সিলেট বিএনপিতে আসছে ‘নতুন’ মুখ

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪০
দশ বছর আগেও সিলেট মাতিয়েছেন সাইফুর-ইলিয়াস। সিলেট বিএনপি’র কর্তৃত্ব ধরে রেখেছিলেন তারা দু’জন। এখন সেটি অতীত। এই দশ বছরে অনেক বদলে গেছে সিলেট বিএনপি। নেতৃত্বে এসেছে পরিবর্তনও। পুরাতনরা হারিয়ে যাওয়ায় নতুন কাঁধে তুলে নিয়েছেন দায়িত্ব। সরকারের বিরোধী বলয়ে থেকে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সিলেটে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন তারা। আন্দোলন, নির্বাচনকে সঙ্গে নিয়ে সমানতালে এগিয়ে চলেছেন।
বদলে যাওয়া সিলেট বিএনপিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আসছে নতুন মুখ। এ নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতাও। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই যোগ্যরাই পাবেন সিলেটের মনোনয়ন এমনটি জানিয়েছেন বিএনপি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি এ আসনের এমপি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর এ আসনটি শূন্য হয়ে যায়। মাঝখানে বিএনপি’র হয়ে এ আসনে এসেছিলেন দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি পদত্যাগ করার পর এ আসনে নতুন মুখ খুঁজে পেয়েছে বিএনপি। প্রায় ৭ বছর ধরে সিলেট-১ আসন নিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সিলেটের আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি রয়েছেন একাট্টা। সিলেট বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে হওয়ার সুবাদে খুব দ্রুততম সময়ে তিনি পরিচিত পান। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৪শে অক্টোবর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে ১২ দিন কারাভোগ করেছেন। সিলেট-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। গতকাল বিকালে দলীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোনয়ন কিনেন সিলেট মহানগর বিএনপি’র উপদেষ্টা তোফায়েল খান। মহানগর বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন- আন্দোলনের পাশাপাশি সিলেটে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। প্রায় ৪ মাস আগেই তিনি সেন্টার কমিটি গঠন করে রেখেছেন। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদরে তার প্রভাব রয়েছে। এদিকে- সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেটের শীর্ষ নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হতে লবিং চালাচ্ছেন। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের নাম শোনা গেলেও তাদের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া যায়নি। ডা. জোবায়দা বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে অবস্থান করছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে যিনিই এ আসন থেকে বিএনপি’র হয়ে প্রার্থী হবে তিনি হতে যাচ্ছেন নতুন মুখ। তাকে নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হবে বিএনপিকে।

সিলেট-২ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামেন। তবে- ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও সিলেট বিএনপি’র একতরফা কর্তৃত্ব তার হাতে চলে আসে। বর্তমান সরকারের শাসনের শুরুতে এম. ইলিয়াস আলী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দিয়ে সিলেটকে চাঙ্গা করে তোলেন। ২০১২ সালে ঢাকায় নিখোঁজ হন এম. ইলিয়াস। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান মিলেনি। ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র হাল ধরেছেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এ আসন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সাংসদ প্রার্থী হচ্ছেন লুনাই। বিএনপি’র তরফ থেকে ইতিমধ্যে এম. ইঙ্গিত মিলেছে। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও এম. ইলিয়াস আলীর পরিবারের ঘনিষ্টজন মো. ময়নুল হক মানবজমিনকে গতকাল বিকালে জানিয়েছেন- সিলেট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হতে তাহসিনা রুশদীর লুনা মনোনয়নপত্র কিনেছেন। লুনার পক্ষে এ আসনের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা একাট্টা রয়েছে।

সিলেট-১ আসনে বিএনপি’র পুরাতন মুখ সাবেক এমপি আলহাজ শফি আহমদ চৌধুরী এখনো নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। শফি আহমদ চৌধুরী এবারো ধানের শীষের প্রতীকের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন করে এ আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এবার প্রার্থী হতে চাইছেন সিলেট বিএনপি’র শীর্ষ নেতা এমএ হক। তিনিও দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। এমএ হকের পক্ষ থেকে আজ-কালের মধ্যে মনোনয়ন কেনা হবে বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।

এছাড়া অনেক আগে থেকে সিলেট-৩ আসন থেকে প্রার্থী হতে মুখিয়ে রয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার এমএ সালাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত এই আইনজীবী লন্ডনে বসবাস করলেও এলাকায় তার সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে। দলের দুর্দিনে ত্যাগী নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনিও বিএনপি’র মনোনয়ন ক্রয় করবেন। সাইফুর রহমানের আমল থেকে এ আসনে কাজ করছেন যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। এলাকায় তার আলাদা একটি বলয় রয়েছে। সাইফুরের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকার মানুষের কাছে পরিচিতি পান। প্রতি সপ্তাহেই ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালান কাইয়ূম চৌধুরী। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করবেন। শফি আহমদ চৌধুরী সাবেক এমপি হওয়ার কারণে এবারো তার মনোনয়ন প্রাপ্তি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে- নতুন প্রার্থী দেয়া হলে এমএ হক ও ব্যারিস্টার সালামের মধ্য যে কেউ চমক দেখাতে পারেন এ আসনে।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপি’র সাবেক এমপি ছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম। সেলিম ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও মাঠ ছাড়েননি। অসুস্থতা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক চান। আজ তিনি দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করবেন বলে জানা গেছে। দিলদার সেলিম ছাড়াও এ আসনে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। জামানের পক্ষে দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ক্রয় করা হয়েছে। দল থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া এ আসনে গোয়াইনঘাটের উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হেকিম চৌধুরীও বিএনপি’র মনোনয়ন চান। হাইকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট কামরুজ্জামান সেলিমও এ আসনের মনোনয়নের জন্য লবিং চালাচ্ছেন।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপি’র পরিচিত মুখ ছিলেন হারিছ চৌধুরী। তিনি ২০০৮ সালে এ আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মামলার বেড়াজালে পড়ে দেশছাড়া রয়েছেন। কোথায় আছেন- কেউ জানেন না। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সংকট রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। তবে- আসনে জেলা যুবদলের শীর্ষ নেতা মামুনুর রশীদ ও কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আশিক উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হতে লবিং চালাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থী দিলে এই দুইজনের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে প্রাথী করা হবে।

সিলেট-৬ আসনে এবার বিএনপিতে নতুন মুখ আসছে এটা প্রায় নিশ্চিত। এ আসনে বিএনপি’র সাবেক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া। তিনি এবার প্রার্থী নাও হতে পারেন। এ কারণে এ আসনে বিএনপি’র একাধিক নেতা মাঠে রয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহ্‌হের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ও শিল্পপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। এ আসনে আরেক প্রার্থী ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরী। তিনি নির্বাচন করবেন বলে ইতিমধ্যে দলীয় নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে এই আসনে এবার বিএনপি’র নতুন মুখ আসতে পারে। আর এই আসনটি শরিকদের সঙ্গে ভাগাভাগিরও কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করতে এ আসনের নেতারা ইতিমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আবুল কাহ্‌হের শামীম ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মধ্যে যে কেউ এ আসনে ধানের শীষের কা্ন্‌ডারী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিজ আসন থেকেই প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী ৩৪,৬৭১ স্থানীয় পর্যবেক্ষক

উচ্চ আদালতে হাজারো জামিনপ্রার্থী, দুর্ভোগ

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে

হাইকোর্টেও বিভক্ত আদেশ

সব দলকে অবাধ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি

নোয়াখালীতে গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত

ভুলের খেসারত দিলো বাংলাদেশ

চার দলের প্রধান লড়ছেন যে আসনে

কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু আজ

দেশজুড়ে ধরপাকড়

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিন জনের হাতে

আবারো বন্ধ হলো ৫৪টি নিউজ পোর্টাল

নারী প্রার্থীদের অঙ্গীকার