নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৬
একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার  করা যাবে না। রিটার্নিং অফিসারদের এক ব্রিফিংয়ে ইসি জানিয়েছে, এবার সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে কমিশন। তাই সকল প্রকার পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে রিটার্নিং অফিসারদের কাজ করার নির্দেশনাও দেয়া হয়।

মঙ্গলবার ইসি সচিবালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ আর পেছানো হবে না। সংসদ ও সরকার বহাল থেকে নির্বাচন হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়ে গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০শে ডিসেম্বর পুনর্নির্ধারণ করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। এর আগে ২৩শে ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের দাবির প্রেক্ষিতে পুনঃতফসিল করা হয়।


আগামী ৩০শে ডিসেম্বর থেকে ভোট গ্রহণ আর পেছানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আমরা ৮ তারিখে তফসিল ঘোষণা করেছিলাম। এরপর সব রাজনৈতিক দল থেকে আমাদের অনুরোধ করায় খুশি হয়ে ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছি। এই ৩০ তারিখের পরে আর পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। সেটাকে সামনে রেখেই আপনাদের নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক প্রস্তুতি নিতে হবে; যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দায়িত্ব পালন করতে হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এদেশে উপহার দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, নানা কারণে ৩০ তারিখের পর এটা পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই।

প্রথম কারণ হলো যে- জাতীয় পর্যায়ে এত বড় একটা নির্বাচনের পর ২৯শে জানুয়ারির মধ্যেই কিন্তু আমাদের সংসদ অধিবেশন বসতে হবে। ভোটগ্রহণ থেকে এই সময়টা বড় বেশি নয়। কারণ ফলাফল প্রকাশ করতে সময়ের প্রয়োজন হবে। টঙ্গীতে ইজতেমায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সারা জাতির ১৬ কোটি মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। শুধু তাই নয়, পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা কোথায় যায়, কার সঙ্গে কি কথা বলেন, এগুলো সারা জেলার সব লোকের যতগুলো চোখ আছে তার ডাবল চোখ দিয়ে সেগুলো দেখে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখে। সেই দিক থেকে আপনারা অত্যন্ত জটিল পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছেন। সুতরাং আপনাদের মাধ্যমে নতুন অবয়বে, নতুন আঙ্গিকে, নতুন একটা প্রেক্ষাপটের মধ্যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।  

বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসলেই এবছর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট কিন্তু ভিন্ন। এই রকম পরিবেশে কখনো সংসদ নির্বাচন হয়নি। বাংলাদেশে কখনো রাষ্ট্রপতি শাসিত, কখনো সেনা বাহিনীর অধীনে, কখনো কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের অধীনে। কিন্তু সংসদ থেকে, সরকার থেকে এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট কখনো হয়নি। বলতে পারেন এরকম নির্বাচন ২০১৪ সালে হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে তো সব দল অংশগ্রহণ করেনি। সে কারণে সেটার সঙ্গে এই নির্বাচনের তুলনা করা যায় না। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই নির্বাচনে সব দল আমরা যেটাকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলি সেটা পরিপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। সেকারণে আপনাদের দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

সিইসি বলেন, আমরা নির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করেছি তা আপনারা জানেন। আমরা বারবার চেষ্টা করেছি, আশা করেছি, প্রত্যাশা করেছি যে, সকল দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচনটা যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। তাহলে হবে কি নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি প্রতিযোগিতার কারণে এবং প্রার্থীদের সমর্থকদের উপস্থিতির কারণে সেই নির্বাচনগুলো সঠিক হবে এবং সেই নির্বাচনে কোনো রকম অনিয়ম করার সুযোগ কম থাকে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের জেলা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের কাছে নির্বাচন কমিশনের সকল তথ্য, উপাত্ত সঠিকভাবে সুসজ্জিত আছে। তাদেরকে আপনারা সাহায্য সহযোগিতা করবেন এবং তাদের থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিবেন। সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে  দায়িত্ব পালন করলে আপনাদের ওপর সন্দেহ থাকবে না।

সিইসি বলেন, প্রার্থী এবং রাজনীতিবিদ এদের যারা জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা অনেকেই সম্মানীয় ব্যক্তি। অনেকেই মন্ত্রী ছিলেন, এমপি ছিলেন। অনেকে এমপি ছিলেন না। রাজনৈতিকভাবে তারা এলাকায় অত্যন্ত  সম্মানীয়  ব্যক্তি। আমি বিশ্বাস করি। আপনারা যদি আইনের মধ্যে থেকে তাদের সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক রাখেন। কেউ আপনাদের উপর আইনগতভাবে বাধা দেয়ার কারণ হিসেবে দাঁড়াবে না। আইনগতভাবে রেফারেন্স দিয়ে যদি কথা বলেন, তাহলে আপনাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বাড়বে। আপনারা তাদেরকে কখনো প্রতিপক্ষ হিসেবে নেবেন না। আইনগত বিষয়টি যদি তাদের সামনে ভালোভাবে তুলে ধরেন তাহলে কিন্তু তারা বন্ধু হিসেবে, সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন। আপনাদের সহযোগিতা করবে, বিরোধিতা করবে না। যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্বপালন করেন।

সিইসি আরো বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা একটা বিষয় আছে। ব্যক্তিগতভাবে আপনার, আমার পছন্দ, অপছন্দ থাকতে পারে। পরিষ্কার কথা আমরাতো ভোট দিতে যাবো। কাউকে তো ভোট দেবো। দায়িত্বপালনের সময় সবকিছু ভুলে যেতে হবে। শুধু নিরপেক্ষতা এবং একেবারে নিরপেক্ষতা এটাই হবে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মাপকাঠি।  

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনের ব্যত্যয় না করে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করবেন। ভোট কেন্দ্র নির্ধারণের সময় বলা হয় কোন কোন এলাকায় ভোট দিতে পারবেন। কোন কোন জায়গা অন্তর্ভুক্ত হবে। কোন ভোটাররা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আপনার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দিবেন। আপনাদের জন্য একটা তালিকা তৈরি করা আছে। নীতিমালার যেন ব্যত্যয় না ঘটে। কোনো চাপ বা কোনো অনুরোধ কোনো আদেশ নির্দেশ আপনাদের জন্য প্রজোয্য যেন না হয়। আমদের নীতিমালাটাই যেন হয় আপনাদের জন্য শেষ অস্ত্র। যদি আপনাদের ওপর বেশি প্রেশার হয় আমার পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি একটি অনুরোধ হলো তাদেরকে বলবেন দয়া করে বিষয়টি নিয়ে আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে যান। আমরা নীতিমালার বাইরে যেতে পারবো না।
তিনি বলেন, অতি উৎসাহী না হওয়ার জন্য আপনাদেরকে একটু অনুরোধ করবো।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার পর পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে ব্রিফ করবেন তারা যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। সাংবাদিকদের ব্যাপারে আমাদের একটা নীতিমালা আছে, সেই নীতিমালা অনুসারে উনারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে পারবেন অল্প সময়ের জন্য। ছবিও নিতে পারবেন। তবে কেউ সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। এ কমিশনার বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং বর্জন বাতিল করার কাজটা সবচাইতে জটিল এবং কঠিনতম কাজ। আপনাদের কাছে অনেককিছু আসবে। যে জিনিসগুলোর সিদ্ধান্ত নিতে আপনাদের হয়তবা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আপনাদের সিদ্ধান্তের পর কেউ  আপিল করলে ফুল কমিশন বসে তা নিষ্পত্তি করবে। তাদের আরো একটি অপশন আছে যদি আপনাদের বেশি চাপাচাপি করে তাহলে আপনারা বলে দিবেন আমরা আমাদের কাজ করেছি আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে যান। উনারা যদি আপনাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আমাদের আপত্তির কিছু নাই। এবং আপনারা জানেন আমরা যেই সিদ্ধান্ত দেই না কেন সেটা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এবং তারা নিয়ে আসবে। আপনাদের কাছ থেকে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব বা কোনো কিছু যেন না হয়।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, সব দিক থেকে এবারের নির্বাচনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। অনেকগুলো দলের অংশগ্রহণে এ নির্বাচন হয়ে থাকে। তাদেরকে মোকাবিলা করা অবশ্যই সব নির্বাচনের জন্য চ্যালেঞ্জিং বলে আমি মনে করি। কমিশনের মূল চালিকাশক্তি আপনারা যারা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন। সুতরাং চালক কমিশন হলেও যেহেতু ফুয়েল আপনারা ফুয়েলটা যদি নির্ভেজাল না হয় তাহলে গাড়িটা কিন্তু সঠিকভাবে চলবে না।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ক্ষমতায় আসতে না পারলে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

শেষ মরণ কামড় দিচ্ছে সরকার: রিজভী

টাঙ্গাইল ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব গ্রেপ্তার

সংঘাত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হতে পারে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ জনতা সংঘর্ষ, আটক ২৬

মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতা কর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে

ঝালকাঠিতে বিএনপি প্রর্থীর গাড়ী ভাংচুর, মারধর

দৌলতপুরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ আটক ১৪

বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে

আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্যই এ বানোয়াট ফোনালাপ

পাবনায় অধ্যাপক সাঈদের গাড়িতে হামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক মঞ্চে প্রার্থীরা, নিলেন শপথ

গো বলয়ের রঙ বদলে বিরোধীরা আত্মবিশ্বাসী

নিতাই রায় চৌধুরীর নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাংচুর

সিলেটে প্রচারণায় গিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ অসুস্থ

খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ থানায়