আওয়ামী লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০০
অশ্লীল বাক্যবাণসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি সরাসরি হুমকি দিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পোড়াহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরণের একটি বক্তৃতার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদ নামে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের ফেসবুক টাইম লাইনে ভিডিও এবং সমাবেশের বেশ কয়েকটি ছবি আপলোড করা হয় সোমবার রাতে।

৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি আপলোড করার পর থেকে লাইক, কমেন্টস ও শেয়ারের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। উপজেলা সদরের গোয়ালপাড়া বাজারের এক পথসভায় পদ্মাকর, দোগাছী ও হরিশংকরপুর ইউনিয়নসহ সদরের পূর্বাঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের সরাসরি হুমকি দিয়েই বক্তব্যটি দেন। তাদের সারেন্ডারের জন্য সময় বেঁধে দেন সাতদিন। বিএনপিকে শেল্টার দিলে আওয়ামী লীগ নেতাদেরও একই পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে শহিদুল ইসলাম হিরণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যদি আপনাদের রাজনীতি করতে হয়- রাজনীতির ধারায় রাজনীতি করতে হবে। থানা আওয়ামী লীগ, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজনীতি করতে হবে।
আপনাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজনীতি করতে হবে। ইউনিয়ন, থানা ও জেলা আওয়ামী লীগের বাইরে রাজনীতি করে এখানে যদি আপনারা মনে করেন, আমরাও একটা আওয়ামী লীগের মিছিল করে দেবো, তাহলে ... (অশ্রাব্য) চামড়া খুলে দিবো। সেদিন আপনারা কিন্তু একটা মিটিং করতে চেয়েছিলেন। আমরা সে মিটিং করতে দেইনি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আপনাদের মিটিং করতে হবে।

আওয়ামী লীগের পতাকাতলেই মিটিং করতে হবে। ইউনিয়ন, থানা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আপনাদের মিটিং করতে হবে। কে কি বললো, ওই ঝিনেদা বসে; তার কথায় যদি আপনারা এখানে মিছিল করেন, মিছিলের প্রতিবাদ হবে। ... (অশ্রাব্য) চামড়া খুলে দেবো। হ্যান্ডকাপ পরাইয়ে থানায় নিয়ে যাবো। নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা শুনলাম- কালকে নাকি মিষ্টি খেয়েছে। আরে তোমরা মিষ্টি খেয়েছো, আমরা কি... (অশ্রাব্য)। আমরা আওয়ামী লীগ করি না? তোমরা আওয়ামী লীগ করে কার কারণে মিষ্টি খেয়েছো? মিষ্টি কিন্তু হজম হবে না। পরিষ্কার কথা বলে দিচ্ছি। হিরণ বলেন, আমরা কিন্তু আওয়ামী লীগ করি, আওয়ামী লীগের থানা কমিটির নেতা আমি। পরিষ্কার কথা বলতেছি- যার নমিনেশন হোক, শহিদুল ইসলাম হিরণের কাছে, আমরা যারা দাঁড়িয়ে আছি; আমাদের কাছে এসেই নির্বাচন করতে হবে। তাছাড়া নির্বাচন হবে না। পরিষ্কার ভাষায় বলতেছি, ওই মিষ্টি খেয়ে কোনো লাভ নেই।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হুমকি দিয়ে শহীদুল ইসলাম হিরণ বলেন, কয়েকটি কথা বলতেছি- বিএনপির ভাইয়েরা, গৌহাটির বিএনপির ভাইয়েরা লাইন দিয়ে বাসায় এসেছে। ঘোড়ামারার কিছু বিএনপি আছে, তোমাদের বলে দিলাম- পরিষ্কার ভাষায় বলে দিলাম, সাতদিন তোমাদের টাইম। সারেন্ডার না করলে... (অশ্রাব্য) দিয়ে পুলিশের কাছে ধরে দিবো। পরিষ্কার ভাষায় বলছি। কাল গোপালপুর বাজারের মিটিং হওয়ার পরে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক এক এক ইউনিয়নের বিএনপিকে পিটাইতে হবে। সঙ্গে থাকবে প্রশাসন।

পুলিশ প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ভাইয়েরা শুনে নিন- গোপালপুরের মিটিংয়ের পরে বিএনপি... (অশ্রাব্য) হবে। আমাদের নেতা যারা আছে, তারা যে নির্দেশ দেবে, সেই নির্দেশ যদি না শোনেন; ঝিনেদায় আপনারা চাকরি করতে পারবেন না। পরিষ্কার ভাষায় আমি হিরণ চেয়ারম্যান, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে দিলাম। এখানে আওয়ামী লীগ থাকবে, আওয়ামী লীগের নির্দেশেই আপনাদের কাজ করতে হবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো বিএনপি, কোনো ইউনিয়নে, এই বাজারে আর ঘোরাফেরা করতে পারবে না। আমরা অচিরেই এ বাজারে যারা বিএনপি করে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের ঘরে তালা মেরে দেবো। পুলিশ লাগবে না। যদি মোকাবিলা করতে চান, মোকাবিলা আপনারা করবেন আমরা প্রস্তুত আছি। পরিষ্কার কথা বলতেছি, বিএনপি যারা করেন সারেন্ডার করেন কিন্তু, এরপরে কিন্তু সময় ও সুযোগ কিন্তু আর পাবেন না। ... (অশ্রাব্য) হারাবেন, ... (অশ্রাব্য) রক্তও বেরিয়ে যাবে। ঠ্যাংও ভেঙে যাবে। পরিষ্কার কথা বলতেছি।

নিজ দল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আর যেসব আওয়ামী লীগওয়ালা বিএনপির শেল্টার দিচ্ছেন, আপনারা বিএনপির চর, জামায়াতের চর। আপনাদের... (অশ্রাব্য) চামড়া খুলে নেয়া হবে। এই রকম মিছিল পদ্মকর বাজারে ইউনিয়ন কমিটি ও থানা কমিটির নিয়ন্ত্রণেই হতে হবে। এখানে আপনারা ঝিনেদা থেকে নেতা নিয়ে এসে মিটিং করবেন, করেন। একবার পারেননি, আবার করতে চাইলে ... (অশ্রাব্য) চামড়া খুলে নিবো কিন্তু কইলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে, আমরা আওয়ামী লীগ করি। আপনারা যদি আওয়ামী লীগ করেন, আমাদের কাতারে মিশে যান। আর যদি বিএনপির চর হিসেবে থাকেন, তাহলে ... (অশ্রাব্য) খাওয়ার জন্য বসে থাকেন।
তিনি বলেন, কালকে গোপালপুরের মিছিলে-মিটিংয়ে আপনারা প্রত্যেকেই যাবেন।

আওয়াজ জোরে তুলবেন। গায়ের রক্ত গরম করবেন। বিএনপির ... (অশ্রাব্য) খুলবেন। পুলিশ যদি বিএনপি মারার কারণে ধরে আমি হিরণ আপনাদের সঙ্গে জেলখানায় যাব। পরিষ্কার কথা, পশ্চিম অঞ্চলেও ঘোষণা দিচ্ছি জামায়াত মুক্ত, বিএনপি মুক্ত ইউনিয়ন সাধুহাটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফুলঝানিতে ঘোষণা করা হয়েছে। কালকে পদ্মাকর, হরিশংকরপুরেও আমরা ঘোষণা করবো। পরিষ্কার কথা, ঘোষণা করার পরেই বিএনপির চামড়া তুলে নেবো আমরা। এটাই হবে স্লোগান। স্লোগানেই হবে না, প্র্যাকটিক্যালি হবে, বিএনপির চামড়া তুলেই নিতে হবে। যারা আওয়ামী লীগ করেন, এটাই কিন্তু দলিল।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ফের হুমকি দিয়ে হিরণ বলেন, বিএনপির ভাইয়েরা আপনাদের প্রতি কিন্তু হুঁশিয়ার। রক্ষা এবার হবে না। সুযোগ নেই। আপনাদের ম্যাডাম জেলখানায়। যার কথায় আপনারা বসে আছেন, তারও এই মাসের মধ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে। অতএব আপনাদের ... (অশ্রাব্য) ফাটা বাঁশে বেঁধে গেছে। নইড়ে লাভ হবে না। নইড়ে কোন অবস্থায় লাভ হবে না। অতএব আপনারা সারেন্ডার করেন।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি যত নামধারী হন, যত পোস্টার আপনারা লাগান, তার শুদ্ধ ... (অশ্রাব্য) চামড়া তুলে দেবো। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি করতে হবে। এক নেতা, এক নেতার পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে কোনো কিছু হওয়া যাবে না। গোপালপুর কালকে মিটিংয়ে যাইয়েন। মিটিংয়ে ফার্স্ট থাকি, বক্তৃতায় ফার্স্ট থাকি। বক্তৃতা দেবো, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে। নইলে মধুপুর চৌরাস্তায় গিয়ে ... (অশ্রাব্য) চামড়া তুলে নেবো। পারবে না মানে, পারবে না কেন? আমি হিরণ মাঠে থাকবো, আমি হিরণ পদ্ধকরে যাব, আমি হিরণ হরিশংকরপুরে যাব। আমি দাঁড়িয়ে থাকবো। ঘরের থেকে বাইর করবো, চামড়া খুলে দেবো।

আপনারা যারা আওয়ামী লীগ করেন, আপনারা সরে যান। পরিষ্কার কথা বলছি। সরে না গেলে আপনাদের দশা কিন্তু সইতে হবে। কালকে গোপালপুরের জনসভায় যাবেন, জোরে আওয়াজ তুলবেন। আপনাদের দেখিয়ে দিতে হবে। বিএনপিকে মার দেবেন, সে দায়িত্ব আমার। পুলিশদের দায়িত্ব আমার। পুলিশ যদি থাকে, তারা শুনে যান, হিরণ চেয়ারম্যান এই কথা কইছে। মারলে কিছু হবে না। পুলিশ যদি কিছু কয় পুলিশের চাকরি থাকবে না। কালকে সবাই যাবেন, শান্ত থাকবেন। শান্ত মানে আমরা আমরা যেন কামড়াকামড়ি না করি।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৯-১২ ১৮:২৩:২৪

দেশে কি গৃহযুদ্ধের আলামত দেখা দিচ্ছে। চেলেঞ্জ দিলে মোকাবিলা করতে গেলেই তো গৃহযুদ্ধ হবে।

Hamid

২০১৮-০৯-১২ ১২:২৫:১০

এই সমস্ত লোক গায়ের জোরে কথা বলে । ওরা ডাকাতের বংশ । ওরা দেশপ্রেমি না । ওরাই লোক গুম আর খুন করে । ওদেরে রিমান্ডে নিলে সব বাহির হয়ে আসবে । পুলিশ যেনও তাদের নিজস্ব চাকর ।

আপনার মতামত দিন

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ইসির অনাপত্তি, মুহিতকে নিষেধ

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্ট্যাটাস কী হবে জানতে চান কূটনীতিকরা

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের উদ্বেগ

কারাগারে থেকে ভোটের প্রস্তুতি

শহিদুল আলমের জামিন

ধানের শীষে লড়বে ঐক্যফ্রন্ট

নিপুণ রায় চৌধুরী গ্রেপ্তার

আতঙ্ক উপেক্ষা করে পল্টনে ভিড়

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

কুলাউড়ায় সুলতান মনসুরের বিপরীতে কে?

ঢাকার প্রচেষ্টা ব্যর্থ

নির্বাচন পেছাবে না ইসির সিদ্ধান্ত

ঝিনাইদহে ৩৭৪ মামলায় আসামি ৪১ হাজার

বিএনপি আবার আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে

বড় জয়ে সিরিজে সমতা

উত্তেজনায় ফুটছে বৃটিশ রাজনীতি, চার মন্ত্রীর পদত্যাগ