ঢাকায় ভোটের অঙ্ক

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৫
বিরোধী জোট ও দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণায় জমজমাট নির্বাচনের ময়দান। নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা। দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সামনের কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে প্রধান দুই জোটের প্রতিদ্ব্বন্দ্বী  প্রার্থীদের নাম। আওয়ামী লীগের রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আজ প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। বিএনপি দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোট মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছে।
ভোটের আমেজের মধ্যেই আজ নির্বাচন আরো পেছানোর আবেদন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচন নিয়ে টানাপড়েন অনেকটা কাটলেও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে এখনো প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেক আগে থেকেই আগাম প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে তারা আরো তৎপর হয়েছেন।

অন্যদিকে অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা এতোদিন ছিলেন রাজনীতির মাঠ ছাড়া। তফসিল ঘোষণা ও জোটের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণায় তাদের মধ্যে কিছুটা প্রাণচঞ্চলতা ফিরছে। দলীয় মনোনয়ন নেয়াকে ঘিরে বিএনপি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মনোনয়ন নিতে নেতারা আসছেন, সঙ্গে আসছেন তাদের কর্মী সমর্থকরা। ভোটের মাঠে তৎপর ঐক্যফ্রন্টের অন্য শরিক দলের নেতাকর্মীরাও। তবে ভোটের মাঠে এখনো সমতার পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না খোদ প্রশাসনের কেন্দ্র ঢাকায়। গত দুইদিনে ঢাকার প্রায় সবক’টি নির্বাচন এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় আর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয় ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে দুই দলের নেতাকর্মীদের অবস্থানে উৎসবমুখর চিত্র থাকলেও রাজধানীর অন্য এলাকায় এখনো এক তরফা প্রচার-প্রচারণায় আছেন আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেক দিন থেকেই তারা আগাম প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। নির্বাচন কমিশন আজকের মধ্যে আগাম প্রচারের পোস্টার ব্যানার সরানোর নির্দেশ দিয়েছে।

যদিও গতকাল বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার পোস্টারে এখনো ছেয়ে আছে পুরো এলাকা। ব্যানার পোস্টার সরানোর কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি কোথাও। বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রার্থীর পক্ষে শোডাউন, প্রচার মিছিল করতেও দেখা গেছে। তবে দলীয় মনোনয়ন বিতরণ শুরু হওয়ার পর কোনো কোনো এলাকায় বিএনপি নেতারা তৎপর হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে দুই একদিনের মধ্যে তারা মাঠে নামবেন বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

সরজমিন ঢাকা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই নেতার সমর্থকরা প্রতিদিন শোডাউন ও প্রচার মিছিল করে যাচ্ছেন। তারা সড়ক বন্ধ করে মিছিল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ আসন থেকে বিএনপি বা তাদের জোট মিত্র থেকে প্রার্থী দেয়া হতে পারে। বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখানে বিরোধী জোটের কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। পাশের ঢাকা-৭ আসনে বর্তমান এমপি হাজী সেলিম অনেক দিন আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

এ আসনে আরো কয়েকজন প্রার্থী হতে চাইছেন। তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কেউ মাঠের প্রচারে নামেননি। পাশের আরেক আসন ঢাকা ১০ এ আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের পক্ষে অনেক আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চলছে। তবে এ আসনে বিএনপি বা তাদের জোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঢাকার কেন্দ্রের এ আসনে ভোটারদের মধ্যে এখনো নির্বাচনী আমেজ দেখা যায়নি।

ঢাকা-৫ আসনটি অনেকটা রাজধানীর প্রান্তিক জনপদ। যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মাঠে সরব প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও মাঠে পাওয়া যায়নি বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের। ঢাকা কেন্দ্রের আসন-১৭তে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা আগাম প্রচার-প্রচারণার চিহ্ন সর্বত্র।

আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের আগাম প্রচার পোস্টার ব্যানারে ছেয়ে আছে অলিগলি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত হলেও তা নির্বাচনী তৎপরতা এখনো শুরু হয়নি। ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীও অনেকটা চূড়ান্ত। তবে প্রচার প্রচারণা খুব একটা চোখে পড়েনি এ নির্বাচনী এলাকায়। তবে এ আসনে আগাম প্রচারের চিত্র দেখা গেছে কম।

ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমানেরও কিছু পোস্টার দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া মিরপুর ১০ থেকে ১২ ও মিরপুর ১ এবং ২ পর্যন্ত সড়কে দেখা গেছে শুধু আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার পোস্টার। যদিও জাসদ ও গণফোরামের নেতাদের কিছু পোস্টার দেখা গেছে কাজীপাড়া এলাকার দেয়ালে। ঢাকা-৮ আসনে পড়েছে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়। গত কয়েক দিন ধরে নয়া পল্টন এলাকায় উৎসবমুখর অবস্থা থাকলেও পাশের শাহজাহানপুর ও কমলাপুর এলাকায় নির্বাচনী আমেজ চোখে পড়েনি।

ঢাকা-১১, ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এক তরফা আগাম প্রচারের চিহ্ন। যদিও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি এতোদিন মামলা ও হয়রানির ভয়ে বিরোধী জোটের লোকজন নীরব ছিলেন। এখন তারা সরব হতে শুরু করেছেন। নতুন করে ধরপাকড় না হলে কিছু দিনের মধ্যেই তারা নির্বাচনী মাঠে নামবেন। আর মাঠে সমতা ফিরলে তখন ভোট উৎসব শুরু হবে সর্বত্র।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিজ আসন থেকেই প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী ৩৪,৬৭১ স্থানীয় পর্যবেক্ষক

উচ্চ আদালতে হাজারো জামিনপ্রার্থী, দুর্ভোগ

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে

হাইকোর্টেও বিভক্ত আদেশ

সব দলকে অবাধ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি

নোয়াখালী ও ফরিদপুরে নিহত ২

ভুলের খেসারত দিলো বাংলাদেশ

চার দলের প্রধান লড়ছেন যে আসনে

কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু আজ

দেশজুড়ে ধরপাকড়

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিন জনের হাতে

আবারো বন্ধ হলো ৫৪টি নিউজ পোর্টাল

নারী প্রার্থীদের অঙ্গীকার