বিআরটিএ’র কারসাজি

নতুন নম্বরে রাস্তায় নামছে পুরনো অটোরিকশা

শেষের পাতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৬
দুর্ঘটনা কমাতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা তুলে দেয়ার মতো মহৎ উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ প্রক্রিয়ায় পুরনো কিছু সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংসও করেছে বিআরটিএ। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগের মধ্যেও ব্যাপক কারসাজি চলছে। যেখানে রয়েছে প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা।
টাকার বিনিময়ে পুরনো সিএনজি অটোরিকশাগুলো খোলস পাল্টে নতুন নাম্বারে নিয়ে নামছে চট্টগ্রাম মহানগরীর রাস্তায়। এ কাজে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় ধরনের সংঘবদ্ধ দালাল ও ডিলার চক্র।

এ চক্রের কিছু সদস্য হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয়ে অবস্থান করে। কিছু সদস্য সিএনজি অটোরিকশা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ডিলার পরিচয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় দোকান খুলে বসে আছে।

সিএনজি অটোরিকশা বেচকেনার হাট হিসেবে পরিচিত বহদ্দারহাট আরাকান সড়কের বাঁদুরতলায় শুক্রবার বিকেলে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটহাজারীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে সক্রিয় দালাল, ডিলার এবং বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নতুন নাম্বারে পুরনো সিএনজি অটোরিকশা রাস্তায় নামানোর কারসাজির তথ্য উঠে আসে।

বিআরটিএ কর্মকর্তা মেহেদী ইকবাল জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে সড়কের আয়তনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা দশগুণ বেশি। এরমধ্যে নিবন্ধনকৃত সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ১৩ হাজার। যা ১১ ও ১২ সিরিয়ালের। এরপরও নগরীতে ১২ সিরিয়ালের অনিবন্ধনকৃত সিএনজি অটোরিকশা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলাচল করছে। যার কোনো হিসাব নেই বিআরটিএতে। ২০১২ সালের পর বিআরটিএ নগরীতে আর কোনো সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন দেয়নি।

তিনি জানান, ১৫ বছর চলাচলের পর সিএনজি অটোরিকশা মেয়াদোত্তীর্ণ ধরা হয়। সে হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০০২ সালে নিবন্ধনকৃত ২ হাজার ৮৭০টি অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফ শেষ হয়। ২০১৯ সালে নগরীতে চলাচলরত সব অটোরিকশারই ইকোনমিক লাইফ শেষ হবে। ফলে দুর্ঘটনা কমাতে এসব অটোরিকশা রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়া হয়।
এ প্রক্রিয়ায় আওতায় গত ১৩ই সেপ্টেম্বর একদিনে ৪৫৯টি মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা ধ্বংস করা হয়। এ প্রক্রিয়া এখনো চলছে। যেগুলোর বিনিময়ে নতুন নাম্বারে সিএনজি অটোরিকশা নামছে শহরের রাস্তায়। ফলে নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ অটোরিকশা থাকবে না। কমবে দুর্ঘটনা।
কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা বলছেন-পুরনো অটোরিকশা ধ্বংসের বিনিময়ে তাদের ১২ সিরিয়ালের নতুন একটি নাম্বার দিয়ে একটি ডকুমেন্ট হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেটি নিয়ে নগরীর আরাকান সড়কের বাঁদুরতলায় সিএনজি অটোরিকশা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলা হচ্ছে।

যোগাযোগের পর ডিলাররা ওই ডকুমেন্ট সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কিনে নেয়ার কথা বলছে। কিন্তু কোনো নগদ টাকা দেয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিলে নতুন নাম্বারে নতুন সিএনজি অটোরিকশা কেনা যাবে। কিন্তু বাজারে বাজাজের স্টিকার লাগানো একটি সিএনজি অটোরিকশা ৪ লাখ ১০ হাজার টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বিআরটিএ থেকে এই অটোরিকশার ডকুমেন্ট করতে আরো ৬ লাখ টাকা লাগবে। এটা বিআরটিএ’র বড় ধরনের কারসাজি।

অন্যদিকে বিআরটিএ পুরনো সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংসের কথা বললেও তা করছে না। লোক দেখানো কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংস করলেও বাকিগুলো ডিলারের হাতে চলে যাচ্ছে সুকৌশলে, রিপিয়ারিংয়ের মাধ্যমে খোলস পাল্টে নতুন নাম্বারে বিক্রয় হচ্ছে ওই অটোরিকশা। যার দাম পড়ছে ১০ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যেখান থেকে বিআরটিএ ও সংঘবদ্ধ চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে সাড়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি।

বিআরটিএ’র কারসাজির কথা স্বীকার করেছেন নগরীর আরাকান সড়কের বাঁদুরতলায় বাজাজ মোটরস লিমিটেডের অনুমোদিত ডিলার ইসলাম মোটরসের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বিআরটিএ পুরনো সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংস করার কথা বলে সুকৌশলে নতুন নাম্বার ধরিয়ে দিচ্ছে মালিকদের। যা ডিলারদের সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কিনে নেয়ার কথা বললেও মালিকদের কাছ থেকে আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে রিপিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নতুন নাম্বার লাগিয়ে ওই অটোরিকশা দেয়া হচ্ছে।

উত্তরা মোটরসের অনুমোদিত ডিলার জহির এন্ড ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী পিএম কুতুব উদ্দিন বলেন, বাজারে নতুন একটি সিএনজির দাম ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুরাতন ১১, ১২ সিরিয়ালের মেট্রো নম্বরের দাম ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ দাম প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।
কেন বাড়ছে জানতে চাইলে কুতুব উদ্দিন বলেন, মহানগর (মেট্রো) সিরিয়াল অনুমোদন নেই এখন। তাই এই টাকার মাধ্যমে মিলবে মেট্রোর নতুন নম্বরপ্লেট। কাজ করবে বিআরটিসি। টাকাও নেবে ওনারা। আমি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজটা করে দেবো।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্টো-১ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, তিন দফা পিছানোর পর আমরা পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংসের কাজে হাত দিতে পেরেছি। এ কাজে কোনো কারসাজি নেই। প্রক্রিয়া মতেই কাজ চলছে। পুরনো সিএনজি ধ্বংসের বিনিময়ে নতুন নাম্বার রিপ্লেস দেয়া হচ্ছে। সাড়ে ৫ লাখ টাকায় নতুন সিএনজি অটোরিকশা দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু ডিলাররা তো টাকা দিচ্ছে না। অতিরিক্ত ৪ লাখ টাকা নিয়ে অটোরিকশা বিক্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। নতুন অটোরিকশা নিবন্ধনে বিআরটিএ সাড়ে ৬ লাখ নেয়ার বিষয়েও তিনি জানেন না বলে জানান।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গণভবনে এরশাদ-বি. চৌধুরী

এবারের নির্বাচনে বিশেষ কোনো দলের প্রতি সমর্থন নেই ভারতের

প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

আমাদের নির্বাচনের দিনটি চুরি-ডাকাতির দিন হয়ে গেছে

সচিব, ডিএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

রফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রেপ্তার

এতোগুলি মানুষের স্বাধীনতাকে ভালোবাসাই আশার জায়গা

ইশতেহারে ডিজিটাল আইন সংশোধনের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

নির্বাচন সামনে রেখে পর্যবেক্ষণে বিনিয়োগকারীরা

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শপথ

সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে পারেন সামাদ আজাদপুত্র ডন

দশ মাসে ৪৩৭ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

‘আমি বেশি দিন রাজনীতি করমু না’ -শামীম ওসমান

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘুরে গেলেন মিলার