ঢাকায় আঞ্চলিক সেমিনার

চীনের উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নিছক কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নয়। এটি বাংলাদেশসহ গোটা এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় সুযোগ। বাংলাদেশকে তার জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে এ উদ্যোগ থেকে সর্বোতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এখনই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক এবং সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। এর আওতায় কেবল বাংলাদেশেই ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, গবেষক ও বিশ্লেষকদের নিয়ে দু’দিনব্যাপী আয়োজিত আঞ্চলিক সেমিনারের উদ্বোধনী দিনে এমন অভিমতই ব্যক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ (বিপস) ওই এশিয়ান রিজিওনাল কনফারেন্সের আয়োজন করে। হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ: প্রসপেক্ট অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই সেমিনারে অংশগ্রহণকারী এশিয়ার বিভিন্ন দেশের স্কলাররা দিনভর বিআরআই’র সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। সমাপনীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের আলোচনার বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন বিশ্লেষক স্কলাররা।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বিপস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান (অব.)। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন- এখানে বিভিন্ন দেশের বিশ্লেষকরা বিআরআই নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেছেন। অনেকে তার নিজের দেশের অভিজ্ঞতা আলোচনায় বিশ্লেষণ করেছেন। যেমন শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হয়েছে। চীনের প্রতিনিধিরা তাদের প্রেক্ষিত বর্ণনা করেছেন। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে বাংলাদেশ কীভাবে এ মেগা উদ্যোগ থেকে অধিকমাত্রায় লাভবান হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন আসে- বাংলাদেশের জন্য কী কী এবং কোন্‌ চ্যালেঞ্জ তারা চিহ্নিত করেছেন? জবাব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর লাইলুফার ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, মোটা দাগে দুটি চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, ওই উদ্যোগের সঙ্গে ভারত এখনো যুক্ত হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা হচ্ছে এশিয়ার দুই বড় শক্তি চীন ও ভারতের সঙ্গে ঢাকা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলে। চীনের প্রেসিডেন্টের নেয়া মেগা ওই উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশকে অধিকতর লাভবান হওয়ার পথেও ভারতের সঙ্গে একটি সুন্দর সম্পর্ক রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকাইয়া কূটনীতির জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ওই অবস্থান ধরে রাখাটা খানিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তবে আমরা আশাবাদী আমাদের নেতৃত্ব বিশেষ করে বিদেশ নীতি বাস্তবায়নে যুক্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সেটা করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় যেসব মেগা প্রকল্প গৃহীত হবে তা যেন সুদূরপ্রসারী হয় এবং বাস্তবায়ন যেন কার্যকর ও গতিময় হয়। বাংলাদেশের  এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণেও প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছে। প্রশ্ন ছিল অর্থনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য বেইজিং একটি পৃথক প্ল্যাটফরম তৈরিতে আগ্রহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট-টিকফার আদলেই চীন বেল্ট অ্যান্ড রোডের আওতায় এমন প্ল্যাটফরম চায় বলে জানিয়েছেন ঢাকার কূটনীতিকরা।

এটি কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন সেমিনারে অংশ নেয়া চীনের বিশ্লেষকরা। জবাবে চীনের ফুডান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন আমেরিকান সেন্টারের প্রফেসর জ্যাং জিয়াডং বলেন- বিআরআই উদ্যোগটি এতটাই বিস্তৃত যে, এর অধীনে অনেক কিছু হবে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত পৃথক প্ল্যাটফরম ছাড়াও আঞ্চলিক প্ল্যাটফরমও হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে একটি বিষয় আসে বেশ জোরালোভাবে তা হলো- মেগা এ উদ্যোগ প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত ভারতের অবস্থান কি হবে? জবাবে একাধিক স্কলার বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান।

তবে দোখলামসহ স্ট্যাটেজিক বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে যা নিয়ে দুই শক্তির মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক এবং ‘ইগোইস্টিক’ দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের কার্যক্রম নিয়ে দিল্লির কোনো অবজারভেশন বা রিজারভেশন নেই। যা আছে তা হলো এর উদ্দেশ্যের বিষয়ে ভারতের নেতৃত্ব সন্দিহান। সেই সন্দেহ যেদিন দূরীভূত হবে দিল্লির কাছে, তখন ভারতও এতে কোনো কোনো ফর্মে যুক্ত হবে বলে আশাবাদী এশিয়ান বিশেষজ্ঞরা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তারা কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন?

সিনহার বই নিয়ে বাহাস

কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রথম দিককার চিঠি

নিউ ইয়র্কে দুটি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র আশুরা আজ

তারুণ্যের ব্যর্থতায় লজ্জার হার

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে

মানবাধিকার ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দুই সংস্থার উদ্বেগ

বাম জোটের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অর্ধশত

বিলে স্বাক্ষর না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সাংবাদিক নেতাদের আহ্বান

১০ কার্যদিবসের সংসদ অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস

এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

জনগণের বিরুদ্ধে নয়, কল্যাণে আইন করতে হবে

ইতিহাস বদলাতে চায় বাংলাদেশ

গুজব শনাক্তকারী সেল কাজ করবে অক্টোবর থেকে

মেলবোর্নে সন্ত্রাসের অভিযোগ স্বীকার করলো বাংলাদেশের সোমা