখানকার মিষ্টি ব্যবসায়ী নীরজ কুমার। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় তাঁর স্ত্রী রেণু দেবীকে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা তাঁর।
সম্প্রতি সেই টাকা দিতে পারছিলেন না বা দিচ্ছিলেন না নীরজ। স্ত্রী ফের আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত নির্দেশ দেয়, নীরজের অস্থাবর সম্পত্তি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে।

বিচারকের নির্দেশের কপিতে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘ডিসট্রেস ওয়ারেন্ট’, অর্থাৎ সম্পত্তির হিসাব করার নির্দেশ। কিন্তু ‘ওয়ারেন্ট’ শব্দটি থাকাতেই জেহানাবাদের পুলিশ মনে করে সেটি ‘অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট’ অর্থাৎ ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’। স্বাভাবিক ভাবেই নীরজ কুমারকে ধরে এনে হাজতে পুরে দেয় পুলিশ। পরের দিন আদালতে পেশ করা হয়। সেখানে পেশ করা হয় ওই ‘ডিসট্রেস ওয়ারেন্ট’। তখনই বিচারক পুলিশের ইংরেজির ভুল ভাঙিয়ে দেন।

লালুপ্রসাদের ছেলে তেজপ্রতাপের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা লড়ছেন আইনজীবী যশোবন্ত কুমার শর্মা। তিনি বলেন, সম্পত্তির হিসেব করার নির্দেশকে ‘ডিসট্রেস ওয়ারেন্ট’ বলা হয়। কিন্তু সেটাকে পুলিশ কীভাবে ভুল করে ‘অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট’ ভাবল, সেটাই আশ্চর্যের। পটনা হাইকোর্টের আইনজীবী বিনয় কুমার পান্ডে বলেন, সাধারণত এই ধরনের নির্দেশ সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভবত পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছিল। সেই কারণেও এই ভুল হতে পারে। এখন নীরজ কুমার পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন। এমনটাই বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার।


জেহানাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পঙ্কজ কুমার ‘ভুল’ স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘ওই নির্দেশে কোথাও বলা ছিল না ওটা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। নির্দেশে ছিল, নীরজের স্ত্রীকে মাসে ২৫০০ টাকা খোরপোষ দিতে না পারলে তাঁর অস্থায়ী সম্পত্তির পরিমাণ হিসাব করে আদালতে পাঠাতে হবে।’

নীরজ কুমার জানিয়েছেন, ২০১২ সালে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী রেণু দেবীর সঙ্গে অশান্তি চলছিল। ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে পণের মামলা করেন। তার জেরে তিনিও বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন। সেই মামলাতেই আদালত তাঁকে প্রতি মাসে স্ত্রীর খোরপোষ হিসাবে ২৫০০ টাকা দিতে বলে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মমতার মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা

খুলনায় বকুলের সমর্থকদের ওপর হামলা

সভাপতি সাইফুল আলম, সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন

পাক মন্ত্রীর হাফিজ সাইয়িদকে রক্ষার অঙ্গীকার

রাশিয়া ও চীনকে মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে জাপান

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবকিছু করবে পাকিস্তান: ইমরান খান

‘সাদা পোষাকে লোকজন কালো মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায় বাবাকে’

পুলিশের কাছে জিম্মি সিয়েরালিওনের যৌনকর্মীরা

মুন্সীগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই

রংপুরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় জাপা

ফের আফরোজা আব্বাসের প্রচারণায় হামলা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেলেন মইনুল

আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন রোধে ইসি’র নিস্ক্রিয়তায় উদ্বিগ্ন টিআইবি

পৃথক দুই মামলায় বিএনপির শতাধিক আসামী

ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ্উদ্দিনের প্রচারণায় হামলা

সুইডিশ পার্লামেন্টে বিস্ময় প্রথম হিজাব পরা মুসলিম নারী এমপি লায়লা