ইসি ভবন যেন আওয়ামী লীগের অফিস- রিজভী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে সরকারি দলের লোকজনদের অবাধ বিচরণে আওয়ামী লীগের অফিসে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নির্বাচন ভবনটি এখন আওয়ামী লীগের অফিসে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বিগত ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে সরকারি দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বর্তমান কমিশন। সরকার প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বিরোধী দলকে যেখানে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না, সেখানে সরকারি দলকে নানা ধরনের তথ্য দিয়ে সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশ প্রতিপালনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত নির্বাচন ভবনে অফিস করছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা। ২০১৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা। এরপর সর্বশেষ গত ৭ই নভেম্বর ও ১৪ই নভেম্বর দুই দফা আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নির্বাচন কমিশনে যান তিনি। রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন বাবলা। এই বাবলার ভয়ে তটস্থ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন স্তরের মেধাবী কর্মকর্তারা। গোপনে তথ্য না দিলে তাদেরকে সরকারবিরোধী লোক বলে অভিযুক্ত করে বদলিসহ নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন তিনি। গত এক দেড় বছরে এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ নানাভাবে বাবলাদের সাহায্য সহযোগিতা করেন। রিজভী বলেন, এই বাবলা কমিশনের কর্মকর্তাদের কক্ষে অনুমতি ছাড়া অবাধে যাতায়াত করেন। ইসির গোপনীয় তথ্য আওয়ামী লীগের অফিসে পাচার করেন। নির্বাচন কমিশন থেকেও তাকে দেয়া হয় বিশেষ ধরনের সুবিধা। কমিশনের কিছু সরকারি সুবিধাভোগী কর্মকর্তার সঙ্গে রয়েছে তার বিশেষ সখ্য। আমাদের কাছে এ ধরনের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ খানের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ভালো। এই ফরহাদ আহমেদ খান সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগী। রিজভী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার আগের দিন পুলিশের আইজিকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সভা-সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল সেই চিঠি স্বাক্ষরকারী এই ফরহাদ আহমেদ খান। ফরহাদ ও বাবলা যৌথভাবে আজ্ঞাবহ ইসি ও সরকারে নানা ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। তিনি বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রী-এমপিরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রকার আচরণ-বিধি তৈরি হয়নি। পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থায় জগাখিচুড়ি অবস্থা বিরাজ করছে। নির্বাচনী আচরণ-বিধির প্রতিপালন না ঘটিয়ে বরং সরকারবিরোধীদেরকে নানাভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকার আচরণ-বিধি ভঙ্গ করলেও নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং নির্বাচন কমিশনকে নানাভাবে ব্যবহার করছে সরকার। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও আজ পরিণত হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে বাবলার অবাধ বিচরণই সেটির প্রমাণ। সময় থাকতে আপনারা পরিবর্তন হন, তা না হলে জনগণ আপনাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিজ আসন থেকেই প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী ৩৪,৬৭১ স্থানীয় পর্যবেক্ষক

উচ্চ আদালতে হাজারো জামিনপ্রার্থী, দুর্ভোগ

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে

হাইকোর্টেও বিভক্ত আদেশ

সব দলকে অবাধ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি

নোয়াখালীতে গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত

ভুলের খেসারত দিলো বাংলাদেশ

চার দলের প্রধান লড়ছেন যে আসনে

কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু আজ

দেশজুড়ে ধরপাকড়

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিন জনের হাতে

আবারো বন্ধ হলো ৫৪টি নিউজ পোর্টাল

নারী প্রার্থীদের অঙ্গীকার