চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

অনলাইন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ১১:৫৩
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ঘোষিত কমিটি নিয়ে সংঘাতের সময় প্রতিপক্ষের দিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা ছাত্রলীগের সেই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহ¯পতিবার রাত ৮টার পর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার রাজাপুর লেইন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম মুহাম্মদ সাব্বির সাদেক।  
তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান।
কামরুজ্জামান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চট্টগ্রাম কলেজের সামনের সড়ক। সংঘর্ষে যোগ দেয় বিপুল সংখ্যক বহিরাগত তরুণ। তাদের কারও কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা ও কিরিচ দেখা যায়।
বেলা পৌনে ১টার দিকে গণি বেকারি মোড়ে কাপড়ে মুখ ঢাকা ১৫ থেকে ২০ জন বহিরাগত যুবক অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় সাদা শার্ট পরিহিত ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাব্বির সাদিককে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়।
যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশের নজরে আসে। এরপর তাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তার অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংঘর্ষে অস্ত্রধারী সকলকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অস্ত্রধারী যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।   
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। কমিটিতে মাহমুদুল করিমকে সভাপতি এবং সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
মাহমুদুল প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী এবং সবুজ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী। এর প্রতিবাদে মেয়রের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার ও বুধবার দুইদিন ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ত্রিমুখী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছিল। ছাত্র শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হওয়া ছাত্রলীগের প্রায় তিন দশক ধরে কোনো কর্মকাণ্ডই ছিল না ওই কলেজে।
২০১৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ ক্যাম্পাস দখলে নেয়। এরপর থেকে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলে আসছিল। এরমধ্যেও প্রায় সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্রলীগের বিবদমান তিনটি গ্রুপ। সোমবার কমিটি ঘোষণার পর তা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চট্টগ্রাম কলেজ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৯-২১ ০০:১৪:১৮

সরকারী অঙ্গ দলের নেতা জানি হয়ত তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অস্ত্রটা কি উদ্ধার ও জব্দ করা হবে ?

আপনার মতামত দিন

হাইকোর্টের আদেশের পর ধানের শীষ পেলেন ৩ প্রার্থী

১০ বছরে দ্রুত বেড়েছে ধনী-গরিব বৈষম্য

ধ্রুপদী লড়াই

ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ

বিএনপিতে নতুন মুখের জয়জয়কার

উন্মুক্ত আসনের রাজনীতির নেপথ্যে কী?

মহাজোটে পুরনো আর অভিজ্ঞদের প্রাধান্য

প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার রিট

ব্যাংক লুটেরাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি টিআইবির

পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠা, ব্যাংক লুট বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বিব্রত ইসি

যে ব্যাখ্যা দিলেন কামাল মজুমদার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশিদের ভ্রমণ বন্ধ!

ঝিনাইদহে বিএনপি প্রার্থী মজিদের কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর, আহত ১৫

মর্যাদার আসনে লড়াইয়ে মোমেন-মুক্তাদির

পাকিস্তান দূতাবাসে ফখরুলদের বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস- আওয়ামী লীগ