দেশে আর কত দিন ভোট লইয়া মারামারি হইব?

এক্সক্লুসিভ

ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪০
দেশে আর কত দিন ভোট লইয়া মারামারি হইব। এবার নৌকা আর ধানছড়ার ভোট অইবনি। এমন প্রশ্ন আর কৌতূহল মৌলভীবাজার জেলার চা শ্রমিক, কৃষিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষসহ সবার। হাটে ঘাটে মাঠে স্থান পাচ্ছে নির্বাচনী আলোচনা। তর্ক বিতর্ক আর যুক্তি গল্পও হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। লোক সমাগমের স্থানগুলোতে দীর্ঘদিন পর ধীরে ধীরে সরব হচ্ছে এমন আলোচনা। আলোচনায় উঠে আসছে দেশের চলমান রাজনীতি, গণতন্ত্র, ভোট ও উন্নয়ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শহরের মানুষের মতো গ্রামের মানুষেরও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই, নির্বাচন হবে কি না।
বিএনপি তার শরিক দল ও ১৪ দলীয় জোটের বাইরে থাকা অন্য সংগঠনগুলো নির্বাচনে যাবে কি না। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো আবারো দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় কি না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও সময় ঘনিয়ে আসায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী তৎপরতা। ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সরব হচ্ছেন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটার। কিন্তু কিছুতেই নির্বাচন নিয়ে অভয় পাচ্ছেন না তৃণমূলের কৃষিজীবী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলাপে এমনটিই আভাস দিচ্ছেন তারা। গণতন্ত্র রক্ষায় তারা সবাই অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও সবদলের অংশগ্রহণের নির্বাচন চান। কিন্তু তা আদৌ হবে কি হবে না- এমন সন্দেহ আর কৌতূহল তাদের। আর কত দিন ভোট লইয়া মারামারি হইব? দেশে কি নৌকা আর ধান ছড়ার ভোট আইবো না। বাবুজি ভোট না আইলে বুজি দেশে শান্তি আইবো না। সম্প্রতি কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক দেখতে গেলে সাংবাদিকদের কাছে কয়েকজন চা শ্রমিকের প্রশ্ন ছিল এমন। তাদের মতো একই প্রশ্ন লুহাইউনি, হলিছড়া, সিরাজনগর, দিলখোশ ও প্রেমনগরসহ জেলার ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকদের। কুলাউড়া মৌলভীবাজার সড়কে সিএনজি চালক কাইয়ুম মিয়া, সালাম মিয়া, জেলা শহরের রিকশা চালক তফুর আলী, শফিক ও বাদল মিয়া, কমলগঞ্জ এলাকার কৃষক মাসুক মিয়া, শরিফ আহমদ, নমই মিয়া, জুড়ী এলাকার সমই মালাকার, মুসলিম মিয়া, আনর আলী, কুলাউড়ার মুদি দোকানি আলফু মিয়া, সুজাত রহমান, সবজি দোকানি উত্তম দেব, করিম মিয়া ও বাজিদ আলী, চা দোকানি লিমন খন্দকার ও আরজদ আলী জানালেন একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কারণ হিসেবে জানালেন সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে দেশে মারামারি হয়। হরতাল ধর্মঘট হয়। আয় রোজগার কমে যায়। ভয়-ভীতি বাড়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে তখন সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে ওঠে। প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার প্রবাসীরাও এমন পরিস্থিতিতে দেশে আসতে চান না। এমনকি টাকা পয়সাও পাঠান না। তারা দেশে না আসাতে ও টাকা পয়সা না পাঠানোতে ব্যবসা-বাণিজ্যের চরম ক্ষতি হয়। ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। তারা বললেন, হ্যাঁ এখন ক্ষেতের জমি, গ্রামের মোড়ের চায়ের দোকান আর হাট-বাজারে বলতে গেলে গেল কয়েকদিন থেকে সব জায়গায়ই মানুষ নির্বাচন নিয়ে আলাপ করছেন। তবে এই আলাপে নির্বাচনী উৎসব কিংবা আমেজের চাইতে এই ভয়ভীতির কথা গুলোই আলোচনা হচ্ছে বেশি। তারা জানালেন নির্বাচনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। চোখে পড়ার মতো স্থানে দলীয় প্রধান, নিজেদের ছবি ও দলীয় প্রতীক সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন টানাচ্ছেন। কিন্তু এসব দেখেও ঢালাও ভাবে মানুষ নির্বাচন নিয়ে সেরকম সরব হচ্ছে না অজানা শঙ্কায়। তাদের মতো এ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও নানা শ্রেণি-পেশার খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা জানান। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন উৎসবের কারণ হলেও আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে নির্বাচন ও ভোট নিয়ে চলমান এ সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। তাই ভোটের খবর এলেই যেন অজানা শঙ্কায় ভর করে। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনের কথা স্মরণ করে বলেন সে সময়ে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছিল প্রতিটি খাতে। হরতাল অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যা, হামলা মামলায় আর পুলিশি ধরপাকড় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সারা দেশের মতো চা ও রাবার শিল্পের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের এ শিল্পগুলোতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। চা পাতা ও রাবার সময়মতো ঢাকা ও চট্টগ্রামে না পাঠাতে পারায় অধিকাংশ বাগানের কাঁচা মাল নষ্ট হয়েছে। সে সময় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন মালিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা বাগান ম্যানেজার বললেন চা শ্রমিকরা নির্বাচন না হলে যে দেশে শান্তি আসবে না আর চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাও কমবে না এটা বুঝতে পেরেই তারা নির্বাচনের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কারণ ২০১৪ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হরতাল অবরোধের কারণেই তাদের আদি পেশার এ শিল্পটি প্রতিদিনই ক্ষতির শিকার হয়েছিল। সবার মতো তাদেরও ধারণা সবদলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন না হলে দেশে বয়ে চলা অশান্তি দূর হবে না। তিনি জানালেন বাগান এলাকাসহ গ্রামের কৃষিজীবী লোকজন সবসময়ই শান্তিপ্রিয়। নির্বাচন নিয়ে হানাহানি কেউই পছন্দ করে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও জনগণের কল্যাণে সকলের অংশগ্রহণে ভোটের মাধ্যমে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাধান চায় গ্রামীণ এ জনপদের কৃষিজীবী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের সকল নাগরিকের মতো প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার বাসিন্দাদেরও এটাই চাওয়া।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে হারলো বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

কসবায় ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলযোগাযোগ

পরাজয়ের বৃত্তে বাংলাদেশ

শোকে মাতমে তাজিয়া মিছিল

নাঙ্গলকোটে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়ে চারজন নিহত

বইটি তিনি এসময় প্রকাশ না করলেও পারতেন

দেশবাসীর প্রতি অঙ্গীকার ঘোষণা আসছে শনিবারের সমাবেশে

‘বঙ্গভবনে পৌছে দেখলাম...’

‘ভুয়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশে ইন্ধন দিচ্ছে সরকারী এজেন্সিগুলো’

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ বেআইনি : ফখরুল

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার

‘শুরু থেকেই চাপ ছিল, আমি যেন বলি অসুস্থ’

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার