নি র্বা চ নী হা ল চা ল কিশোরগঞ্জ ৫

মনোনয়ন লড়াইয়ে ২৫ নেতা

শেষের পাতা

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৩
কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলী এই দুই উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা। বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনটিগঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৮ হাজার ৬১৩ জন। হাওর-সমতলের এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত।

১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনজুর আহমদ বাচ্চু এই আসন থেকে বিজয়ী হলেও দীর্ঘদিন এই আসনটি হাতছাড়া থাকে আওয়ামী লীগের। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলহাজ মো. আফজাল হোসেনের হাত ধরে দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ এ আসনটি লাভ করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলহাজ মো. আফজাল হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই আসনে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।
আসনটিতে দুই দলের অন্তত ২৫ নেতা দলীয় প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে দুই দলের নেতারাই কেন্দ্রে যোগাযোগ রক্ষাসহ নানাভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মুহূর্তে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থক নেতাকর্মীরাও। দুই দলের প্রার্থী কারা হচ্ছেন, এ আলোচনা চলছে সংসদীয় আসনটির সাধারণ মানুষের মাঝেও।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আফজাল হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে, এমপি আফজাল হোসেন ছাড়াও এই আসনে অন্তত ১৪ নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ একেএম নূরুন্নবী বাদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ মুহাম্মদ শাহ্‌ নূর, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুব্রত পাল, নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইসহাক ভূঁইয়া, নিকলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারার সাইফুল ইসলাম, জেলা কৃষকলীগ সহসভাপতি ফারুক আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন, নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান বোরহান, বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোবারক হোসেন মাস্টার এবং জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম রতন। অন্যদিকে, বিএনপি থেকেও এই আসনে অন্তত ১১ নেতা তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেহুজ্জামান খান রুনু, বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহেসান কুফিয়া, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল আলম রাজন, বিএনপি নেতা বদরুল আলম শিপু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ইশতিয়াক আহমেদ নাসির, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজি মাসুক মিয়া, দুইবারের প্রয়াত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুর ছেলে মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল, নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাইদ এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে, জোটভিত্তিক নির্বাচন করলে বিএনপিকে আসনটি জামায়াত ছেড়ে দেবে না বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন চাইবেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মো. রমজান আলী। জামায়াত ছাড়াও এ আসনে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান খসরু এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বিএনপির মজিবুর রহমান মঞ্জুকে পরাজিত করে আফজাল আলোচিত হলেও আওয়ামী লীগের ভেতরে-বাইরে এখন তার ব্যাপক সমালোচনা আছে।

এবারের নির্বাচনে এমপি আফজালের মনোনয়ন ঠেকাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ নেতা জোটবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা হলেন- মো. আলাউল হক, শেখ নূরুন্নবী বাদল, অজয় কর খোকন, ফারুক আহম্মেদ এবং ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন। তাদের মধ্যে অজয় কর খোকনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এর বাইরে দলীয় মনোনয়নের জোর দাবি নিয়ে শহীদুল্লাহ মুহাম্মদ শাহ্‌ নূর এই আসনের দুই উপজেলায় গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচার-প্রচারণায় সরব ভদ্র ও সদালাপি এই নেতার পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় বিরাট জনমতও সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন তার সমর্থকেরা। ফলে শহীদুল্লাহ মুহাম্মদ শাহ্‌ নূরকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল। ফলে মনোনয়নের ব্যাপারে এবার মাঠপর্যায়ে বিনাযুদ্ধে ছাড় পাচ্ছেন না সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন। এ পরিস্থিতিতে সামনের নির্বাচনে সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন মনোনয়ন পাবেন কি না এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।

অন্যদিকে, বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে  পরপর দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির মজিবুর রহমান মঞ্জু। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিজেদের অন্তর্কোন্দলের কারণে বিএনপির হাতছাড়া হয় এ আসনটি। ২০১৫ সালের ১৮ই মে মঞ্জু মারা যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার হারিয়ে যাওয়া আসনটি ফিরে পেতে বিএনপির কয়েকজন তরুণ নেতা রাজনীতির মাঠ সরগরম রাখছেন।

তাদের নির্বাচনী তৎপরতা স্থানীয় বিএনপিকে আশান্বিত করছে। ভোটের মাঠে কাজ করা বিএনপির তরুণেরা হলেন- বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এহেসান কুফিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল আলম রাজন, ইতালি প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমানে জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল আলম শিপু ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ নাসির। তবে, মঞ্জু মারা যাওয়ার পর রাজনীতির মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় বিএনপিকে উজ্জীবিত রাখেন এহেসান কুফিয়া। পারিবারিকভাবে বাজিতপুরে প্রভাবশালী এহেসান কুফিয়া মেয়র থাকাকালীন এলাকার রাস্তা-ঘাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

সে হিসেবে বাজিতপুরে তার একচেটিয়া জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যাপক সক্রিয় থেকে দলে আলোচনায় আসেন তিনি। সরকারি রোষানলে পড়ে জেল-জুলমও খাটতে হয়েছে তাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে এখন মাঠ সরগরম রাখছেন তিনি। সমর্থকরা তার মনোনয়ন নিয়ে আশাবাদী। এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়ার ছবিসংবলিত পোস্টার-ব্যানার টাঙিয়ে এ আসনে তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি মনোননয়ন পেতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এ ছাড়া এ আসনে মনোনয়ন চাইছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. সালেহুজ্জামান খান রুনু। বাজিতপুরের এই নেতা তার সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে কাজ করছেন। চেষ্টা করছেন বিএনপির পক্ষে জনমত আদায়ের। দলের আন্দোলন সংগ্রামেও তিনি সক্রিয়। বাজিতপুর-নিকলীর বিভিন্ন এলাকায় তার পোস্টার-ব্যানার সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিজ আসন থেকেই প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী ৩৪,৬৭১ স্থানীয় পর্যবেক্ষক

উচ্চ আদালতে হাজারো জামিনপ্রার্থী, দুর্ভোগ

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে

হাইকোর্টেও বিভক্ত আদেশ

সব দলকে অবাধ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি

নোয়াখালী ও ফরিদপুরে নিহত ২

ভুলের খেসারত দিলো বাংলাদেশ

চার দলের প্রধান লড়ছেন যে আসনে

কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু আজ

দেশজুড়ে ধরপাকড়

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিন জনের হাতে

আবারো বন্ধ হলো ৫৪টি নিউজ পোর্টাল

নারী প্রার্থীদের অঙ্গীকার