নি র্বা চ নী হা ল চা ল, নোয়াখালী ১

ভোটের হাওয়া ভোটারের চাওয়া

শেষের পাতা

মামুন হোসেন, চাটখিল (নোয়াখালী) থেকে | ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৬
চাটখিল ও সোনাইমুড়ি দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-১ আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এ আসনের অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড, পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে অলিগলি, বাজার, শহর ও গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত, ১৯৭৯ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন আবুল কালাম আজাদ, ১৯৮৬ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নৌকা নিয়ে নির্বাচিত হন, ১৯৮৮ সালে সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি’র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন কামরান নির্বাচিত হন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন, ২০০৮ সালে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন ও ২০১৪ সালে বর্তমান এমপি এইচএম ইব্রাহিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রাথী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনায়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন, বর্তমান এমপি এইচএম ইব্রাহিম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, খন্দকার রুহুল আমিন ও সালেহ আহমেদ চৌধুরী। বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন, সালাউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া জাসদের মশাল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা হারুন রশিদ সুমন।


বর্তমান এমপি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এইচএম, ইব্রাহিম দীর্ঘ দিন থেকে চাটখিল সোনাইমুড়ী এলাকায় দলীয় রাজনীতিকে টিকিয়ে রেখেছেন। এইচএম ইব্রাহিম তিনি তার মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ওয়াহাব তৈয়েবা ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে গরীব নিরীহ লোকদের সাহায্য-সহযোগিতা, চিকিৎসা প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করে আসছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে তার নির্দেশনা মতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের শাসনামলে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন ৮০% কাজ শেষ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন ৯৫%, মাদরাসা শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন ৯০% কাজ শেষ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য খাতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কার করে গ্রামীণ জনগণের দৌড় গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, যোগাযোগের ক্ষেত্রে চাটখিল সোনাইমুড়ী এলাকায় ইউনিয়ন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ৬৫% কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে, বাকি ৩৫% কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। গত ৪ বছর মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় এবং বাজারগুলোতে সোলার বিদ্যুৎতায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য চাটখিলে ১টি আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং একটি টেকনিক্যাল স্কুল নির্মাণ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান। আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন বলে জানান। এইচএম ইব্রাহিম আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকার পক্ষে কেন্দ্রভিত্তিক উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি নৌকাকে জয়ী করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২১৪টি নতুন রাস্তা নির্মাণ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও এলজিইডি কর্তৃক ৩০টি ব্রিজ কালভার্ট নির্মান, ২৬টি স্কুল মাদরাসার নতুন ভবন নির্মাণ, ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ করেছেন। এ ছাড়া চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকায় গরিব ও অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য ১০৬০ বান ঢেউটিন, ১২০টি রিকশাা এবং ১৩০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া চাটখিল পৌরসভায় ৫০ কোটি টাকার ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট বরাদ্দ করে দিয়েছেন এবং পৌরসভা উন্নয়নের জন্য ৪৭ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রজেক্ট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করার অনুমতি দেন তাহলে আমি এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবো।

আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, দল থেকে মনোনয়ন ফেলে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করবেন। গোলাম কুদ্দুছ দীর্ঘদিন থেকে চাটখিল ও সোনাইমুড়ী এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন, খন্দকার রুহুল আমিন। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। খন্দকার রুহুল আমিন, দলের পরীক্ষিত নেতা। তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলার রণাঙ্গনের সব মুক্তিযোদ্ধা ও দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দলীয় অবস্থান সু’দৃঢ় করেছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি একজন প্রার্থী হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ আসনের বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পাঁচবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে চাটখিল ও সোনাইমুড়ীতে বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করে দলীয় কর্মকাণ্ডকে বেগবান করেছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, চাটখিল-সোনাইমুড়ী বিএনপির ঘাঁটি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন। তিনি জানান, চাটখিল উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া সব ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়েও তাদের কমিটি রয়েছে। তিনি জানান, তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন। আনোয়ার হোসেন জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিএনপির নেতারা মনে করেন আগামী নির্বাচনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হবেন।
জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন, জেলা জাতীয় পাটি সভাপতি, এসএটিভি ও এসএ পরিবহনের মালিক সালাউদ্দিন আহম্মদ। জাতীয় পার্টির চাটখিল উপজেলা নেতা নুরুল আমিন, কামাল হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ জানান, ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু জাতীয় পার্টির তৎকালীন প্রার্থী হারুন অর রশিদ বাশার তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় নোয়াখালী-১ আসনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এইচএম ইব্রাহিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনটি মহাজোটের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হবে। নেতারা জানান, এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন আহম্মদকে মনোনায়ন দেয়া হবে। সালাউদ্দিন আহমদ বিভিন্ন সময়ে নোয়াখালী-১ আসনের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন।
বর্তমান সরকারের শরিক জাসদের প্রার্থী হচ্ছেন, কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা প্রকৌশলী হারুন রশিদ সুমন। স্থানীয় জাসদ নেতারা জানান, জোটগতভাবে ভোট হলে এ আসন থেকে জোটের প্রার্থীর পক্ষে তারা কাজ করবেন। আর যদি জাসদ আলাদাভাবে মশাল প্রতীক নিয়ে ভোট করে, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মতে নেতাকর্মীরা কাজ করবে। এদিকে ভোটারদের চাওয়া একাদশ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হোক। অংশ নিক সব দল। এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘লেভেল প্লেইংয়ের বিষয়টা এখন পুরোপুরি ইসির ওপর’

দুই বোনের এক প্রেমিক ও...

গণফোরামে রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে লড়বেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

‘জামাতা জড়িত, ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় চালকের সঙ্গে’

২ খেমাররুজ নেতা দোষী সাব্যস্ত

ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে পদত্যাগের চাপ

ভারতে নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ময়

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়িবহরে হামলা, নিন্দা

‘ভোট লুট হোক, চায় না ভারত’

যেভাবে সম্পন্ন হবে ব্রেক্সিট

তেরেসা মে’র ৫ কান্ডারি

সিএমএইচে এরশাদ

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত জাতিসংঘে

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট, জানালেন জাফরুল্লাহ

প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছিল- সিআইএ

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি কতিপয় সুপারিশ