ইয়াসিরের ১৪ উইকেটে কিউইদের ইনিংস পরাজয়

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলা ২৮ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

প্রথম ইনিংসে ইয়াসির শাহর ৮ উইকেটের ভেলকিতে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। আর ফলোঅনে পড়ে লড়াই করেও লজ্জা এড়াতে পারেনি কিউইরা। গতকাল দুবাইতে ইয়াসিরের স্পিন ঘূর্ণিতেই ইনিংস ও ১৬ রানের ব্যবধানে হার দেখে কেন উইলিয়ামসনের দল। আর তিন ম্যাচ সিরিজে দাপটের সঙ্গেই ১-১ সমতায় ফেরে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে আবারো রেকর্ডবুকে ঢুকে পড়েন ইয়াসির। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে ম্যাচে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগারের কীর্তি গড়েন ৩২ বছর বয়সী এই লেগস্পিনার। আর ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৪ উইকেট নিয়ে ইমরান খানের পাশে নাম লেখান তিনি। ছাড়িয়ে যান স্বদেশি কিংবদন্তি লেগস্পিনার আবদুল কাদিরের ১৩ উইকেটের কীর্তি।
গতকাল চতুর্থ দিনে ৩১২ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। ১৩১/২ সংগ্রহ নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে কিউইরা। তৃতীয় সেশনে ৬.৫ ওভারে শেষ তিন উইকেটের পতন ঘটে। ১১২.৫তম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টকে (০) সরফরাজ আহমেদের গ্লাভসবন্দি করে ইনিংস ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ইয়াসির। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবার ইনিংস ব্যবধানে জয় কুড়ায় পাকিস্তান। হারিস সোহেল (১৪৭) ও বাবর আজমের (১২৭*) জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪১৮/৫ সংগ্রহ নিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। আর টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ (১ ড্র, ৪ হার) পর জয় পেলো সরফরাজ আহমেদের দল। জুটি গড়ে ইনিংস ব্যবধান এড়ানোর পথেই ছিল নিউজিল্যান্ড। বিজে ওয়াটলিং ও হেনরি নিকোলসের পঞ্চম উইকেট জুটি (৫৭) ভাঙার পরই সেই লক্ষ্য থেকে ছিটকে যায় তারা। দলীয় ২৫৫ রানের মাথায় ওয়াটলিংকে (২৭) এলবিডব্লিউ করেন ইয়াসির। এরপর ৩০ রান যোগ হতে আরো ২ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন রস টেইলর। ওপেনার টম ল্যাথাম ৫০, অধিনায়ক উইলিয়ামসন ৩০, নিকোলস ৭৭ রান করে আউট হন। তিন উইকেট পান পেসার হাসান আলী। ৪৪.৫ ওভারে ১৪৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নেন ইয়াসির। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ৫৭.২ ওভারে ১৪/১৮৪। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোর্টনি ওয়ালশের সেরা বোলিং ফিগারের (১৩/৫৫) রেকর্ডও টপকে যান ইয়াসির। ইয়াসির ও সাবেক অধিনায়ক কিংবদন্তি পেসার ইমরান খান ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনো বোলারের টেস্ট ম্যাচে ১৪ উইকেটের নজির নেই। ১৯৮২ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১৬ রানের বিনিময়ে ১৪ উইকেট নেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এক ম্যাচে ১৪ উইকেট নেয়ায় ১২তম ঘটনা এটি। সর্বাধিক ১৯ উইকেট নেয়ার রেকর্ড সাবেক ইংলিশ অফস্পিনার জিম লেকারের (১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। ১৯১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭ উইকেট নেন ইংলিশ পেসার সিডনি বার্নস। টেস্ট ম্যাচে ১৬ উইকেট নেয়ার ঘটনা আছে তিনটি। ১৫ উইকেট নেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে ৭টি। পাকিস্তানের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটসংগ্রাহক তালিকায় মুস্তাক আহমেদকে (১৮৫) ছাড়িয়ে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছেন ইয়াসির। ৩২ টেস্টের ক্যারিয়ারে ইয়াসিরের উইকেট সংখ্যা ১৯৫। সামনে সাকলাইন মুস্তাক (২০৮)। ৪১৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ওয়াসিম আকরাম। এরপর যথাক্রমে ওয়াকার ইউনুস (৩৭৩), ইমরান খান (৩৬২), দানিশ কানেরিয়া (২৬১), আবদুল কাদির (২৩৬)। আবুধাবিতে আগামী ৩রা ডিসেম্বর সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। এই ভেন্যুতেই নাটকীয় প্রথম টেস্টে মাত্র ৪ রানে হার (১৭৬ টার্গেট) দেখে পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: পাকিস্তান (ব্যাটিং)
পাকিস্তান: ৪১৮/৫ ডিক্লে.
নিউজিল্যান্ড: ৯০ ও ৩১২
ফল: পাকিস্তান ইনিংস ও ১৬ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: ইয়াসির শাহ

খেলা অন্যান্য খবর

অর্ণবের জন্য ভালোবাসা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

আর্সেনাল-ম্যান সিটি লড়াই আজ

আরেক পরীক্ষায় কোচ গার্দিওলা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯





আপনার মতামত দিন

খেলা সর্বাধিক পঠিত